এনবিএস ওয়েবডেস্ক প্রকাশিত: ১২ মার্চ, ২০২৬, ০৭:০৩ পিএম

ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই যুদ্ধের পরিস্থিতি নিয়ে বেশ আশাবাদী চিত্র তুলে ধরেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, যুদ্ধক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় পূর্ণাঙ্গ সফলতা অর্জন করেছে। একইসঙ্গে বড় তেল কোম্পানিগুলোকে নির্ভয়ে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তাদের জাহাজ চলাচল করারও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
ওয়াশিংটন ডিসিতে পৌঁছানোর পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, মার্কিন বাহিনী ইরানের নৌবাহিনীকে প্রায় ধ্বংস করে দিচ্ছে। হরমুজ প্রণালী নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমরা কড়া নজর রাখছি।”
এ সময় ট্রাম্প জানান, তিনি বড় বড় তেল কোম্পানির প্রধান নির্বাহীদের (সিইও) সঙ্গেও কথা বলেছেন। তাদের তিনি পরামর্শ দিয়েছেন যেন তারা আবারও হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল শুরু করে। প্রেসিডেন্টের দাবি, ওই প্রণালী থেকে সব মাইন ইতোমধ্যেই সরিয়ে ফেলেছে যুক্তরাষ্ট্র।
তবে ট্রাম্পের এই আশ্বাসের পরও তেল কোম্পানিগুলোর মধ্যে উদ্বেগ কাটেনি। কারণ সাম্প্রতিক সময়েই ওই অঞ্চলে তিনটি জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া ইরাকি তেলবাহী দুটি জাহাজেও হামলা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে শঙ্কা তৈরি করেছে।
মিলিটারি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্রাম্প মাইন সরানোর কথা বললেও ইরানের কৌশল শুধু মাইনের ওপর নির্ভরশীল নয়। তাদের মতে, সাবমেরিন বা বিস্ফোরক বোঝাই ছোট নৌকার মাধ্যমেও হামলা চালাতে পারে তেহরান। ইরাকের জলসীমায় এর আগেও এমন কৌশলের নজির দেখা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প যেখানে যুদ্ধের শেষ দেখতে পাচ্ছেন এবং ইরানের পতন আসন্ন বলে দাবি করছেন, বাস্তবে পরিস্থিতি ততটা সহজ নয়। বরং অনেকের ধারণা, চাপের মুখে পিছু না হটে তেহরান আরও শক্ত অবস্থান নিচ্ছে।
কথোপকথনের এক পর্যায়ে ট্রাম্প ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে ইরানের বিদ্যুৎ গ্রিড অচল করে দিতে পারে। তবে তিনি দ্রুতই যোগ করেন, “আমরা আসলে এমনটা করতে চাই না।”
এই বক্তব্য কেবল রাজনৈতিক বার্তা, নাকি বাস্তব কোনো সামরিক হুমকির ইঙ্গিত—তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি।