ঢাকা, শুক্রবার, মার্চ ১৩, ২০২৬ | ২৮ ফাল্গুন ১৪৩২
Logo
logo

সীমান্তে আগুন, কূটনীতির পথে ফেরাতে চায় ইরান-রাশিয়া!


এনবিএস ওয়েবডেস্ক   প্রকাশিত:  ২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৩:০২ পিএম

সীমান্তে আগুন, কূটনীতির পথে ফেরাতে চায় ইরান-রাশিয়া!

পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সীমান্ত সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে ইরান, আর কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে রাশিয়া। উত্তেজনা যখন চরমে, তখন দুই দেশের এই অবস্থান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

শুক্রবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী Abbas Araghchi বলেন, ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান দুই দেশের মধ্যে সংলাপ সহজ করতে এবং পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সহযোগিতা জোরদারে প্রয়োজনীয় যে কোনো সহায়তা দিতে প্রস্তুত। তার বক্তব্যে স্পষ্ট—তেহরান চায় উত্তেজনার বদলে আলোচনার পথ খুলুক।

এদিকে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, মস্কো আফগানিস্তান ও পাকিস্তানকে অবিলম্বে সীমান্তপারের হামলা বন্ধ করে কূটনৈতিক উপায়ে মতপার্থক্য নিরসনের আহ্বান জানিয়েছে। রাশিয়ার অবস্থানও পরিষ্কার—সংঘাত নয়, আলোচনাই একমাত্র সমাধান।

রাতভর উত্তেজনার মধ্যে পাকিস্তান আফগানিস্তানের বড় শহরগুলোর ভেতরে লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে বলে পাকিস্তানি ও তালেবান কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। পাকিস্তানের নিরাপত্তা সূত্রগুলোর দাবি, সীমান্তবর্তী বিভিন্ন সেক্টরে তালেবান চৌকি, সদর দপ্তর ও গোলাবারুদের ডিপোতে বিমান ও স্থল হামলা চালানো হয়েছে।

উভয় পক্ষই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির দাবি করেছে। তবে তাদের দেওয়া তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। কয়েক মাস ধরে চলমান উত্তেজনা ও ছোটখাটো সংঘর্ষের পর এই হামলাগুলোকে সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে গুরুতর উত্তেজনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রায় ২,৬০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত এখন নাজুক পরিস্থিতির মুখে, যেখানে যুদ্ধের শঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

ইসলামাবাদ দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, কাবুল তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) জঙ্গিদের আশ্রয় দিচ্ছে। যদিও আফগান তালেবান এ অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে। এই অভিযোগ-প্রত্যাঘাতই দুই দেশের সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলেছে।

পাকিস্তানের নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের শেয়ার করা ভিডিওতে সীমান্ত এলাকায় রাতের অন্ধকারে গোলাবর্ষণের দৃশ্য এবং ভারী কামানের শব্দ শোনা যায়। আরেকটি ভিডিওতে একটি ভবনে আগুন জ্বলতে দেখা গেছে। কর্মকর্তাদের দাবি অনুযায়ী, Paktia Province-এ তালেবানের একটি সদর দপ্তরে ওই হামলা চালানো হয়।

পরিস্থিতি এখন কোন দিকে মোড় নেবে—তা নির্ভর করছে কূটনৈতিক উদ্যোগ কতটা কার্যকর হয় তার ওপর। ইরান ও রাশিয়ার আহ্বান কি উত্তপ্ত সীমান্তে শান্তির বার্তা পৌঁছে দিতে পারবে? গোটা অঞ্চলই এখন সেই উত্তর খুঁজছে।