ঢাকা, বুধবার, মার্চ ৪, ২০২৬ | ২০ ফাল্গুন ১৪৩২
Logo
logo

জিয়া–খালেদার আদর্শেই দেশ এগোবে বিএনপি, নির্বাচনী ষড়যন্ত্র নিয়ে কড়া বার্তা মির্জা আব্বাসের


এনবিএস ওয়েবডেস্ক   প্রকাশিত:  ২০ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৯:০১ পিএম

জিয়া–খালেদার আদর্শেই দেশ এগোবে বিএনপি, নির্বাচনী ষড়যন্ত্র নিয়ে কড়া বার্তা মির্জা আব্বাসের

বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দেখানো পথ অনুসরণ করেই বিএনপি বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

মঙ্গলবার রাজধানীর আইডিইবি ভবনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি। জিয়াউর রহমানকে মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক ও আধুনিক বাংলাদেশের স্থপতি হিসেবে উল্লেখ করেন মির্জা আব্বাস।

তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যদি স্বাধীনতার ঘোষণা না দিতেন এবং সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশ না নিতেন, তাহলে বাংলাদেশ স্বাধীন হতো না। জিয়া শুধু ঘোষকই ছিলেন না, সম্মুখযুদ্ধেও অংশ নিয়েছিলেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মির্জা আব্বাস বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দেশের গণতন্ত্র রক্ষার সংগ্রাম করেছেন। গত ৪০–৪১ বছরে বাংলাদেশ দুইজন মহান রাষ্ট্রনায়ককে হারিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে ‘ক্রান্তিলগ্ন’ আখ্যা দিয়ে মির্জা আব্বাস বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বেই এই সংকটময় সময় পার হতে হবে।

নির্বাচন প্রসঙ্গে আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, আসন্ন নির্বাচনে দুটি রাজনৈতিক দল—একটি দল ও তাদের একটি সহযোগী দল—নির্বাচনী ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে কিছু আসন দখলের চেষ্টা করছে। তার অভিযোগ, সরকারের উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক করে এই পরিকল্পনা করা হচ্ছে, যাতে বিএনপি ক্ষমতায় আসতে না পারে।

তিনি বলেন, এসব দলের নির্বাচনী প্রচারণা দুর্বল হলেও তারা ক্ষমতায় যাওয়ার হুংকার দিচ্ছে, যা ইঞ্জিনিয়ারিং ছাড়া সম্ভব নয়। এ বিষয়ে বিএনপির নেতা-কর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

সমাবেশে উপস্থিত বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম খান ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, বিষয়টি অবহেলা না করে গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।

মির্জা আব্বাস বলেন, স্লোগান দেওয়া সহজ, কিন্তু নির্বাচনে জয়লাভ করা কঠিন। তিনি নেতা-কর্মীদের ডোর-টু-ডোর প্রচারণায় যাওয়ার ওপর জোর দেন এবং বলেন, দীর্ঘদিন নির্বাচনী চর্চা না থাকায় কিছু ঘাটতি থাকলেও সবাইকে মাঠে নামতে হবে।

তিনি অভিযোগ করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিএনপির বিরুদ্ধে ব্যাপক অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এ সময় তিনি জানান, বিএনপি এ পর্যন্ত প্রায় ৬ হাজার কর্মীকে বহিষ্কার করেছে।

দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কাজ করে যাওয়ার অঙ্গীকার করে মির্জা আব্বাস বলেন, এই দেশ কোনো প্রতারক, ধান্দাবাজ বা অপশক্তির হাতে তুলে দেওয়া হবে না।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আরও উপস্থিত ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ড. আব্দুল মঈন খান, সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালসহ দলের শীর্ষ নেতারা।