ঢাকা, বৃহস্পতিবার, মার্চ ১৯, ২০২৬ | ৪ চৈত্র ১৪৩২
Logo
logo

নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের পর ট্রাম্পের কড়া বার্তা! তেহরানকে কি নতুন চাপের মুখে ফেলছে আমেরিকা?


এনবিএস ওয়েবডেস্ক   প্রকাশিত:  ১২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৩:০২ পিএম

নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের পর ট্রাম্পের কড়া বার্তা! তেহরানকে কি নতুন চাপের মুখে ফেলছে আমেরিকা?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক ইস্যুতে আলোচনা চালিয়ে যেতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। তবে একই সঙ্গে তিনি সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনার ইঙ্গিতও দিয়েছেন—যদি কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো না যায়। বুধবার হোয়াইট হাউসে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের পর এ মন্তব্য করেন তিনি।

বৈঠক শেষে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ ট্রাম্প লেখেন, এখনো আলোচনায় কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে যুক্তরাষ্ট্র একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে চায়। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে দেন—ইরান যদি চুক্তিতে রাজি না হয়, তাহলে “ফলাফল কী হবে, তা দেখা যাবে।”

ট্রাম্প ২০২৫ সালের জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলার কথাও স্মরণ করিয়ে দেন। তার দাবি, আগের দফার আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পরই ওই হামলা হয়েছিল।

প্রসঙ্গত, গত ৬ ফেব্রুয়ারি ওমানের রাজধানী মাসকাটে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রথম দফা পরোক্ষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। ট্রাম্প সেই আলোচনা “খুব ভালো হয়েছে” বলে মন্তব্য করেন। অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানান, আলোচনায় মূলত পারমাণবিক ইস্যুই গুরুত্ব পেয়েছে এবং তেহরান তাদের অবস্থান পরিষ্কারভাবে তুলে ধরেছে।

এদিকে ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলী লারিজানি বলেন, আলোচনায় ইসরায়েলের চাপ প্রভাব ফেলতে দেওয়া উচিত নয়। অনেক বিশ্লেষকের মতে, আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়াতে তেল আবিবের ভূমিকাই সবচেয়ে বেশি প্রশ্নবিদ্ধ।

ওয়াশিংটনে অবস্থানকালে নেতানিয়াহু মার্কিন মধ্যপ্রাচ্য দূত স্টিভ উইটকফ ও ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের সঙ্গেও বৈঠক করেন। আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে এই বৈঠকগুলো কূটনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কাছে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পুরোপুরি বন্ধ করা, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত করা এবং আঞ্চলিক মিত্রদের সমর্থন বন্ধের মতো বিস্তৃত পদক্ষেপ চাইছে। তবে তেহরান এসব দাবিকে একতরফা ও অযৌক্তিক বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। ইরানের স্পষ্ট অবস্থান—নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ও আঞ্চলিক সম্পর্ক কোনো দেশের চাপে নির্ধারিত হবে না।

সব মিলিয়ে আলোচনা চললেও উত্তেজনা পুরোপুরি কাটেনি। একদিকে আমেরিকার চাপ ও ইসরায়েলের সক্রিয় তৎপরতা, অন্যদিকে নিজেদের সার্বভৌম অধিকার রক্ষায় অনড় ইরান—এই টানাপোড়েনের মধ্যেই এগোচ্ছে কূটনৈতিক লড়াই। এখন বিশ্ব তাকিয়ে আছে, শেষ পর্যন্ত ওয়াশিংটন কোন পথ বেছে নেয় এবং তেহরান কতটা দৃঢ় অবস্থান ধরে রাখে।