ঢাকা, বৃহস্পতিবার, মার্চ ১৯, ২০২৬ | ৪ চৈত্র ১৪৩২
Logo
logo

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি ইরানের নিশানায়, হামলা হলেই মিসাইল জবাবের হুঁশিয়ারিতে তেহরান


এনবিএস ওয়েবডেস্ক   প্রকাশিত:  ১০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৯:০২ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি ইরানের নিশানায়, হামলা হলেই মিসাইল জবাবের হুঁশিয়ারিতে তেহরান

মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত প্রায় সব মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এখন ইরানের মিসাইলের নাগালের মধ্যে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের ওপর হামলা চালায়, তাহলে তার জবাব সরাসরি মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করেই দেওয়া হবে। তার কথায়, “আমেরিকার মূল ভূখণ্ডে আঘাত করা সম্ভব না হলেও, এই অঞ্চলের ঘাঁটিগুলো আমাদের ব্যালিস্টিক মিসাইলের আওতায় রয়েছে।”

সম্প্রতি সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের দিকে শক্তিশালী নৌবহর পাঠানোর ঘোষণা দিলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ট্রাম্প এই পদক্ষেপকে শান্তি রক্ষার অংশ হিসেবে তুলে ধরলেও, তেহরান এটিকে প্রকাশ্য উস্কানি হিসেবে দেখছে। আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরাঘচি বলেন, “ইরান যুদ্ধকে ভয় পায় না। আমাদের সেনারা যেকোনো আগ্রাসনের জবাব দিতে প্রস্তুত।”

তিনি আরও জানান, ইরান প্রতিবেশী দেশগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করবে না। তবে ওইসব দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক অবকাঠামোই হবে তাদের মূল টার্গেট।

বর্তমানে ইরানের হাতে প্রায় দুই হাজার স্বল্প ও মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক মিসাইল রয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা না থাকলেও এই বিশাল মিসাইল ভাণ্ডারই ইরানের প্রতিরক্ষার প্রধান শক্তি।

খুররমশাহ ও সেজজিলের মতো উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। এর ফলে কাতারের আল উদেইদ, বাহরাইন, কুয়েত, ইরাক ও সিরিয়ায় অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটির পাশাপাশি তুরস্ক ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের ঘাঁটিগুলোও ইরানের মিসাইলের ছায়ার মধ্যে রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা ইরানের এই মিসাইল শক্তিকে ‘সুইস আর্মি নাইফ’-এর সঙ্গে তুলনা করছেন—একই সঙ্গে প্রতিরক্ষা ও আক্রমণে ব্যবহারযোগ্য। গত বছর ইসরায়েলের দিকে প্রায় ৫০০ মিসাইল নিক্ষেপ করে ইরান তাদের সক্ষমতার প্রদর্শন করেছিল। যদিও ক্ষয়ক্ষতি সীমিত ছিল, তবু পেন্টাগন এই হুমকিকে এখন অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে।

এই বাস্তবতায় পেন্টাগন মধ্যপ্রাচ্যে থাড ও প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে। জর্ডান, কুয়েত ও সৌদি আরবসহ কয়েকটি দেশে অতিরিক্ত সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করা হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, বড় ধরনের সংঘর্ষ ঠেকানো এবং সেনাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এসব পদক্ষেপ।

উত্তেজনার মাঝেও ওমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে পরোক্ষ আলোচনা চলছে। তবে আরাঘচি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে ইরান কোনো আপস করবে না। তার মতে, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও আঞ্চলিক মিত্রদের সহায়তা ইরানের জাতীয় নিরাপত্তার অবিচ্ছেদ্য অংশ, যা ওয়াশিংটনের চাপেও বদলাবে না।

সব মিলিয়ে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি ও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি এখন সরাসরি মুখোমুখি অবস্থানে। ট্রাম্পের কড়া সামরিক বার্তা আর তেহরানের ‘ট্রিগারে আঙুল’ রাখা হুঁশিয়ারি পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, কূটনৈতিক আলোচনা ভেস্তে গেলে এই উত্তেজনাই রূপ নিতে পারে বড় আঞ্চলিক সংঘাতে।