এনবিএস ওয়েবডেস্ক প্রকাশিত: ১২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৩:০২ পিএম

অধিকৃত পশ্চিম তীরের জেরিকোতে আবারও রক্তচক্ষু দেখাল ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) আল-দুয়ুক আল-তাহতাহ গ্রামে হঠাৎ হানা দিয়ে প্রায় ১৫টি ফিলিস্তিনি বাড়ি ও একটি পশুর খামার বুলডোজার দিয়ে মাটিতে মিশিয়ে দিয়েছে সশস্ত্র ইসরায়েলিরা। আর এই ধ্বংসলীলার শিকার হয়ে পরিবারগুলো এখন খোলা আকাশের নিচে, গাছের তলায় রাত কাটাতে বাধ্য হচ্ছে!
স্থানীয় বাসিন্দা মুস্তাফা কাবনেহ, যিনি প্রায় দুই দশক ধরে এই গ্রামে বাস করছেন, বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, "প্রায় ৫০ জন বসতি স্থাপনকারী হঠাৎ চলে আসে। তারা সবাইকে জোর করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়, এরপর ঘরগুলো ভাঙতে শুরু করে। তারপর সবকিছু নিয়ে যায়—এমনকি মুরগিগুলোও নিয়ে গেছে!" তার অভিযোগ, হামলাকারীদের অধিকাংশই মুখোশধারী ও সশস্ত্র ছিল, আর তাদের সঙ্গে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর একটি গাড়িও ছিল। কিছুক্ষণ পর তারা বুলডোজার নিয়ে ফিরে আসে।
২৩ বছর বয়সী আরেক বাসিন্দা বাসেম কাবনেহের কণ্ঠে এখন ক্ষোভ আর হতাশা। তিনি বলেন, "ওরা নারী ও শিশুদের মারধর করেছে, আমাদের জিনিসপত্র কেড়ে নিয়েছে, বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে। তারা আমাকে বলেছে—'যথেষ্ট হয়েছে, এখানে আর তোমার বাড়ি নেই।'" আবু আউদি আল-রাজাবি নামের এক ভুক্তভোগী বাড়ির মালিক জানান, ১৩ বছর আগে বাড়িটি তৈরি করা হয়েছিল এবং এর বিরুদ্ধে কোনো ভাঙার আদেশ জারি করা হয়নি। তিনি জেরুজালেমে থাকেন এবং ঘটনাস্থলে যেতে পারেননি, কারণ পুরো এলাকা সিলগালা করে দেওয়া হয়।
স্থানীয় কর্মী জিহাদ মাহালেস জানান, ধ্বংস করা এসব স্থাপনা 'এরিয়া সি'-তে অবস্থিত, যা ১৯৯০-এর দশকের অসলো চুক্তি অনুযায়ী ইসরায়েলের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণাধীন। তিনি বলেন, ভাঙা পাঁচটি স্থাপনা পাথরের তৈরি, বাকিগুলো টিনের ঘর ও পশুর আশ্রয়স্থল।
এই সহিংসতা ঘটেছে এমন এক সময়ে, যখন ইসরায়েলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা পশ্চিম তীরে নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদারের লক্ষ্যে নতুন কিছু পদক্ষেপ অনুমোদন করেছে । পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইহুদি ইসরায়েলিদের সরাসরি পশ্চিম তীরের জমি কেনার সুযোগ দেওয়া হবে। সমালোচকদের মতে, এসব সিদ্ধান্ত নতুন বসতি সম্প্রসারণকে সহজ করে দেবে এবং ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ধারণাকে পুরোপুরি মেরে ফেলার চেষ্টা ।
জাতিসংঘ গত সপ্তাহেই জানিয়েছে, বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা ও হয়রানির কারণে শুধু জানুয়ারি মাসেই প্রায় ৭০০ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন—২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর এটি সর্বোচ্চ সংখ্যা ।
১৯৬৭ সাল থেকে পশ্চিম তীর দখল করে রাখা ইসরায়েলের এসব বসতি আন্তর্জাতিক আইনে সম্পূর্ণ অবৈধ। কিন্তু তা সত্ত্বেও, প্রতিদিনই নতুন করে ঘরহারা হচ্ছেন ফিলিস্তিনিরা। বাসেম কাবনেহের সেই করুণ উচ্চারণই যেন পুরো পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরে—"আমরা এখন গাছের নিচে বসবাস করছি!"