ঢাকা, শুক্রবার, মার্চ ১৩, ২০২৬ | ২৮ ফাল্গুন ১৪৩২
Logo
logo

সীমান্তে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, ২৭৪ বনাম ৫৫—কার দাবি সত্য?


এনবিএস ওয়েবডেস্ক   প্রকাশিত:  ২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৪:০২ পিএম

সীমান্তে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, ২৭৪ বনাম ৫৫—কার দাবি সত্য?

পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা এখন চরমে। বিমান হামলা, চৌকি দখল, হতাহতের সংখ্যা—সব মিলিয়ে দুই দেশের পাল্টাপাল্টি দাবিতে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়ে উঠেছে। কে কতটা ক্ষতি করেছে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক।

২২ স্থানে বিমান হামলার দাবি পাকিস্তানের

আফগানিস্তানের ভেতরে ২২টি স্থানে বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী—এমনটাই দাবি করেছে ইসলামাবাদ। শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা ইন্টার সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস-এর (আইএসপিআর) মহাপরিচালক আহমেদ শরিফ চৌধুরী এ তথ্য জানান।

তার দাবি, এসব হামলায় ২৭৪ জন তালেবান যোদ্ধা নিহত এবং ৪০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। পাশাপাশি তালেবানের অন্তত ১১৫টি ট্যাংক, সাঁজোয়া যান (এপিসি) ও কামান ধ্বংস করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তবে **আল জাজিরা**সহ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো স্বতন্ত্রভাবে এই হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির সংখ্যা যাচাই করতে পারেনি।

চৌকি ধ্বংস ও সেনা হতাহতের হিসাব

পাকিস্তানি সামরিক মুখপাত্রের ব্রিফিংয়ে আরও বলা হয়, ২২টি ভিন্ন স্থানে তালেবানের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। এতে অন্তত ৮৩টি চৌকি ধ্বংস এবং ১৭টি চৌকি পাকিস্তানি বাহিনীর দখলে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

এই সংঘর্ষে পাকিস্তানের ১২ জন সেনা নিহত এবং আরও ২৭ জন আহত হয়েছেন—এ তথ্যও নিশ্চিত করেছে আইএসপিআর।

কাবুলের পাল্টা দাবি

অন্যদিকে, আফগানিস্তানের অন্তর্বর্তীকালীন তালেবান সরকার পাকিস্তানের সব দাবি নাকচ করেছে। কাবুল থেকে জানানো হয়েছে, লড়াইয়ে অন্তত ৫৫ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছেন এবং ১৯টি পাকিস্তানি সামরিক চৌকি তারা দখল করেছে।

দুই দেশের বক্তব্যে স্পষ্ট পার্থক্য থাকায় প্রকৃত চিত্র নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।

উত্তেজনার শুরু কোথায়?

গত রোববার আফগানিস্তানে কিছু সশস্ত্র জঙ্গি আস্তানা লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালায় পাকিস্তান। এরপর থেকেই উত্তেজনা বাড়তে থাকে। আজ ভোরে আফগানিস্তানের প্রধান শহরগুলোতে পাকিস্তান বিমান হামলা চালিয়েছে বলে ইসলামাবাদ ও কাবুল—দুই পক্ষই নিশ্চিত করেছে।

পাল্টাপাল্টি বিমান ও স্থল হামলায় সীমান্তসংলগ্ন তালেবানের সামরিক পোস্ট, সদর দপ্তর ও গোলাবারুদের ডিপো ধ্বংস হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

‘সরাসরি যুদ্ধে’ রূপ নিচ্ছে সংঘাত?

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেছেন, দুই প্রতিবেশী দেশের এই সংঘাত এখন ‘সরাসরি যুদ্ধে’ রূপ নিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে দক্ষিণ এশিয়ায় নিরাপত্তা সংকট আরও গভীর হতে পারে। আপাতত সীমান্তে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে, আর দুই দেশের জনগণ তাকিয়ে আছে পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।