ঢাকা, শুক্রবার, মার্চ ১৩, ২০২৬ | ২৮ ফাল্গুন ১৪৩২
Logo
logo

জার্মান চ্যান্সেলর বেইজিংয়ে এসেই চমক! চীনের সঙ্গে বাণিজ্যকে নতুন উচ্চতায় নেবে জার্মানি—ট্রাম্পের শুল্কের মাঝে বড় চাল


এনবিএস ওয়েবডেস্ক   প্রকাশিত:  ২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৭:০২ পিএম

জার্মান চ্যান্সেলর বেইজিংয়ে এসেই চমক! চীনের সঙ্গে বাণিজ্যকে নতুন উচ্চতায় নেবে জার্মানি—ট্রাম্পের শুল্কের মাঝে বড় চাল

ফ্রেডরিখ মার্জ প্রথমবারের মতো চীন সফর শুরু করেছেন। এই সফরের মূল লক্ষ্য দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ককে নতুন করে গড়ে তোলা এবং পারস্পরিক সহযোগিতাকে আরও গভীর করা। বুধবার তিনি বেইজিংয়ে পৌঁছানোর পরপরই চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং-এর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন।

মার্জ বলেন, জার্মানি চীনের সঙ্গে দশকের পর দশক ধরে চলা অর্থনৈতিক সম্পর্কের ভিত্তিতে আরও এগোতে চায়। তবে সহযোগিতা যেন ন্যায্য হয় এবং যোগাযোগ খোলামেলা ও স্বচ্ছ থাকে—এটা খুবই জরুরি। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “আমাদের কিছু উদ্বেগ আছে, যেগুলো আমরা উন্নত ও ন্যায্য করতে চাই।” বিশেষ করে চীনা প্রতিযোগিতার কারণে জার্মানির উৎপাদন খাত যে চাপে পড়ছে, সেটা তিনি জোর দিয়ে তুলে ধরেন।

বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে বৈঠকে লি কিয়াং বলেন, চীন ও জার্মানিকে একসঙ্গে বহুপাক্ষিকতা এবং মুক্তবাণিজ্য রক্ষায় কাজ করতে হবে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতির দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, এই নীতি বিশ্ববাণিজ্যে বড় অস্থিরতা তৈরি করেছে।

লি কিয়াং আরও বলেন, “চীন ও জার্মানি বিশ্বের দুটি বড় অর্থনীতি। আমাদের সহযোগিতায় আস্থা আরও জোরদার করতে হবে। যৌথভাবে বহুপক্ষীয় ও মুক্তবাণিজ্য রক্ষা করতে হবে এবং আরও ন্যায্য ও ভারসাম্যপূর্ণ বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।” বৈঠকে দুই দেশের প্রতিনিধিরা জলবায়ু পরিবর্তন, খাদ্যনিরাপত্তাসহ বিভিন্ন বিষয়ে চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেন।

মার্জ বলেন, “বিশ্বের প্রতি আমাদের যৌথ দায়িত্ব আছে। আমাদের একসঙ্গে সেই দায়িত্ব পালন করা উচিত।” তিনি জানান, খোলা যোগাযোগের চ্যানেল খুবই জরুরি এবং আগামী মাসগুলোতে তার সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী চীন সফর করবেন।
পরিসংখ্যান বলছে, গত বছর চীন থেকে জার্মানির আমদানি ৮.৮% বেড়ে ১৭০.৬ বিলিয়ন ইউরো (প্রায় ২০১ বিলিয়ন ডলার) হয়েছে। অন্যদিকে চীনে জার্মানির রপ্তানি ৯.৭% কমে ৮১.৩ বিলিয়ন ইউরো (প্রায় ৯৬ বিলিয়ন ডলার) হয়েছে।

সফরের অংশ হিসেবে মার্জ চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং-এর সঙ্গে নৈশভোজে যোগ দেবেন। এছাড়া সিমেন্স, মার্সিডিজ বেঞ্জসহ জার্মান কোম্পানিগুলোতেও যাবেন। ভূরাজনীতি, মানবাধিকার এবং ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষিতে রাশিয়ার চীনের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা হবে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে একের পর এক পশ্চিমা নেতা বেইজিং সফর করেছেন—যেমন কিয়ার স্টারমার, ইমানুয়েল মাখোঁ, মার্ক কার্নি। ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের প্রভাবের মধ্যেই এসব সফর চলছে।

গত শুক্রবার মার্জ বলেছিলেন, রপ্তানিনির্ভর জার্মানির জন্য বিশ্বের সব অঞ্চলের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক অপরিহার্য। সে কারণেই তিনি বেইজিং যাচ্ছেন। তবে সতর্ক করে বলেন, “আমাদের কোনো বিভ্রমে থাকা উচিত নয়।” তিনি যোগ করেন, চীন এখন নিজস্ব নিয়মে নতুন বহুপক্ষীয় বৈশ্বিক ব্যবস্থা নির্ধারণের অধিকার দাবি করছে।