ঢাকা, বৃহস্পতিবার, মার্চ ১২, ২০২৬ | ২৮ ফাল্গুন ১৪৩২
Logo
logo

ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সংসদে ঐক্যের ডাক তারেক রহমানের, সব দলের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী


এনবিএস ওয়েবডেস্ক   প্রকাশিত:  ১২ মার্চ, ২০২৬, ০৪:০৩ পিএম

ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সংসদে ঐক্যের ডাক তারেক রহমানের, সব দলের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

ফ্যাসিবাদের নির্মমতা, অসংখ্য মানুষের কান্না আর হাজারো প্রাণের আত্মত্যাগ—এই ইতিহাসের ভেতর দিয়েই নতুন এক জাতীয় সংসদের যাত্রা শুরু হলো। প্রধানমন্ত্রী ও সংসদনেতা তারেক রহমান বলেছেন, এসব ত্যাগের ফলেই সত্যিকার অর্থে একটি জনপ্রতিনিধিত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক জাতীয় সংসদের সূচনা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের শুরুতে দেওয়া স্বাগত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এই সংসদে তিনি পুরো দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন। দল, মত, ধর্ম বা বর্ণের ভেদাভেদ নয়—তার রাজনীতি দেশ ও জনগণের স্বার্থ রক্ষার রাজনীতি।

বক্তব্যের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালে স্বাধীনতা রক্ষা ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে নিহত শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার নানা ঘটনার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, গুম, খুন, আয়নাঘরের বন্দিশালা—এমন নানা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন অনেক মানুষ। বহু পরিবার হারিয়েছে তাদের স্বজনদের। তাদের অবদান কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করা উচিত।

তারেক রহমান বলেন, কোনো নিপীড়ন-নির্যাতন দিয়েই দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে দমিয়ে রাখা যায়নি। সাহসী ছাত্র-জনতার ভূমিকাতেই দেশে আবার গণতন্ত্র ফিরে এসেছে।

খালেদা জিয়াকে স্মরণ

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে স্মরণ করে তিনি বলেন, সংসদীয় গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তিনি সারাজীবন আপসহীন লড়াই করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়া কখনোই স্বৈরাচার বা ফ্যাসিবাদের সঙ্গে আপস করেননি। দুর্ভাগ্যজনকভাবে দেশের এই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তটি তিনি দেখে যেতে পারেননি। তাই সংসদে দাঁড়িয়ে তাকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন সবাই।

জিয়াউর রহমানের উক্তি তুলে ধরলেন

বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের একটি বিখ্যাত উক্তি তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “জনগণই যদি রাজনৈতিক দল হয়, তাহলে আমি সেই দলেরই আছি।”

এই উক্তির ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তারেক রহমান বলেন, ব্যক্তি বা দলের চেয়ে জনগণের স্বার্থই সবচেয়ে বড়—এটাই বিএনপির রাজনীতির মূল কথা। প্রতিটি পরিবারকে স্বনির্ভর করে একটি সমৃদ্ধ, নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায় বিএনপি।

এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে তিনি সংসদে উপস্থিত সব দলের সংসদ সদস্যদের সমর্থন ও সহযোগিতা কামনা করেন।

সংসদকে কার্যকর করার অঙ্গীকার

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের দল বা মত আলাদা হতে পারে, কিন্তু একটি ফ্যাসিবাদমুক্ত, স্বাধীন, সার্বভৌম ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার বিষয়ে কোনো মতভেদ থাকার কথা নয়।

তিনি অভিযোগ করেন, বিগত সরকার জাতীয় সংসদকে কার্যত অকার্যকর করে রেখেছিল। নতুন সংসদকে তিনি যুক্তি-তর্ক, আলোচনা এবং জাতীয় সমস্যা সমাধানের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে চান।

স্পিকার না থাকার প্রসঙ্গ

নতুন সংসদের শুরুতেই স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার না থাকার বিষয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, পতিত ও বিতাড়িত ফ্যাসিস্ট সরকারের গণবিরোধী কর্মকাণ্ডের ফলে যে জনরোষ তৈরি হয়েছিল, তার কারণে সাবেক স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। কেউ কারাগারে, কেউ নিখোঁজ, আবার কেউ পলাতক।

তিনি বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসন ও শোষণের পর এক বিশেষ পরিস্থিতিতে জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে সংসদের কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।

প্রবীণ রাজনীতিবিদকে সভাপতিত্বের প্রস্তাব

পরে সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করার জন্য প্রবীণ রাজনীতিবিদ ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম প্রস্তাব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

এ প্রসঙ্গে একটি ঐতিহাসিক নজিরও তুলে ধরেন তিনি। বলেন, ১৯৭৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমানও ওই সংসদের সদস্য মাওলানা আব্দুর রশীদ তর্কবাগীশের নাম একইভাবে প্রস্তাব করেছিলেন।