এনবিএস ওয়েবডেস্ক প্রকাশিত: ১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৫:০২ পিএম

মিউনিখ: মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এমন এক বক্তব্য দিলেন, যা ইউরোপ-আমেরিকা সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে। একই সঙ্গে ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের জন্যও স্পষ্ট বার্তা রেখে গেল।
শনিবারের ভাষণে রুবিও বলেন, তিনি আমেরিকাকে “ইউরোপের সন্তান” হিসেবে দেখেন। তবে সেই আবেগের সঙ্গে ছিল কঠোর শর্তও। তার কথায়, “যদিও আমরা প্রয়োজনে একা এটি করতে পারি, আমরা আশা করি আমাদের ইউরোপের বন্ধুদের সঙ্গে একসাথে এটি করব।”
তিনি জোর দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপের ভাগ্য নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন এবং দুই মহাদেশের ভবিষ্যৎ পরস্পরের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
রুবিও আরও বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র এমন ইউরোপ চায় না, যা দুর্বল বা অপরাধবোধে আবদ্ধ। তার ভাষায়, “পশ্চিমাদের ব্যবস্থাপিত পতনের ভদ্র ও সুশৃঙ্খল তত্ত্বাবধায়ক হতে আমাদের আগ্রহ নেই। আমরা আলাদা হতে চাই না। আমরা চাই একটি পুনরুজ্জীবিত জোট।”
তিনি ইঙ্গিত দেন, পশ্চিমা সমাজের বর্তমান সমস্যাগুলো শুধু খারাপ নীতির ফল নয়, বরং দীর্ঘদিনের হতাশা ও আত্মতুষ্টির ফল।
ইরান ইস্যুতে চাপ বাড়ার আশঙ্কা
বিশ্লেষকদের মতে, রুবিওর বক্তব্য একদিকে মার্কিন-ইউরোপ সম্পর্ককে শক্তিশালী করার প্রচেষ্টা হলেও, অন্যদিকে এটি মধ্যপ্রাচ্যে—বিশেষ করে ইরান ইস্যুতে—চাপ বাড়াতে পারে। কারণ এতে বোঝা যাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ শক্তির পুনর্বিন্যাসের পথে হাঁটছে।
এমন পরিস্থিতিতে ইরান, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাববলয়ের ভারসাম্য আরও জটিল হতে পারে। বিশেষ করে পারমাণবিক ইস্যু ও সামরিক শক্তির প্রশ্নে নতুন সমীকরণ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
নতুন বিশ্বব্যবস্থার ইঙ্গিত?
রুবিওর বক্তব্যের আড়ালে অনেকেই দেখছেন বড় কৌশলগত বার্তা। শুধু বন্ধুত্ব নয়, বরং বৈশ্বিক ক্ষমতার কাঠামোয় নতুন নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ইঙ্গিত রয়েছে সেখানে।
মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে এই বক্তব্য ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। ইউরোপের রাজনৈতিক নেতারা এবং ইরানের সমর্থকরা বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।
সব মিলিয়ে, মিউনিখের মঞ্চ থেকে দেওয়া রুবিওর বার্তা কেবল ইউরোপের জন্য নয়—বরং পুরো বিশ্বের জন্যই একটি সতর্ক সংকেত হয়ে উঠতে পারে।