ঢাকা, বুধবার, মার্চ ১১, ২০২৬ | ২৬ ফাল্গুন ১৪৩২
Logo
logo

ট্রাম্পের ‘ভণ্ডামি’! মাদক চোরাচালানকারী প্রেসিডেন্টকে ক্ষমা, আর মাদকের অজুহাতে ভেনেজুয়েলায় হুমকি 


এনবিএস ওয়েবডেস্ক   প্রকাশিত:  ০২ ডিসেম্বর, ২০২৫, ০৩:১২ পিএম

ট্রাম্পের ‘ভণ্ডামি’! মাদক চোরাচালানকারী প্রেসিডেন্টকে ক্ষমা, আর মাদকের অজুহাতে ভেনেজুয়েলায় হুমকি 

কারাকাস: মাদক পাচারের অভিযোগে একদিকে ভেনেজুয়েলাকে একের পর এক হুমকি দিয়ে চলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, আর অন্যদিকে, মাদক চোরাচালানের দায়ে সাজাপ্রাপ্ত হন্ডুরাসের সাবেক প্রেসিডেন্টকে সম্পূর্ণ ক্ষমা করে দিয়েছেন তিনি! ট্রাম্পের এই দ্বিমুখী পদক্ষেপ বিশ্বজুড়ে বড় ধরনের বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

হন্ডুরাসের সাবেক প্রেসিডেন্টকে ক্ষমা: পার্সটুডে-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাদক পাচারের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের কারাগারে বন্দি হন্ডুরাসের সাবেক প্রেসিডেন্ট হুয়ান অরল্যান্ডো হার্নান্দেজকে ক্ষমা করে দিয়েছেন ট্রাম্প। হার্নান্দেজ ২০১৪ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত হন্ডুরাসের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের আদালত তাকে মাদক পাচারের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে ৪৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিল। অভিযোগ ছিল, তিনি রাষ্ট্রপ্রধান থাকা অবস্থায় অন্তত ৪০০ টন কোকেন যুক্তরাষ্ট্রে পাচারে সহায়তা করেছিলেন।

ট্রাম্পের হস্তক্ষেপের অভিযোগ: হার্নান্দেজকে ক্ষমা করার পাশাপাশি ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন, তার পছন্দের প্রার্থী নাসরি আসফুরা যদি হন্ডুরাসের নির্বাচনে না জেতেন, তবে সেই দেশের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা বন্ধ করে দেওয়া হবে। ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ হন্ডুরাসের রাজনীতিতে অভূতপূর্ব হস্তক্ষেপ হিসেবে সমালোচিত হচ্ছে। এই নির্বাচনে ট্রাম্পের সমর্থিত ন্যাশনাল পার্টির প্রার্থী লিবারেল পার্টির প্রতিদ্বন্দ্বীর থেকে সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে, আর এতে গোটা বিশ্ব হতবাক!

ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে মাদকের অজুহাত: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যেখানে একজন সাজাপ্রাপ্ত রাজনীতিবিদকে ক্ষমা করছেন, সেখানে ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে আগ্রাসনের অজুহাত হিসেবে তিনি মাদককে ব্যবহার করছেন। তিনি তার সব হুমকিকে “মাদকবিরোধী লড়াই” এর অংশ হিসেবে দাবি করে ন্যায্যতা দিচ্ছেন।

ট্রাম্প মাসের পর মাস ধরে ভেনেজুয়েলার চারপাশে বিপুল সৈন্য ও সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করে রেখেছেন।

তিনি ভেনেজুয়েলার জাহাজ ও নৌকা লক্ষ্য করে হামলার নির্দেশ দিয়েছেন, যার ফলে এখন পর্যন্ত প্রায় ৮৩ জন সাধারণ মানুষ নিহত হয়েছে।

ট্রাম্প দাবি করেন, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো মাদক চোরাচালানের মূল হোতা।

পরিসংখ্যান কী বলছে? জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ দপ্তর (UNODC)-এর আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বের সর্বাধিক কোকেন উৎপাদনকারী দেশ হলো যথাক্রমে কলম্বিয়া, পেরু ও বলিভিয়া। মার্কিন তথ্য অনুযায়ী, মেক্সিকো ও কলম্বিয়ার মতো দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রে সর্বাধিক মাদক পাঠায় এবং ভেনেজুয়েলাকে শুধুমাত্র “দ্বিতীয় পর্যায়ের ট্রানজিট রুট” হিসেবে ধরা হয়।

আসল লক্ষ্য ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদ? ট্রাম্প তার সব আগ্রাসী পদক্ষেপকে “মাদকবিরোধী লড়াই”-এর অজুহাতে বৈধতা দিতে চাইলেও, আমেরিকার অনেক রাজনীতিবিদ ও গণমাধ্যম মনে করে এর আসল কারণ হলো ভেনেজুয়েলার বিশাল তেল সম্পদ।

বিশ্বের বৃহত্তম প্রমাণিত তেল মজুদ ভেনেজুয়েলায় রয়েছে—যা ৩১০ বিলিয়ন ব্যারেলেরও বেশি—যা সৌদি আরব ও কানাডার মজুদের চেয়েও বেশি।

এই “কালো সোনা” ট্রাম্পকে এমনভাবে প্রলুব্ধ করেছে যে, তিনি এক ঢিলে দুই পাখি মারতে চান: একদিকে সাম্রাজ্যবাদ-বিরোধী নেতা মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করা এবং অন্যদিকে তার পছন্দমতো সরকার বসিয়ে ভেনেজুয়েলার জ্বালানি তেল সহজে হাতিয়ে নেওয়া।