এনবিএস ওয়েবডেস্ক প্রকাশিত: ২৬ নভেম্বর, ২০২৫, ০৮:১১ পিএম

নয়াদিল্লি: ভারতের ক্রীড়াজগতে আরেক ঐতিহাসিক মুহূর্তের অপেক্ষা! ২০৩০ সালের কমনওয়েলথ গেমস আয়োজনের দরজা ভারতের জন্য খুলছে কিনা, সে খবর আর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জানা যাবে। আজ, বুধবারই ঘোষণা হতে চলেছে আয়োজক শহরের নাম।
জানা গেছে, গ্লাসগোতে চলমান কমনওয়েলথ স্পোর্টস জেনারেল অ্যাসেম্বলিতে ভারতের বিড বা প্রস্তাব অনুমোদিত হতে চলেছে। এক মাসেরও বেশি সময় ধরে এই আয়োজনের বিষয়টি কার্যত নিশ্চিত ছিল।
যদি ভারত আয়োজনের দায়িত্ব পায়, তবে এটি হবে দেশের দ্বিতীয়বার কমনওয়েলথ গেমস আয়োজন। এর আগে ২০১০ সালে দিল্লিতে এই গেমস অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
আয়োজক শহর: এবার আয়োজক হওয়ার দৌড়ে প্রায় নিশ্চিত আহমেদাবাদ।
পরিকাঠামো উন্নয়ন: গত দশ বছরে শহরটি 'যুদ্ধকালীন তৎপরতায়' নিজেদের ক্রীড়া পরিকাঠামো উন্নত করেছে।
জানা গিয়েছে, জেনারেল অ্যাসেম্বলিতে শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেওয়া হবে, যা কমনওয়েলথ স্পোর্টস বোর্ডের সুপারিশের উপর ভিত্তি করেই হবে।
প্রতিদ্বন্দ্বিতা: ২০৩০ সালের বিডে ভারত নাইজেরিয়ার আবুজার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল। তবে কমনওয়েলথ স্পোর্টস কর্তৃপক্ষ আবুজাকে ২০৩৪ সালের প্রতিযোগিতা আয়োজনের জন্য উৎসাহিত করার পরিকল্পনা করেছে।
কমনওয়েলথ স্পোর্ট জানিয়েছে, ২০৩০ সালে আয়োজনের জন্য বুধবার ভোটাভুটি হবে এবং এর পরই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হবে।
ভারতীয় প্রতিনিধি দল: এই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে উপস্থিত আছেন কেন্দ্রীয় ক্রীড়া মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব কুনাল, আইওএ সভাপতি পি.টি. উষা এবং গুজরাটের ক্রীড়ামন্ত্রী হর্ষ সাংভি।
ঐতিহাসিক পদক্ষেপ: কমনওয়েলথ স্পোর্টের মতে, এই সিদ্ধান্ত কমনওয়েলথ আন্দোলনের ১০০ বছরের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হবে।
২০১০ সালের দিল্লি কমনওয়েলথ গেমস আয়োজনে প্রায় ৭০,০০০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছিল।
বর্তমানে এই প্রতিযোগিতা থেকে বিশ্বব্যাপী অনেক দেশই আগ্রহ হারাচ্ছে এবং আয়োজন করা কঠিন হচ্ছে। কিন্তু ভারতের কাছে এই আয়োজন খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
অলিম্পিক স্বপ্ন: ২০৩০ সালে কমনওয়েলথ গেমসের আয়োজক হওয়া ভারতের ২০৩৬ সালের অলিম্পিক আয়োজনের উচ্চাকাঙ্ক্ষার জন্য একটি বড় পদক্ষেপ বলে ধরা হচ্ছে। অলিম্পিক আয়োজনের সেই প্রস্তাবও আহমেদাবাদ কেন্দ্রিক।
আহমেদাবাদ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেশ কিছু বড় আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ইভেন্টের সফল আয়োজন করেছে। যেমন— কমনওয়েলথ ওয়েটলিফটিং চ্যাম্পিয়নশিপ, এশিয়ান অ্যাকোয়াটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপ এবং এএফসি অনূর্ধ্ব-১৭ ফুটবল কোয়ালিফায়ার।
আসছে যা: আগামী বছর এশিয়ান ওয়েটলিফটিং চ্যাম্পিয়নশিপ এবং এশিয়া প্যারা-আর্চারি কাপও সেখানে অনুষ্ঠিত হবে।
স্টেডিয়াম ও ভিলেজ: আয়োজনের জন্য সরদার প্যাটেল স্পোর্টস এনক্লেভ নির্মাণের কাজ চলছে। যার মধ্যে নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়াম ছাড়াও থাকছে আধুনিক অ্যাকোয়াটিক্স সেন্টার, ফুটবল স্টেডিয়াম এবং ইনডোর অ্যারেনা। এখানে প্রায় ৩,০০০ ক্রীড়াবিদ থাকার মতো অ্যাথলিট ভিলেজও তৈরি হচ্ছে।
২০২৬ সালে গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমস খরচ কমানোর লক্ষ্যে ছোট পরিসরে মাত্র ১০টি খেলা নিয়ে আয়োজন করা হচ্ছে। এতে রেসলিং, শুটিং, হকি-সহ অনেক জনপ্রিয় খেলাই বাদ পড়েছে।
তবে ভারত পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, ২০৩০ সালে আয়োজনে তারা তাদের সব জনপ্রিয় এবং ঐতিহ্যবাহী খেলা পুনর্বহাল করবে। তালিকায় রয়েছে:
international sporting event.