ঢাকা, বুধবার, মার্চ ১১, ২০২৬ | ২৬ ফাল্গুন ১৪৩২
Logo
logo

মা-বাবা-স্ত্রী-সন্তান হারিয়ে সুপ্রিম লিডার মোজতবা, আরও ক্ষিপ্র হওয়ার আশঙ্কা বিশ্লেষকদের


এনবিএস ওয়েবডেস্ক   প্রকাশিত:  ০৯ মার্চ, ২০২৬, ০৭:০৩ পিএম

মা-বাবা-স্ত্রী-সন্তান হারিয়ে সুপ্রিম লিডার মোজতবা, আরও ক্ষিপ্র হওয়ার আশঙ্কা বিশ্লেষকদের

আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর প্রায় এক সপ্তাহ পর ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন তার ছেলে মোজতবা খামেনি। এই নেতৃত্ব পরিবর্তন নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।

সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা তাদের এক বিশ্লেষণে বলেছে, মোজতবা খামেনির সুপ্রিম লিডার হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সিদ্ধান্তকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে। কারণ আলি খামেনিকে হত্যা করা হলেও তার জায়গায় আবারও একজন কট্টরপন্থি নেতাই ক্ষমতায় এলেন।

বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, আলি খামেনি কট্টরপন্থি নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। এখন তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন তার ছেলে মোজতবা, যাকে নিয়েও একই ধরনের ধারণা রয়েছে। ফলে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—আলি খামেনিকে হত্যা করে আসলে কী অর্জন করল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল?

ওয়াশিংটনভিত্তিক স্টিমসন ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ বারবারা স্লাভিন আলজাজিরাকে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগে বলেছিলেন, মোজতবা তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নন। কিন্তু তাকে সুপ্রিম লিডার হিসেবে নির্বাচিত করার মাধ্যমে কার্যত তার চোখের দিকেই আঙুল তোলা হয়েছে।”

তার মতে, এই ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের পুরো কৌশলকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে। কারণ আয়াতুল্লাহ খামেনিকে হত্যার পর তার ছেলেকেই ক্ষমতায় বসানো হয়েছে—যিনি হয়তো তার বাবার চেয়েও আরও ক্ষিপ্র ও কঠোর হতে পারেন।

বারবারা স্লাভিন বলেন, “মোজতবা খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বড় ব্যক্তিগত ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এক সপ্তাহ আগে ইসরায়েলি হামলায় তিনি তার মা, বাবা, স্ত্রী এবং এক ছেলেকে হারিয়েছেন। এমন পরিস্থিতি তাকে আরও কঠোর অবস্থানে নিয়ে যেতে পারে।”

বিশ্লেষকদের মতে, গত কয়েক বছর ধরেই মোজতবা খামেনি সরাসরি না হলেও তার বাবার সঙ্গে ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্রে ভূমিকা রাখছিলেন। ফলে দেশের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা কাঠামোর সঙ্গে তিনি ভালোভাবেই পরিচিত।

ইরান বর্তমানে যে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে, সেই সময়ে তাকে সুপ্রিম লিডার করা অনেকের কাছে যৌক্তিক বলেও মনে করা হচ্ছে। কারণ তিনি দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের চেনেন এবং দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষমতার ভেতরের কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত।

তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মোজতবা খামেনি এমন নেতা হবেন না যিনি ইরানে মানবাধিকার বা গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে আনার পথে বড় কোনো পরিবর্তন আনবেন।