ঢাকা, রবিবার, মার্চ ১৫, ২০২৬ | ৩০ ফাল্গুন ১৪৩২
Logo
logo

দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় তাকি পরিবারের ৯ সদস্য নিহত, খেলতে থাকা চার বোনও প্রাণ হারাল


এনবিএস ওয়েবডেস্ক   প্রকাশিত:  ১৪ মার্চ, ২০২৬, ০৭:০৩ পিএম

দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় তাকি পরিবারের ৯ সদস্য নিহত, খেলতে থাকা চার বোনও প্রাণ হারাল

দক্ষিণ লেবাননের ছোট্ট গ্রাম ইর্কায়। কয়েকদিন আগেও যেখানে শোনা যেত শিশুদের হাসি আর খেলাধুলার শব্দ, সেখানে এখন শুধু নীরবতা আর কান্নার আর্তনাদ। এক ইসরায়েলি বিমান হামলায় মুহূর্তের মধ্যে ভেঙে পড়েছে তাকি পরিবারের সুখের সংসার।

গত বৃহস্পতিবারের সেই হামলায় তাকি পরিবারের মোট ৯ জন সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছে চারটি নিষ্পাপ শিশু।

খেলতে খেলতেই মৃত্যু

১৩ বছরের জয়নব, ১২ বছরের জোহরা, ৯ বছরের মালিকা এবং মাত্র ৬ বছরের ছোট্ট ইয়াসমিনা— চার বোন।

বুধবার বিকেলে তারা দাদা-দাদির বাড়ির উঠানে একসঙ্গে খেলছিল। হঠাৎ আকাশ থেকে নেমে আসে একটি মরণঘাতী ক্ষেপণাস্ত্র। কোনো সতর্কতা ছাড়াই মুহূর্তের মধ্যে থেমে যায় তাদের শৈশবের হাসি।

শুধু এই চার বোনই নয়— ওই হামলায় মারা যান তাদের দাদা-দাদি, দুই চাচা এবং এক চাচাতো ভাই।

অর্থাৎ একটি পরিবারের নয়জন সদস্য একসঙ্গে প্রাণ হারান।

কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে গ্রাম

পরদিন সকালে যখন অ্যাম্বুলেন্স থেকে একের পর এক সাদা কাফনে মোড়ানো দেহ নামানো হচ্ছিল, তখন গোটা গ্রামের বাতাস ভারী হয়ে ওঠে স্বজনদের গগনবিদারী কান্নায়।

একটি পুরোনো চাদরের ভেতরে রাখা ছিল দুটি ছিন্নভিন্ন দেহ।

মা সুজান তাকি নিজেই কবরের ভেতরে নেমে সন্তানদের শেষবারের মতো জড়িয়ে ধরেন।

বৃহস্পতিবার চার বোনকে তাদের দাদা-দাদি ও চাচাদের পাশেই সারি বেঁধে কবর দেওয়া হয়।

বাবার মনে রয়ে গেছে ছোট্ট একটি স্মৃতি

হামলার ক্ষত এখনও দগদগে বাবা মোহাম্মদ রিদা তাকির শরীরে। ব্যান্ডেজে মোড়া মুখ নিয়ে তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান, তার ছোট মেয়ে ইয়াসমিনার শেষ আবদারের কথা।

ইয়াসমিনা চেয়েছিল, তার গলায় এমন একটি নেকলেস থাকবে যেখানে নিজের নামের বদলে লেখা থাকবে— ‘বাবার আত্মা’।

সন্তানদের কবর দেওয়ার পর এখন সেই অসহায় বাবা ধ্বংসস্তূপের মধ্যে খুঁজে বেড়াচ্ছেন সেই ছোট্ট নেকলেসটি।

কারণ সেটিই এখন তার মেয়ের একমাত্র স্মৃতিচিহ্ন।

কী বলছে ইসরায়েলি বাহিনী

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) বৃহস্পতিবার পুরো দক্ষিণ লেবানন খালি করার নির্দেশ দিয়েছে।

তবে এই নির্দিষ্ট হামলার লক্ষ্যবস্তু কী ছিল, সে সম্পর্কে কোনো তথ্য দেয়নি তারা।

গ্রামবাসীদের দাবি, ওই এলাকায় কোনো সামরিক স্থাপনা ছিল না। সেখানে শুধু একটি বড়, সুখী পরিবার বসবাস করত— যারা মুহূর্তের মধ্যেই হারিয়ে গেল।