ঢাকা, শুক্রবার, মার্চ ১৩, ২০২৬ | ২৮ ফাল্গুন ১৪৩২
Logo
logo

মধ্যরাতে আকাশে আগুন! আফগান সীমান্তের ৫ চেকপোস্ট গুঁড়িয়ে দিল পাকিস্তান, পাল্টা হামলায় নিহত ১৩৩?


এনবিএস ওয়েবডেস্ক   প্রকাশিত:  ২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০১:০২ পিএম

মধ্যরাতে আকাশে আগুন! আফগান সীমান্তের ৫ চেকপোস্ট গুঁড়িয়ে দিল পাকিস্তান, পাল্টা হামলায় নিহত ১৩৩?

দক্ষিণ এশিয়ার বুকে ফের উত্তপ্ত সীমান্ত। আফগানিস্তানের সঙ্গে পাকিস্তানের সীমান্তে ভয়াবহ সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। দেশটির খাইবার পাখতুনখোয়ার লোয়ার চিত্রালের ডেপুটি কমিশনার রাও হাশিম আজিম জানিয়েছেন, আফগান সীমান্তের পাঁচটি চেকপোস্ট গুঁড়িয়ে দিয়েছে পাকিস্তানি বাহিনী।

শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডনের এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়েছে।

হাশিম আজিম জানান, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে আরান্দু সীমান্তে পাল্টা নিরাপত্তা অভিযানে আফগান তালেবানের চার থেকে পাঁচটি চেকপোস্ট ধ্বংস করা হয়েছে। তিনি বলেন, আফগান দিক থেকে বিনা উসকানিতে গুলি চালানোর পর এই সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে হালকা ও ভারী অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে।

আরান্দু সীমান্তবর্তী এলাকা এবং চিত্রালের আরান্দু উপত্যকায় পরিস্থিতি এখনও উত্তেজনাপূর্ণ বলে জানান তিনি। মাঝেমধ্যে এখনো গোলাগুলির খবর পাওয়া যাচ্ছে।

এর আগে জিওটিভি নিউজকে পাকিস্তানের সরকারি এক কর্মকর্তা শুক্রবার জানান, সীমান্তে উসকানিমূলক হামলার জবাবে নেওয়া অভিযানে আফগান তালেবান প্রশাসনের ১৩৩ জন সদস্য নিহত এবং ২০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। তবে এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। আফগানিস্তানের তালেবান প্রশাসনও এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেয়নি।

নিরাপত্তা সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, তালেবান বাহিনীর পদক্ষেপের জবাবে পাকিস্তানি বাহিনী 'গাজাব-লিল-হক' নামে একটি বিশেষ অভিযান শুরু করে। ভোর ৩টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত চলমান সংঘর্ষের হালনাগাদ তথ্য জানিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর বৈদেশিক গণমাধ্যমবিষয়ক মুখপাত্র মুশাররফ জাইদি বলেন, 'পাকিস্তানের পাল্টা হামলা অব্যাহত রয়েছে এবং আফগানিস্তানের বিভিন্ন স্থানে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হচ্ছে।'

তার দাবি, কাবুল, পাকতিয়া ও কান্দাহারে সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলায় অতিরিক্ত হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। তিনি বলেন, '২৭টি তালেবান চৌকি ধ্বংস এবং ৯টি দখল করা হয়েছে।'

সরকারের মুখপাত্র আরও দাবি করেন, হামলায় দুটি কোর সদর দপ্তর, তিনটি ব্রিগেড সদর দপ্তর, দুটি গোলাবারুদ ডিপো, একটি লজিস্টিক ঘাঁটি, তিনটি ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তর এবং দুটি সেক্টর সদর দপ্তর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি ৮০টির বেশি ট্যাংক, কামান ও সাঁজোয়া যান ধ্বংস করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

মুশাররফ জাইদি বলেন, 'দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় পাকিস্তানের তাৎক্ষণিক ও কার্যকর প্রতিক্রিয়া চলমান রয়েছে।'

এই ঘটনার পর সীমান্তের দুই পাশে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এই সংঘর্ষ আরও বড় কোনো সংঘাতে রূপ নিতে পারে।