এনবিএস ওয়েবডেস্ক প্রকাশিত: ০৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৯:০২ পিএম

সুন্দরী প্রতিযোগিতার বিশ্বের সবচেয়ে বড় মঞ্চ, মিস ইউনিভার্স। সেখানে দাঁড়ানো মানেই প্রচন্ড চাপ ও উত্তেজনা। সেই চাপ সামলে কিভাবে শিরোপা জিতেছিলেন তিনি? সেই অভিজ্ঞতা আর ভয় কাটানোর 'মন্ত্র' এখনকার প্রতিযোগী ও তরুণদের জন্য শেয়ার করলেন ভারতের প্রথম মিস ইউনিভার্স ও বলিউড অভিনেত্রী সুস্মিতা সেন।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, মিস ইউনিভার্সের মতো বড় প্রতিযোগিতায় দাঁড়ানোর সময় তারও ভয় হয়েছিল, হাত-পা ঠাণ্ডা হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু সেই ভয়কেই তিনি জয় করেছিলেন। তার মতে, যে কোনো বড় লক্ষ্যে পৌঁছাতে গেলে প্রথমেই সেই কাজটাকে নিজের করে নিতে হবে, নিজের সেরাটা দেওয়ার তাগিদ তৈরি করতে হবে। তাহলেই সফলতা আসবে।
ভবিষ্যতের প্রতিযোগীদের জন্য তিনি একটি সহজ কিন্তু কার্যকরী পরামর্শ দেন। প্রতিযোগিতার ঠিক আগে কয়েক মিনিট নিজের সাথে একান্তে সময় কাটাতে বলেছেন তিনি। এতে দুশ্চিন্তা দূর হয়, মন শান্ত হয় এবং ইতিবাচক শক্তি তৈরি হয়। এই ইতিবাচক শক্তি জোগাড়ের জন্য গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের (ডিপ ব্রিদিং) ব্যায়াম অত্যন্ত কার্যকর। মনকে সব নেতিবাচক চিন্তা থেকে মুক্ত (ডিটক্স) করা খুবই জরুরি।
উল্লেখ্য, সুস্মিতা সেন মাত্র ১৮ বছর বয়সে ১৯৯৪ সালে ফেমিনা মিস ইন্ডিয়া এবং পরের বছরই মিস ইউনিভার্সের খ্যাতিমান মুকুট জয় করেন। তিনিই প্রথম ভারতীয় এবং প্রথম বাঙালি নারী যিনি এই সম্মানজনক শিরোপা জিতেছিলেন। পরবর্তীতে তিনি বলিউড, তামিল এবং বাংলা সিনেমায় সফল অভিনেত্রী হিসেবে নিজের স্থান পাকাপোক্ত করেন এবং দুটি ফিল্মফেয়ার অর্জনসহ বহু পুরস্কারে ভূষিত হন।
সুস্মিতা সেন শুধু তার পেশাদারী সাফল্য দিয়েই নয়, ব্যক্তিগত জীবন দিয়েও সমাজে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন। ২০০০ সালে মাত্র ২৫ বছর বয়সে তিনি 'রেনি' নামের এক মেয়েশিশুকে দত্তক নিয়ে ইতিহাস গড়েন। সে সময় একক মা হিসেবে শিশু দত্তক নেওয়া নিয়ে সমাজে বিতর্ক ওঠে, কিন্তু তিনি আদালতে লড়াই করে জয়ী হন এবং তার সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠিত করেন। ২০১০ সালে তিনি 'আলিশা' নামে আরেকটি শিশুকন্যা দত্তক নেন। তার এই সচেতন সিদ্ধান্ত তাকে অনেকের কাছেই একজন অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে।