এনবিএস ওয়েবডেস্ক প্রকাশিত: ২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ১১:০২ পিএম

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এক বিস্ফোরক মন্তব্য করে বিশ্বরাজনীতিতে নতুন করে আলোড়ন তুলেছেন। তাঁর দাবি, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইতোমধ্যেই তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু করে দিয়েছেন। আর এখন তাকে থামানোই পুরো বিশ্বের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
“এটা শুধু ইউক্রেন নয়, পুরো বিশ্বের জন্য হুমকি”
বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি বলেন, এই যুদ্ধ কেবল ভূখণ্ড দখলের লড়াই নয়। রাশিয়ার আগ্রাসন ইউক্রেনের লাখ লাখ মানুষকে বাস্তুচ্যুত করেছে, পরিবার ভেঙে দিয়েছে এবং সমাজে গভীর বিভাজন তৈরি করেছে। তাঁর ভাষায়, “এটা শুধু ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ নয়—এটা পুরো বিশ্বের স্থিতিশীলতার বিরুদ্ধে এক ভয়ংকর হুমকি।”
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ইউক্রেন এই যুদ্ধে পরাজিত হবে না। বরং শেষ পর্যন্ত বিজয়ী হিসেবেই আত্মপ্রকাশ করবে। পুতিনের আঞ্চলিক দাবিগুলো তিনি সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য বলে প্রত্যাখ্যান করেন।
ইউরোপেও হামলার আশঙ্কা
জেলেনস্কি সতর্ক করে বলেন, এখনই পুতিনকে থামানো না গেলে ভবিষ্যতে ইউরোপের অন্যান্য দেশও হামলার শিকার হতে পারে। তাঁর মতে, এই সম্ভাবনাকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।
এই হুমকি মোকাবিলায় তিনি তীব্র সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের ওপর জোর দেন। পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতি তাঁর আহ্বান—শুধু বিবৃতি নয়, কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
আন্তর্জাতিক সমর্থন চাই আইনগত নিশ্চয়তায়
ইউক্রেনের নিরাপত্তা জোরদার করতে জেলেনস্কি বলেন, আন্তর্জাতিক সমর্থন শুধু মৌখিক প্রতিশ্রুতিতে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। এটি কংগ্রেস বা আন্তর্জাতিক আইনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগতভাবে নিশ্চিত করতে হবে। যেন সরকার পরিবর্তন হলেও সহযোগিতা বন্ধ না হয়।
তিনি মনে করেন, দীর্ঘমেয়াদে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই ধরনের কাঠামোগত সমর্থন অত্যন্ত জরুরি।
যুদ্ধের মধ্যেও নির্বাচন?
সাক্ষাৎকারে তিনি স্বীকার করেন, যুদ্ধের মধ্যে সাধারণ নির্বাচন আয়োজন করা কঠিন। তবে শর্ত সাপেক্ষে তিনি এতে রাজি থাকতে পারেন। তার আগে অবশ্যই ইউক্রেনের নিরাপত্তা এবং জনগণের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে—এটাই তাঁর স্পষ্ট বার্তা।
বিজয় মানে কী?
জেলেনস্কির মতে, বিজয় মানে শুধু হারানো ভূমি পুনরুদ্ধার নয়। এর অর্থ হলো ইউক্রেনের স্বাধীনতা রক্ষা করা এবং বিশ্বজুড়ে ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা নিশ্চিত করা।
তিনি আরও বলেন, রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ঠেকাতে প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখনো পশ্চিমা দেশগুলোর কাছ থেকে পুরোপুরি পাওয়া যায়নি। এটিকে তিনি বড় একটি দুর্বলতা হিসেবে উল্লেখ করেন।
শেষ বার্তা: যৌথ উদ্যোগই একমাত্র পথ
শেষে আশাবাদী কণ্ঠে জেলেনস্কি বলেন, পুতিন যদি নিজে থেকে যুদ্ধ থামাতে না চান, তবুও সঠিক কূটনৈতিক ও সামরিক পদক্ষেপের মাধ্যমে তাকে বাধ্য করা সম্ভব।
এই সংকট মোকাবিলায় শুধু ইউক্রেন নয়, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং পশ্চিমা মিত্রদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই হতে পারে একমাত্র কার্যকর সমাধান—এমনটাই মনে করছেন তিনি।