ঢাকা, শনিবার, এপ্রিল ৪, ২০২৬ | ২১ চৈত্র ১৪৩২
Logo
logo

আমেরিকার চাপকে টেক্কা! সমঝোতা ছাড়াই যুদ্ধে যাবে ইরান—কি বিশ্বের শক্তি ভারসাম্য উলটে যাবে এবার?


এনবিএস ওয়েবডেস্ক   প্রকাশিত:  ২২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৫:০২ পিএম

আমেরিকার চাপকে টেক্কা! সমঝোতা ছাড়াই যুদ্ধে যাবে ইরান—কি বিশ্বের শক্তি ভারসাম্য উলটে যাবে এবার?

বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান এমন এক জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে তারা চুক্তির চেয়ে লড়াইয়ের মধ্যেই নিজেদের বাঁচিয়ে রাখার সম্ভাবনা বেশি দেখছে। তেহরানের রাজনৈতিক আর কৌশলগত চিন্তাভাবনায় স্পষ্ট হচ্ছে, দেশের নেতাদের কাছে একটা বড় সংঘর্ষ এখন আর শুধু ঝুঁকি নয়—বরং এটা শক্তির ভারসাম্য বদলে দেওয়ার একটা সোনার সুযোগ বলে মনে হচ্ছে।

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি জেনেভায় যখন আমেরিকার কর্মকর্তাদের সঙ্গে ইরানের প্রতিনিধিরা আলোচনায় মগ্ন, তখন তেহরানে দেশের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি একটা জোরালো বার্তা দেন। তিনি বলেন, যুদ্ধবিমানবাহী রণতরী যতই শক্তিশালী হোক না কেন, তার চেয়ে ভয়ংকর সেই অস্ত্র যা ওই রণতরীকে সমুদ্রের তলায় পাঠিয়ে দিতে পারে। এই কথা থেকেই বোঝা যায়, ইরান নিজেদের প্রতিরক্ষা ক্ষমতা নিয়ে পুরোপুরি আত্মবিশ্বাসী আর কোনো চাপের কাছে মাথা নোয়াতে রাজি নয়।

এর আগে ইরান সাধারণত 'শান্তি চায়, কিন্তু যুদ্ধের জন্য তৈরি'—এই লাইনে চলত। কিন্তু এখন ছবিটা বদলে গেছে। তেহরানের ক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ মহলে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে কোনো সফল চুক্তির আশা অনেকটাই কমে এসেছে। রাষ্ট্রীয় মিডিয়াতেও এখন যুদ্ধকে শুধু হুমকি বলে নয়, প্রয়োজনে একটা কার্যকরী বিকল্প হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।

ইরানের নীতিনির্ধারকদের আলোচনায় বারবার উঠে আসছে মুয়াম্মার গাদ্দাফি আর লিবিয়ার উদাহরণ। তাদের মতে, গাদ্দাফি যখন নিজের অস্ত্র প্রোগ্রাম ছাড়লেন, তখন থেকেই বিদেশি হামলা শুরু হয় আর শেষে তার সরকার ধসে পড়ে। তেহরানের অনেকের ধারণা, পশ্চিমাদের সঙ্গে আপস করলে একই রকম ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। উলটো দিকে, শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুললে কৌশলগত ভারসাম্য ঠিক রাখা যাবে আর নিজেদের পজিশন আরও মজবুত করার চান্স মিলবে।

ইরানের রাজনৈতিক কথাবার্তায় ধর্মীয় আর আধ্যাত্মিক দিকটা সবসময়ই বড় ভূমিকা পালন করে, কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এটা আরও জোরালো হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিকে তারা শুধু ভূ-রাজনৈতিক লড়াই বলে নয়, বরং একটা বড় আদর্শিক যুদ্ধ হিসেবেও দেখছে। রাষ্ট্রীয় বিশ্লেষকদের মতে, যেকোনো অবস্থায় প্রতিরোধ চালিয়ে যাওয়া তাদের জন্য একটা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।