এনবিএস ওয়েবডেস্ক প্রকাশিত: ২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৭:০২ পিএম

কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের পর সেখানকার সাধারণ মানুষ কার্যত এক নীরব অবরোধের মধ্যে দিন কাটাচ্ছিলেন। যোগাযোগের সব পথ বন্ধ, চারিদিকে শুধু সেনা মোতায়েন। এরই মধ্যে ২০১৯ সালের নভেম্বরে আমেরিকার নিউইয়র্কে ভারতীয় কনসাল জেনারেল সন্দীপ চক্রবর্তীর একটি বক্তব্য ভাইরাল হয়। এক ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ভারতের উচিত কাশ্মীরে ‘ইসরায়েলি মডেল’ ফলো করা ।
ওই সময় নরেন্দ্র মোদির সরকার কাশ্মীরের অর্ধ-স্বায়ত্তশাসন কেড়ে নিয়েছে মাত্র। হাজার হাজার মানুষকে জেলে পুরে দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে রাজনৈতিক নেতারাও আছেন। এমনকি ভারতপন্থী কাশ্মীরি নেতাদেরও আটক করা হয়। সন্দীপ চক্রবর্তী ওই অনুষ্ঠানে বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যে যা ঘটেছে, সেটাই আমাদের মডেল। ইসরায়েলিরা যদি পারে, আমরাও পারি। মোদি সরকার তা করতেই দৃঢ়প্রতিজ্ঞ” । তিনি ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের বসতি স্থাপনের প্রসঙ্গ টেনে আনেন এবং ১৯৮৯ সালে কাশ্মীরি হিন্দুদের দেশত্যাগের ঘটনার সঙ্গেও তার তুলনা করেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, মোদি সরকার ক্ষমতায় আসার পর ফিলিস্তিনিদের প্রতি ভারতের দীর্ঘদিনের সমর্থন সরিয়ে রেখে খোলাখুলিভাবে ইসরায়েলকে আলিঙ্গন করেছে । নয়া দিল্লি শুধু ইসরায়েলের অস্ত্র আর প্রযুক্তিই নেয়নি, বরং ফিলিস্তিনিদের উপর ইসরায়েলের নিরাপত্তা কৌশল ও প্রশাসনিক নীতির নানা উপাদান কাশ্মীরে প্রয়োগ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে । ২০১৪ সালে মোদি ক্ষমতায় আসার পর থেকে এই নীতিগুলো অভ্যন্তরীণভাবে কার্যকর করা হচ্ছে।
আজ ২৫ ফেব্রুয়ারি মোদি যখন দ্বিতীয়বারের মতো ইসরায়েল সফর করছেন , তখন এই দুই দেশের বন্ধুত্ব শুধু বাণিজ্য বা সামরিক অংশীদারিত্বের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। শাসনের কিছু বিতর্কিত মডেলও যে একে অপরের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে, সেটা সময়ের সঙ্গে আরও পরিষ্কার হচ্ছে। এই সফরে প্রায় ৮-১০ বিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে , পাশাপাশি নেতানিয়াহুর সরকারকে আন্তর্জাতিকভাবে কিছুটা হলেও ‘আইসোলেশন’ থেকে বের করে আনার কূটনৈতিক বার্তাও দেবে ভারত ।
কিন্তু প্রশ্ন হলো, ফিলিস্তিনের ভূখণ্ডে ইসরায়েলের যেসব নীতি আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচিত, সেগুলো কি কাশ্মীরে প্রয়োগের মাধ্যমেই শান্তি আসবে? নাকি এই ‘মডেল’ কাশ্মীর-ফিলিস্তিনের সাধারণ মানুষের দুঃখ-কষ্টকেই শুধু দীর্ঘায়িত করবে? মোদির ইসরায়েল সফর যতই অর্থনৈতিক ও কৌশলগত হোক, এর ছায়া ফেলে গেছে ফিলিস্তিনের গাজা থেকে কাশ্মীরের উপত্যকা পর্যন্ত।