এনবিএস ওয়েবডেস্ক প্রকাশিত: ২৩ জানুয়ারী, ২০২৬, ১১:০১ পিএম

প্রেমের কোনো সীমানা নেই, কোনো দেয়ালও তাকে আটকে রাখতে পারে না। এমনকি জেলের সেই শক্ত প্রাচীরও এই অদম্য ভালোবাসার কাছে হার মানল। রাজস্থানের আলওয়ারে ঘটতে চলেছে এক আশ্চর্য আর নজিরবিহীন ঘটনা। বিয়ের মণ্ডপে বসতে চলেছেন দুজন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি, যাদের জেলের আড়ালেই জন্ম নিয়েছিল এই সম্পর্ক!
আদালতের রায়ে এই দুজনের একজনকে দেওয়া হয়েছে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, অন্যজনের বিরুদ্ধে রয়েছে একই রাতে পাঁচজনকে হত্যার মামলা। এর মধ্যেও রাজস্থান হাইকোর্ট এই অভিনব জুটিকে বিয়ের অনুমতি দিয়ে ১৫ দিনের জরুরি প্যারোল মঞ্জুর করেছেন। কনে প্রিয়া শেঠ ওরফে নেহা শেঠ এবং বর হনুমান প্রসাদ আজ শুক্রবার আলওয়ারের বারোদামেভ এলাকায় বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হচ্ছেন। সাজাপ্রাপ্ত দুই আসামির এমন বিয়ের খবরে রাজ্যজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
মডেল হিসেবে পরিচিত প্রিয়া শেঠের অপরাধের ইতিহাস অত্যন্ত ভয়াবহ। ২০১৮ সালের মে মাসে টিন্ডার ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে দুষ্যন্ত শর্মা নামের এক যুবকের সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্ব হয়। উদ্দেশ্য ছিল তাকে অপহরণ করে তাঁর পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায় করা। প্রিয়া এবং তার তখনকার প্রেমিক মিলে দুষ্যন্তের বাবার কাছে ১০ লাখ রুপি দাবি করেন।
পরে পরিবার ৩ লাখ রুপি দিলেও পুলিশের হাতে ধরা পড়ার ভয়ে প্রিয়া ও তার সহযোগীরা দুষ্যন্তকে নির্মমভাবে হত্যা করে। পরিচয় গোপন করতে তার মুখমণ্ডলে অসংখ্যবার ছুরিকাঘাত করা হয়। এরপর মরদেহটি একটি সুটকেসে ভরে আমের পাহাড়ে ফেলে দেওয়া হয়। এই হত্যা মামলায় প্রিয়াকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এখন তিনি সাঙ্গানের ওপেন জেলে সেই সাজা ভোগ করছেন।
প্রায় ছয় মাস আগে, এই সাঙ্গানের ওপেন জেলেই প্রথম দেখা হয় প্রিয়া এবং হনুমানের। সেখান থেকেই প্রথম আলাপ, আর সেই আলাপই ধীরে ধীরে গড়ায় ভালোবাসায়। দুজনই দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হওয়া সত্ত্বেও জীবনসঙ্গী হিসেবে একে অপরকে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর তারা আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ের অনুমতির জন্য আদালতের শরণাপন্ন হন। আদালত তাদের আবেদন গ্রহণ করে এবং শুভকর্মটি সম্পন্ন করার জন্য ১৫ দিনের বিশেষ ছুটি মঞ্জুর করে দেয়।