এনবিএস ওয়েবডেস্ক প্রকাশিত: ০৯ মার্চ, ২০২৬, ০৭:০৩ পিএম

কাতার ও মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় দেশগুলোতে ইরানের হামলার কারণে ‘বিশ্বাসঘাতকতার’ অভিযোগ তুলেছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুলরহমান বিন জসিম বিন জাবের আল থানি।
রোববার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম স্কাই নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “কাতার এবং উপসাগরীয় অন্যান্য দেশ—আমরা বারবার বলেছি যে ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধে আমরা অংশ নিচ্ছি না। কোনোভাবেই উত্তেজনা বৃদ্ধি করতে চাই না; বরং কূটনৈতিকভাবে সংকট সমাধান করার চেষ্টা করছি।”
তিনি আরও জানান, “কিন্তু যুদ্ধ শুরুর এক ঘণ্টার মধ্যেই আমরা লক্ষ্য করেছি, কাতার ও অন্যান্য উপসাগরীয় দেশগুলোতে নির্বিচারে হামলা চালাচ্ছে ইরান। সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান ক্ষমা চাইলেও, আমাদের লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ অব্যাহত রেখেছে ইরান।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এটি বড় ধরনের বিশ্বাসঘাতকতা। বন্ধুসুলভ প্রতিবেশী দেশগুলোতে হামলা চালিয়ে ইরান যে ভুল করছে, তা সবকিছু ধ্বংস করবে। তবে আমরা কোনো প্রতিশোধমূলক হামলায় যাবো না; বরং ইরানের সঙ্গে সংলাপ এবং কূটনৈতিক পন্থায় সংকট সমাধানে আমাদের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাব।”
ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাঘাঁটিগুলো ব্যবহৃত হচ্ছে। ইরান মূলত এসব সেনাঘাঁটি এবং মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। পাশাপাশি, গত কয়েক দিনে সৌদি, কুয়েত এবং কাতারের সরকারি ভবন ও জ্বালানি অবকাঠামোতেও কয়েক দফা হামলার ঘটনা ঘটেছে।
কাতারের রাজধানী দোহার অদূরে মরুভূমিতে অবস্থিত ২৪ হেক্টরের আল-উদেইদ বিমানঘাঁটি মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের ফরওয়ার্ড সদর দপ্তর হিসেবে কাজ করছে। এখান থেকেই পশ্চিমে মিসর থেকে পূর্বে কাজাখস্তান পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলে মার্কিন সামরিক অভিযান পরিচালিত হয়। মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তম এই ঘাঁটিতে প্রায় ১০ হাজার সৈন্য মোতায়েন রয়েছে।