ঢাকা, বৃহস্পতিবার, মার্চ ১৯, ২০২৬ | ৪ চৈত্র ১৪৩২
Logo
logo

ইরানকে ঘিরে ট্রাম্পের কড়া বার্তা—মধ্যপ্রাচ্যে কি সত্যিই যুদ্ধের কাউন্টডাউন?


এনবিএস ওয়েবডেস্ক   প্রকাশিত:  ১১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৬:০২ পিএম

ইরানকে ঘিরে ট্রাম্পের কড়া বার্তা—মধ্যপ্রাচ্যে কি সত্যিই যুদ্ধের কাউন্টডাউন?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানকে ঘিরে আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন—ইরানের সঙ্গে সমঝোতা না হলে “খুব কঠিন কিছু” করার পথে হাঁটতে পারে ওয়াশিংটন। তার এই মন্তব্য ঘিরে অঞ্চলজুড়ে নতুন করে যুদ্ধের শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ইসরায়েলের একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মেনে না চলে, তাহলে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। তার ভাষায়, “হয় চুক্তি হবে, না হলে কঠোর সিদ্ধান্ত আসবে।” ট্রাম্পের এমন খোলামেলা হুঁশিয়ারিকে অনেক বিশ্লেষক সরাসরি চাপ প্রয়োগের কৌশল হিসেবে দেখছেন। তবে এতে যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে, সে বিষয়ে দ্বিমত নেই কারও।

কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার

এই টানটান পরিস্থিতির মধ্যেই ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলি লারিজানি ওমানের সুলতানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার সাম্প্রতিক অগ্রগতি ও নানা ইস্যু নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, ইরান এখনো আলোচনার পথ খোলা রাখতে আগ্রহী—যদিও চাপের মুখে রয়েছে দেশটি।

বাড়ছে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি

গত কয়েক সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ভারত মহাসাগরে পাঠানো হয়েছে বড় যুদ্ধবহর, যার মধ্যে রয়েছে বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন। মার্কিন গণমাধ্যমের খবর, প্রয়োজন হলে আরও একটি যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে ওয়াশিংটনের। এই পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সতর্কবার্তায় উদ্বেগ

পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্র তাদের বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে ইরানের জলসীমা থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দিয়েছে। এতে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যেও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকের মতে, এমন সতর্কবার্তা অঞ্চলজুড়ে অনিশ্চয়তা ও ভয়ের পরিবেশ আরও বাড়িয়ে তুলছে।

সব মিলিয়ে, ট্রাম্পের ‘কঠোর পদক্ষেপ’-এর হুমকি ও বাড়তে থাকা সামরিক তৎপরতা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এখন দেখার বিষয়—কূটনৈতিক আলোচনায় সমাধান আসে, নাকি পরিস্থিতি গড়ায় আরও বড় সংঘাতে।