ঢাকা, বৃহস্পতিবার, মার্চ ১৯, ২০২৬ | ৪ চৈত্র ১৪৩২
Logo
logo

পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের দখল নিয়ে ট্রাম্পের আপত্তি, নতুন মোড়ে ঘুরছে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি


এনবিএস ওয়েবডেস্ক   প্রকাশিত:  ১০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৯:০২ পিএম

পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের দখল নিয়ে ট্রাম্পের আপত্তি, নতুন মোড়ে ঘুরছে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ পশ্চিম তীর অঞ্চলে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক দখলদারিত্ব ও বসতি সম্প্রসারণের উদ্যোগে আপত্তি জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসের সরকারি বাসভবন ও প্রশাসনিক সূত্রের বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম এক্সিওস।

সোমবার হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা এক্সিওসকে জানান, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের দখল বাড়ানোর বিষয়টি নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সরাসরি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার মতে, ইসরায়েলের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তার জন্য একটি স্থিতিশীল পশ্চিম তীর অত্যন্ত জরুরি। একই সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে টেকসই ও দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করা।

২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকেই পশ্চিম তীরে দখলদারিত্ব ও বসতি সম্প্রসারণ কার্যক্রম আরও জোরদার হয়। গত প্রায় আড়াই বছরে পশ্চিম তীরের বিভিন্ন শহর ও এলাকায় হাজার হাজার নতুন আবাসন নির্মাণের পরিকল্পনা অনুমোদন দিয়েছে ইসরায়েলি মন্ত্রিসভা। এর মধ্যে কয়েকটি প্রকল্পের কাজ ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে।

সম্প্রতি ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থি রাজনীতিবিদ ও অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোৎরিচ এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ রোববার পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতকারীর সংখ্যা বাড়ানো এবং নতুন আবাসন প্রকল্প নেওয়ার ঘোষণা দেন। এই ঘোষণাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি হয়।

ঘোষণার পরপরই ইসরায়েলের এই পরিকল্পনার বিরোধিতা করে যৌথ বিবৃতি দেয় আটটি দেশ—মিসর, ইন্দোনেশিয়া, জর্ডান, পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব, তুরস্ক ও সংযুক্ত আরব আমিরাত।

যৌথ বিবৃতিতে দেশগুলো সতর্ক করে বলেছে, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের এই পদক্ষেপ প্রশাসনিক জটিলতা আরও বাড়াবে এবং শত শত ফিলিস্তিনিকে বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঝুঁকিতে ফেলবে। পাশাপাশি এতে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।

সব মিলিয়ে পশ্চিম তীরকে ঘিরে ইসরায়েলের আগ্রাসী নীতি, যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরের আপত্তি এবং আঞ্চলিক দেশগুলোর কড়া প্রতিক্রিয়া—মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিকে নতুন এক মোড়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।