ঢাকা, বৃহস্পতিবার, মার্চ ১৯, ২০২৬ | ৪ চৈত্র ১৪৩২
Logo
logo

মিসরের সেনাশক্তি নিয়ে নেতানিয়াহুর বিস্ফোরক মন্তব্য, তেল আবিবে কি বাড়ছে নতুন নিরাপত্তা আতঙ্ক আজ


এনবিএস ওয়েবডেস্ক   প্রকাশিত:  ০৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৫:০২ পিএম

মিসরের সেনাশক্তি নিয়ে নেতানিয়াহুর বিস্ফোরক মন্তব্য, তেল আবিবে কি বাড়ছে নতুন নিরাপত্তা আতঙ্ক আজ

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সম্প্রতি মিসরের সেনাবাহিনী নিয়ে যে মন্তব্য করেছেন, তা কায়রোর বাড়তে থাকা সামরিক সক্ষমতা ঘিরে তেল আবিবের নিরাপত্তা উদ্বেগের দিকেই ইঙ্গিত করছে। ইসরায়েলি বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্য স্পষ্ট করে দিচ্ছে—আঞ্চলিক নিরাপত্তা সমীকরণে মিসরের অবস্থান এখন নতুন করে মূল্যায়ন করা হচ্ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ বিভিন্ন গণমাধ্যমে নেতানিয়াহুর এই মন্তব্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও বিশ্লেষণ প্রকাশ পেয়েছে। জানা গেছে, নেসেট বা ইসরায়েলি পার্লামেন্টের পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা কমিটির সঙ্গে এক গোপন বৈঠকে নেতানিয়াহু বলেন, মিসরের সেনাবাহিনীর শক্তি বৃদ্ধির বিষয়টি সতর্কভাবে নজরে রাখা প্রয়োজন, যাতে তা প্রয়োজনীয় সীমা অতিক্রম না করে।

ইসরায়েলি ওয়েবসাইট ‘নাতসিও নেট’ এই বক্তব্যকে হঠাৎ দেওয়া মন্তব্য হিসেবে দেখেনি। তাদের মতে, এটি মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক পরিবর্তনেরই প্রতিফলন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সিনাই উপদ্বীপে রানওয়ে ও ভূগর্ভস্থ সামরিক স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ নিয়ে ইসরায়েলের নিরাপত্তা মহলে আলোচনা চলছে। এসব তৎপরতা ১৯৭৯ সালের শান্তিচুক্তির নিরাপত্তা সংযোজনী যথাযথভাবে মানা হচ্ছে কি না, সে প্রশ্নও তুলছে কিছু মহল। যদিও কায়রো এসব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখার কথাই জানিয়েছে।

মিসরের সেনাবাহিনীর দ্রুত আধুনিকায়ন এবং অস্ত্র সংগ্রহের ক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশের ওপর নির্ভরশীল হয়ে ওঠাও ইসরায়েলের কৌশলগত মহলে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, একাধিক দেশ থেকে সামরিক সরঞ্জাম কেনা এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বাড়ানোকে তেল আবিব গুরুত্বের সঙ্গেই দেখছে।

এছাড়া তুরস্কের মতো আঞ্চলিক শক্তির সঙ্গে মিসরের সম্পর্ক জোরদার হওয়া এবং চীনের সঙ্গে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়টিও ইসরায়েলি বিশ্লেষকদের নজর কেড়েছে।

সব মিলিয়ে বিশ্লেষকদের ধারণা, নেতানিয়াহুর এই মন্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে—তেল আবিব এখন মিসরকে আর আগের মতো কেবল স্থিতিশীল নিরাপত্তা অংশীদার হিসেবে দেখছে না। বরং একটি দ্রুত শক্তিশালী হয়ে ওঠা আঞ্চলিক সামরিক শক্তি হিসেবে বিবেচনা করছে, যার ওপর নিয়মিত নজরদারি রাখা জরুরি বলে মনে করছে ইসরায়েল।