ঢাকা, রবিবার, মার্চ ১৫, ২০২৬ | ৩০ ফাল্গুন ১৪৩২
Logo
logo

সৌদি আরবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মার্কিন বাহিনীর পাঁচ রিফুয়েলিং যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত, বাড়ছে উত্তেজনা


এনবিএস ওয়েবডেস্ক   প্রকাশিত:  ১৪ মার্চ, ২০২৬, ০৭:০৩ পিএম

সৌদি আরবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মার্কিন বাহিনীর পাঁচ রিফুয়েলিং যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত, বাড়ছে উত্তেজনা

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর গত ১৪ দিনে ইরানের হামলায় সৌদি আরবে মার্কিন বিমান বাহিনীর ৫টি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

দুইজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করেছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।

কোথায় ছিল বিমানগুলো

কর্মকর্তাদের মতে, ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচটি উড়োজাহাজই সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন বিমানঘাঁটি প্রিন্স সুলতান এয়ার বেইস–এর।

সবগুলো বিমানই ছিল রি-ফুয়েলিং বিমান, যা আকাশে উড্ডয়নরত যুদ্ধবিমানকে জ্বালানি সরবরাহের কাজে ব্যবহৃত হয়।

কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলো

মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে গত কয়েক দিনে এই পাঁচটি বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তবে বিমানগুলো পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়নি। সেগুলো মেরামত করে আবারও ব্যবহারের উপযোগী করা সম্ভব।

এই ঘটনাগুলোর সময় কেউ নিহত বা আহত হয়নি বলেও নিশ্চিত করেছেন কর্মকর্তারা।

আরেক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি

এদিকে গত শুক্রবার ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলে মার্কিন বিমান বাহিনীর একটি কেসি-১৩৫ রি-ফুয়েলিং যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে।

বিমানটিতে চালক ও সহ-চালকসহ মোট ৬ জন ক্রু সদস্য ছিলেন। তাদের মধ্যে চারজন নিহত হয়েছেন এবং বাকি দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

কেন গুরুত্বপূর্ণ রিফুয়েলিং বিমান

উড়ন্ত অবস্থায় যুদ্ধবিমানকে জ্বালানি সরবরাহ করার জন্য বিশেষ ধরনের রি-ফুয়েলিং বিমান ব্যবহার করা হয়।

গত শতকের পঞ্চাশের দশক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনী নিয়মিত এই ধরনের উড়োজাহাজ ব্যবহার করছে।

এই বিমানগুলো মার্কিন সামরিক অভিযানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, কারণ এগুলো যুদ্ধবিমানকে দীর্ঘ সময় আকাশে থাকার সক্ষমতা দেয়।

সংঘাতের পেছনের প্রেক্ষাপট

ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে ২১ দিন ধরে আলোচনা চলেছিল।

তবে ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো সমঝোতা ছাড়াই সেই সংলাপ শেষ হয়।

এরপর ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে মার্কিন সামরিক বাহিনী শুরু করে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’।

একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ইসরায়েলও ইরানে শুরু করে ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামের সামরিক অভিযান।

পাল্টা হামলা চালাচ্ছে ইরান

এই হামলার জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে একের পর এক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে।

সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ওমানে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হচ্ছে।

ইরানের এই পাল্টা আক্রমণ এখনও অব্যাহত রয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।