এনবিএস ওয়েবডেস্ক প্রকাশিত: ২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৭:০২ পিএম

২০১৯ সালের ভয়াবহ ইস্টার সানডে সিরিজ বোমা হামলার ঘটনায় বড় মোড় নিল তদন্ত। খ্রিষ্টানদের অন্যতম বড় ধর্মীয় উৎসবের দিনে ঘটে যাওয়া সেই রক্তাক্ত হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে শ্রীলঙ্কার সাবেক গোয়েন্দা প্রধানকে।
অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল সুরেশ সাল্লে–কে বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) ভোরে সিআইডি নিজেদের জিম্মায় নেয়। সিআইডির এক কর্মকর্তা বার্তাসংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন, “ইস্টার সানডে হামলার ষড়যন্ত্র, সহায়তা এবং মদদদানের অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।”
২০১৯ সালের ইস্টার সানডের দিনে ব্রেকফাস্টের সময় ছয়টি আলাদা স্থানে প্রায় একই সময়ে বোমা বিস্ফোরণ ঘটে। লক্ষ্যবস্তু ছিল তিনটি চার্চ ও তিনটি বিলাসবহুল হোটেল। সমন্বিত এই আত্মঘাতী হামলায় ৫০০ জনের বেশি মানুষ আহত হন। নিহতদের মধ্যে ৪৫ জন বিদেশিও ছিলেন। এই ভয়াবহ ঘটনার পর দ্বীপ রাষ্ট্রটির পর্যটন খাত বড় ধরনের ধাক্কা খায়, যার প্রভাব পড়ে পুরো অর্থনীতিতে।
তৎকালীন সরকার হামলার দায় একটি স্থানীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীর ওপর চাপিয়ে দিয়েছিল। তবে সেই সময় থেকেই গোয়েন্দা প্রধানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।
সাবেক প্রেসিডেন্ট গোতবায়া রাজাপক্ষে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর ২০১৯ সালে মেজর জেনারেল সুরেশকে গোয়েন্দা প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেন। অভিযোগ ছিল, তিনি সমন্বিত আত্মঘাতী বোমা হামলার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন।
২০২৩ সালে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম Channel 4 এক প্রতিবেদনে দাবি করে, মেজর জেনারেল সুরেশ হামলার আগে হামলাকারীদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন এবং তাদের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল। এমনকি এক হুইসেলব্লোয়ার অভিযোগ করেন, ওই বছর প্রেসিডেন্ট নির্বাচন প্রভাবিত করতে হামলার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, যাতে তা রাজাপক্ষের পক্ষে যায়।
উল্লেখ্য, বোমা হামলার দুইদিন পরই রাজাপক্ষে প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থী হন এবং নভেম্বরে বড় ব্যবধানে নির্বাচনে জয় পান। পরে তাকে শ্রীলঙ্কার প্রধান গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান করা হয়। তবে ২০২৪ সালে অনুরা কুমারা দিশানায়ক প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর তাকে বরখাস্ত করা হয়।
এদিকে হামলার আগে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা বড় ধরনের হামলার সম্ভাবনা সম্পর্কে সতর্ক করেছিল বলেও জানা যায়। কিন্তু সেই সতর্কতা উপেক্ষা করা হয়েছিল।
সব মিলিয়ে, পাঁচ বছর পর এই গ্রেপ্তার নতুন করে আলোচনায় আনল ইস্টার সানডে হামলার রহস্য। সামনে আসতে পারে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য—এমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।