ঢাকা, বৃহস্পতিবার, মার্চ ১২, ২০২৬ | ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২
Logo
logo

তানজিদের তাণ্ডবে পাকিস্তান লণ্ডভণ্ড! নাহিদের ফাইফারে গুঁড়িয়ে দিয়ে বড় জয় বাংলাদেশের


এনবিএস ওয়েবডেস্ক   প্রকাশিত:  ১১ মার্চ, ২০২৬, ১১:০৩ পিএম

তানজিদের তাণ্ডবে পাকিস্তান লণ্ডভণ্ড! নাহিদের ফাইফারে গুঁড়িয়ে দিয়ে বড় জয় বাংলাদেশের

কয়েক মাসের বিরতির পর ওয়ানডে ক্রিকেটে ফিরেই দারুণ বার্তা দিল বাংলাদেশ। বল হাতে প্রতিপক্ষকে ধসিয়ে দেওয়া, আর ব্যাট হাতে ঝড় তুলে সহজ জয়—সব মিলিয়ে যেন পুরো ম্যাচটাই ছিল টাইগারদের দখলে। নিজেদের ওয়ানডে ইতিহাসে পাকিস্তানকে সর্বনিম্ন রানে অলআউট করার পর ব্যাটিংয়েও রীতিমতো তাণ্ডব চালালেন বাংলাদেশের ব্যাটাররা। বিশেষ করে তানজিদ হাসান তামিমের সামনে বল ফেলতেই হিমশিম খেয়েছেন শাহিন আফ্রিদিরা। তার অপরাজিত ফিফটির সুবাদে ৮ উইকেটের বড় জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ।

টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে ৩০.৪ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে মাত্র ১১৪ রান করে পাকিস্তান। বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডেতে এটিই পাকিস্তানের সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহ। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৩৭ রান করেন ফাহিম আশরাফ। বাংলাদেশের হয়ে দুর্দান্ত বোলিং করে ২৪ রানে ৫ উইকেট নেন নাহিদ। জবাবে মাত্র ১৫.১ ওভারে দুই উইকেট হারিয়ে সহজেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় টাইগাররা।

ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। ৪ রান করে আউট হয়ে ফেরেন ওপেনার সাইফ হাসান। ২৭ রানে ভাঙে উদ্বোধনী জুটি। তবে সাইফ ব্যর্থ হলেও অন্য প্রান্তে রীতিমতো ঝড় তোলেন তানজিদ হাসান তামিম।

শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করা তামিমের কল্যাণে বাংলাদেশ দ্রুতই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। মাত্র ৩২ বলেই ফিফটি পূর্ণ করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ৪২ বলে ৬৭ রানে অপরাজিত থাকেন এই তরুণ ওপেনার। তার ইনিংসে ছিল দৃষ্টিনন্দন সব শট। অন্যদিকে ৩৩ বলে ২৭ রান করে দলকে জয়ের খুব কাছে পৌঁছে দেন নাজমুল হোসেন শান্ত।

এর আগে বল হাতেও দাপট দেখায় বাংলাদেশ। নতুন বলে নিয়ন্ত্রিত বোলিং করেন তাসকিন আহমেদ ও মুস্তাফিজুর রহমান। তবে উইকেটের দেখা পাননি এই দুই অভিজ্ঞ পেসার। ফলে ইনিংসের সপ্তম ওভারেই স্পিন আক্রমণে যান অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ। নিজেও বোলিংয়ে আসেন, কিন্তু তাতেও আসে না কাঙ্ক্ষিত সাফল্য।

পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে তাসকিনকে সরিয়ে নাহিদের হাতে বল তুলে দেন মিরাজ। আর তাতেই যেন বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। আক্রমণে এসেই দলকে ব্রেকথ্রু এনে দেন এই তরুণ পেসার। ওভারের শেষ বলে কাট করতে গিয়ে পয়েন্টে আফিফ হোসেনের হাতে ধরা পড়েন সাহিবজাদা ফারহান। ২৭ রান করে ফেরেন এই ওপেনার, ভেঙে যায় ৪১ রানের উদ্বোধনী জুটি।

এরপর যেন একাই পাকিস্তানের টপ অর্ডার ভেঙে দেন নাহিদ। নিজের পরের চার ওভারের প্রতিটিতেই উইকেট তুলে নেন তিনি। শ্যামল হোসাইন, মাজ সাদাকাত, মোহাম্মদ রিজওয়ান এবং সালমান আলি আগাকে সাজঘরে ফেরান এই ডানহাতি পেসার। এতে পূর্ণ হয় তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম ফাইফার।

১৯তম ওভারে নাহিদের সঙ্গে উইকেট শিকারে যোগ দেন অধিনায়ক মিরাজও। ওভারের শেষ বলে আব্দুল সামাদকে লিটনের গ্লাভসে ক্যাচ বানিয়ে ফেরান তিনি। এরপর হোসাইন তালাতকেও আউট করেন মিরাজ। ২৩তম ওভারের প্রথম বলেই তাকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। একই ওভারের শেষ বলে ফেরান শাহিন আফ্রিদিকেও।

দ্বিতীয় স্পেলে ফিরে উইকেটের দেখা পান তাসকিন আহমেদ। ২৪তম ওভারের পঞ্চম বলে প্রথম স্লিপে নাজমুল হোসেন শান্তর হাতে ক্যাচ তুলে দেন মোহাম্মদ ওয়াসিম।

৮২ রানে নবম উইকেট হারানোর পর একশ রানের আগেই অলআউট হওয়ার শঙ্কায় পড়ে পাকিস্তান। তবে ফাহিম আশরাফ কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন। আবরার আহমেদকে সঙ্গে নিয়ে শেষ উইকেটে ৩২ রানের জুটি গড়েন তিনি। ফাহিমের ৩৭ রানের ইনিংসে ভর করে শেষ পর্যন্ত কোনোমতে একশ পেরিয়ে অলআউট হয় পাকিস্তান।