এনবিএস ওয়েবডেস্ক প্রকাশিত: ১০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৯:০২ পিএম

ইরানের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র এখন শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, ইউরোপের বড় বড় রাজধানীর জন্যও হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে। পশ্চিমা নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা সতর্ক করে দিচ্ছেন যে, লন্ডন, প্যারিস কিংবা বার্লিনের মতো শহরগুলো খুব শীঘ্রই ইরানি মিসাইলের আওতায় চলে আসতে পারে। এটি শুধু কূটনৈতিক উদ্বেগ নয়, বরং সরাসরি জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় এক ঝুঁকি।
এই আশঙ্কার পেছনে একটি বড় কারণ হলো কৌশলগত অস্ত্র হ্রাস চুক্তি বা 'স্টার্ট' চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া। এই চুক্তি শেষ হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে পারমাণবিক নিয়ন্ত্রণ থাকলেও, ইরানের মতো উদীয়মান শক্তির বিরুদ্ধে এমন কোনো আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নেই। ফলে বৈশ্বিক নিরাপত্তা ঝুঁকি এখন আরও অনেক বেড়ে গেছে।
আরেকটি বিষয় হলো, শীতল যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে 'পারস্পরিক নিশ্চিত ধ্বংস' বা এমএডি নীতি কার্যকর থাকলেও, বর্তমান পরিস্থিতি একেবারেই ভিন্ন। ইরান উত্তর কোরিয়ার সহায়তায় তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি দ্রুত গতিতে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, ইরান ৬০০০ মাইল (প্রায় ৯৬৫৬ কিলোমিটার) পাল্লার একটি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করেছে, যা শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, ইউরোপ এবং যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূল পর্যন্ত আঘাত হানতে সক্ষম। বিশ্লেষকরা সতর্ক করে দিয়েছেন, লন্ডন, প্যারিস বা বার্লিনে এমন কোনো হামলা পুরো আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করে দিতে পারে।
যুক্তরাজ্যের অবস্থা আরও বেশি চিন্তার। তাদের কাছে পারমাণবিক প্রতিরোধ ক্ষমতা থাকলেও, অর্থনৈতিক দুর্বলতা এবং প্রতিরক্ষা বাজেটের ঘাটতি দেশটিকে এই সংকটে কার্যত একজন দর্শকের ভূমিকায় ফেলেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানকে এখনই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা ইউরোপের সবচেয়ে বড় কৌশলগত অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।
সবশেষে একটাই প্রশ্ন থেকে যায় – নতুন কোনো আন্তর্জাতিক চুক্তি কি এই বাড়তি ঝুঁকি কমাতে পারবে? তার উত্তর এখনও অস্পষ্ট। কারণ বর্তমান বিশ্বে শেষ কথা হলো শক্তি। ইউরোপীয় দেশগুলো যদি তাদের সামরিক ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা দ্রুত বাড়াতে না পারে, তবে ভবিষ্যতে তাদের প্রভাব ও নিরাপত্তা দুই-ই হুমকির মুখে পড়বে।