ঢাকা, রবিবার, ফেব্রুয়ারী ৮, ২০২৬ | ২৬ মাঘ ১৪৩২
Logo
logo

মুম্বাই বিশ্ববিদ্যালয়ের আমন্ত্রণ বাতিল, ক্ষোভে ফুঁসছেন নাসিরুদ্দিন শাহ—আর কতদিন ঘৃণা চলবে দেশে


এনবিএস ওয়েবডেস্ক   প্রকাশিত:  ০৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৪:০২ পিএম

মুম্বাই বিশ্ববিদ্যালয়ের আমন্ত্রণ বাতিল, ক্ষোভে ফুঁসছেন নাসিরুদ্দিন শাহ—আর কতদিন ঘৃণা চলবে দেশে

মুম্বাই বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অনুষ্ঠান থেকে শেষ মুহূর্তে আমন্ত্রণ বাতিল হওয়াকে কেন্দ্র করে ভারতে অসহিষ্ণুতা, ‘থট পুলিশ’ বা চিন্তা নিয়ন্ত্রণ এবং বাড়তে থাকা ঘৃণার পরিবেশের কড়া সমালোচনা করেছেন প্রবীণ অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, ‘আর কতদিন এই ঘৃণা পুষে রাখা যাবে?’

দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে প্রকাশিত সাম্প্রতিক এক কলামে নাসিরুদ্দিন শাহ লেখেন, ১ ফেব্রুয়ারি মুম্বাই বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্দু বিভাগ আয়োজিত ‘জশনে-ই-উর্দু’ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার জন্য তিনি আগ্রহভরে অপেক্ষা করছিলেন। সেখানে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করাই ছিল তাঁর মূল উদ্দেশ্য।

কিন্তু ৩১ জানুয়ারি রাতে তাঁকে জানানো হয়—অনুষ্ঠানে তাঁর উপস্থিতির আর প্রয়োজন নেই।

পাঠকদের সুবিধার্থে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে প্রকাশিত নাসিরুদ্দিন শাহের কলামের বক্তব্যের সারাংশ তুলে ধরা হলো—

একজন অভিনেতা হিসেবে নিজেকে বোঝার পথচলায় তিনি সবসময় স্বপ্ন দেখেছেন, যেদিন বিষয়গুলো স্পষ্ট হবে, সেদিন তা তরুণ ও দিশাহীনদের সঙ্গে ভাগ করে নেবেন। গত ৪০ বছরের বেশি সময় ধরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কাজ করাই তাঁর সবচেয়ে আনন্দের ও শিক্ষণীয় অভিজ্ঞতা। নানা প্রতিষ্ঠানে ও ব্যক্তিগত পরিসরে শিক্ষার্থীদের বিকাশে যুক্ত হতে গিয়ে ব্যর্থতা এসেছে, তবু আনন্দ কমেনি। তাঁর ভাষায়, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কাজ করেই তিনি অভিনয়ের শিক্ষকতার চেয়ে বেশি শিখেছেন।

তিনি লেখেন, ‘জশনে-ই-উর্দু’ অনুষ্ঠানের জন্য অপেক্ষা করলেও শেষ মুহূর্তে আমন্ত্রণ বাতিল করা হয়। কোনো কারণ দর্শানো বা ক্ষমা প্রার্থনা তো দূরের কথা—উল্টো দর্শকদের সামনে ঘোষণা দেওয়া হয় যে তিনি নাকি নিজেই যেতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। এটিকে তিনি অপমানের ওপর অপমান বলেই দেখছেন।

নাসিরুদ্দিন শাহের অভিযোগ, সত্য বলার সাহস দেখানো হয়নি। বরং বলা হয়েছে—তিনি নাকি “প্রকাশ্যে দেশের বিরুদ্ধে বিবৃতি দেন”। এই অভিযোগের জবাবে তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন, এমন একটি বক্তব্য দেখানো হোক যেখানে তিনি দেশকে ছোট করেছেন।

তিনি স্পষ্ট করেন, তথাকথিত ‘বিশ্বগুরু’-র প্রশংসা তিনি করেননি, বরং ক্ষমতাসীন সরকারের নানা কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেছেন এবং করবেন। তাঁর ভাষায়, নাগরিক বোধের ঘাটতি, বিচারহীন আটক, সাজাপ্রাপ্ত অপরাধীদের জামিন, গো-রক্ষকদের সহিংসতা, ইতিহাস ও পাঠ্যপুস্তক বদল, বিজ্ঞানের সঙ্গে ছেলেখেলা—সবকিছু মিলিয়ে দেশ কোন পথে যাচ্ছে, সেটাই তাঁকে ভাবায়।

তিনি ক্ষোভের সঙ্গে প্রশ্ন তোলেন, এই ঘৃণা আর কতদিন পুষে রাখা যাবে?

শেষ অংশে নাসিরুদ্দিন শাহ লেখেন, এই দেশটি আর তাঁর বেড়ে ওঠা দেশের মতো নেই। জর্জ অরওয়েলের ‘১৯৮৪’ উপন্যাসের ‘থট পুলিশ’, ‘ডাবলস্পিক’ আর ‘দুই মিনিটের ঘৃণা’—সবই যেন এখন বাস্তব। যেখানে ‘মহান নেতার’ প্রশংসা না করলেই রাষ্ট্রদ্রোহিতার তকমা জুটে যায়।