ঢাকা, শনিবার, এপ্রিল ৪, ২০২৬ | ২১ চৈত্র ১৪৩২
Logo
logo

আমেরিকার চোখ রক্তবর্ণ! হরমুজে ইরানের ভয়ংকর মিসাইল পরীক্ষায় কাঁপছে গোটা উপসাগর


এনবিএস ওয়েবডেস্ক   প্রকাশিত:  ২২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৫:০২ পিএম

আমেরিকার চোখ রক্তবর্ণ! হরমুজে ইরানের ভয়ংকর মিসাইল পরীক্ষায় কাঁপছে গোটা উপসাগর

পারমাণবিক ইস্যুকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা চরমে। ঠিক এমন সময়েই হরমুজ প্রণালিতে ভয়ংকর ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালাল ইরান। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নৌবাহিনী আইআরজিসি সফলভাবে ‘সায়াদ-৩জি’ আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে। এই ঘটনায় গোটা উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে অনুষ্ঠিত ‘স্মার্ট কন্ট্রোল’ নামের সামরিক মহড়ার সময় প্রথমবারের মতো এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করা হয়। আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইআরজিসি নৌবাহিনী ‘শহীদ সায়াদ শিরাজি’ নামের একটি যুদ্ধজাহাজ থেকে এই ক্ষেপণাস্ত্রের নৌ সংস্করণ উৎক্ষেপণের ভিডিও প্রকাশ করেছে। এর মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে, ইরান এখন সমুদ্র থেকেও শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা গড়ে তুলতে সক্ষম।

সায়াদ-৩জি ক্ষেপণাস্ত্রটি উল্লম্বভাবে উৎক্ষেপণ করা যায় এবং এর পাল্লা প্রায় ১৫০ কিলোমিটার। ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বিশেষভাবে ‘শহীদ সোলেইমানি ক্লাস’-এর যুদ্ধজাহাজগুলোকে আঞ্চলিক আকাশ প্রতিরক্ষা সুরক্ষা দিতে সক্ষম। এর আগে ২০১৬ সালের ২৮ ডিসেম্বর ইরান প্রথমবারের মতো ভূমিভিত্তিক সায়াদ-৩ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করেছিল। সেই সংস্করণের পাল্লা ছিল ১২০ কিলোমিটার, দৈর্ঘ্য ৬ মিটার এবং ওজন ছিল প্রায় ৯০০ কেজি। নতুন সংস্করণটি আরও উন্নত এবং সমুদ্রভিত্তিক প্রতিরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।

গত ১৬ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী ‘স্মার্ট কন্ট্রোল’ মহড়া ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। এই মহড়ার মাধ্যমে ইরান তাদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার নতুন দিক তুলে ধরেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হওয়ায় এখানে ইরানের এই সক্ষমতা বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

এদিকে পারমাণবিক ইস্যুকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের আশপাশে সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সীমিত সামরিক হামলার কথাও বিবেচনা করছেন বলে জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও তার ইউরোপীয় মিত্ররা অভিযোগ করছে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে এগোচ্ছে। তবে তেহরান বরাবরই এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে এবং বলছে, তাদের কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ।

বিশ্লেষকরা বলছেন, আমেরিকার হুমকির মুখে ইরানের এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে—তারা কোনোভাবেই চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না। বরং নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়িয়ে যাবে। এখন দেখার পালা, এই ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র কী প্রতিক্রিয়া দেখায় এবং আগামী দিনে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি কোন পথে যায়।