এনবিএস ওয়েবডেস্ক প্রকাশিত: ২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০২:৩০ পিএম

পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে শুরু হওয়া রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ থামাতে মাঠে নামছে সৌদি আরব ও কাতার। দুদেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা নিরসনে জরুরি ভিত্তিতে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে তারা। বার্তাসংস্থা এএফপিকে নাম প্রকাশ না করা শর্তে শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সংশ্লিষ্ট এক সূত্র এ তথ্য জানিয়েছেন।
সূত্রটি বলেছে, "কাতারের সঙ্গে সমন্বয় করে সৌদি আরব পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা নিরসনে প্রয়োজনীয় কাজ করছে। তাদের লক্ষ্য হলো পরিস্থিতির আরও অবনতি ঠেকানো। এছাড়া সংঘর্ষ যেন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে না যায় সে ব্যাপারেও কাজ করা হচ্ছে।"
এই কূটনৈতিক উদ্যোগের খবর এমন এক সময়ে এলো, যখন গত ২৪ ঘণ্টায় সংঘর্ষ তীব্র আকার ধারণ করেছে। পাকিস্তান দাবি করেছে, আফগানিস্তানের সেনাবাহিনীর অন্তত ২২টি অবকাঠামো লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। ইসলামাবাদের দাবি, এসব হামলায় আফগানিস্তানের ২৭৪ সেনা নিহত হয়েছে। অপরদিকে নিজেদের ১২ সেনা নিহতের তথ্য জানিয়েছে পাকিস্তান।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে অবস্থানরত পাক সেনাদের ওপর সমন্বিত হামলা চালায় আফগান বাহিনী। এর আগে রোববার পাকিস্তান আফগানিস্তানে বিমান হামলা চালিয়েছিল, সেটির জবাব দিতেই এই হামলা চালানো হয় বলে জানা গেছে।
আফগানদের হামলার জবাবে রাত থেকেই পাল্টা হামলা শুরু করে পাকিস্তান। রাজধানী কাবুলসহ অন্তত চারটি প্রদেশে বিমান হামলা চালায় তারা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, কাবুলের আকাশে বিমানের গর্জন ও বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠে গোটা শহর।
এদিকে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মিডিয়া উইংয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী আফগানিস্তানে অভিযান এখনো অব্যাহত আছে। তিনি বলেন, "আমাদের লক্ষ্য সন্ত্রাসী ঘাঁটি ধ্বংস করা এবং সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।"
পাকিস্তানের এমন ঘোষণার মধ্যে আফগানিস্তানের সেনাপ্রধান ফাসিউদ্দিন ফিত্রাত হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, "যদি পাকিস্তান সামনে আরও হামলা চালায়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আরও শক্তিশালী এবং জোরালো জবাব দেওয়া হবে।"
এই হুশিয়ারির পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সৌদি আরব ও কাতারের মধ্যস্থতা না এগোলে এই সংঘাত আরও বড় আকার ধারণ করতে পারে। তবে সৌদি-কাতারের উদ্যোগ কতটা কার্যকর হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।