এনবিএস ওয়েবডেস্ক প্রকাশিত: ১৫ মার্চ, ২০২৬, ০৪:০৩ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাতের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়তেই বহু লেবানিজ প্রবাসীর মনে জেগে উঠছে বহু পুরনো দুঃস্বপ্ন। বিশেষ করে যারা ১৯৭৫ থেকে ১৯৯০ সালের ভয়াবহ লেবানন গৃহযুদ্ধের সময় বড় হয়েছেন এবং পরে সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) নতুন জীবন শুরু করেছেন, তাদের অনেকেরই দীর্ঘদিন চাপা পড়ে থাকা মানসিক ক্ষত আবারও সামনে চলে আসছে।
দুবাইয়ে বসবাসকারী এক লেবানিজ নারী, যিনি নিরাপত্তার কারণে নিজের নাম প্রকাশ করতে চাননি, সিএনএনকে জানান—ইসরায়েলি হামলা শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে তিনি বৈরুতে গিয়েছিলেন। এখন সম্ভাব্য স্থল অভিযানের আশঙ্কায় তার রাত কাটছে উদ্বেগ আর নির্ঘুমতায়।
দীর্ঘশ্বাস ফেলে তিনি বলেন,
“আমি ১৯৮২ সালের সেই ভয়াবহতা নিজের চোখে দেখেছি। দ্বিতীয়বার সেই নরকযন্ত্রণা সহ্য করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। আমার শৈশবের স্মৃতি কোনো খেলার মাঠ বা আনন্দের নয়। বরং বাঙ্কারের ভেতরে দম বন্ধ করা পরিবেশে কান ফাটানো বিস্ফোরণের শব্দ শুনে কাটানো সময়ই আমার শৈশব।”
বর্তমানে বৈরুতে আটকে থাকা এই নারী যত দ্রুত সম্ভব দুবাই ফিরে যেতে চান।
রামা নামের আরেক লেবানিজ প্রবাসীর গল্পও প্রায় একই রকম। তিনিও বড় হয়েছেন বৈরুতের বোমা বিস্ফোরণ আর অবিরাম গোলাগুলির আতঙ্কের মধ্যে। দুই সপ্তাহ আগে দুবাইয়ে যুদ্ধের প্রথম বিস্ফোরণের খবর শোনার পরই তিনি বুঝতে পারেন—শৈশবের সেই ক্ষত আসলে কখনও মুছে যায়নি।
রামা বলেন,“বিস্ফোরণের শব্দ শোনার সঙ্গে সঙ্গে আমার শরীর অদ্ভুতভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাতে শুরু করে। বুক ধড়ফড় করতে থাকে, রাতে ঘুম আসে না, এমনকি বাইরে বের হতেও ভয় লাগে। ২৫ বছর বিদেশে শান্তিতে থাকার পর আমি ভেবেছিলাম সবকিছু ভুলে গেছি। কিন্তু সেই চেনা মৃত্যুঘণ্টা বাজতেই বুঝলাম—পুরনো ট্রমাগুলো আসলে আমার ভেতরে চাপা আগুনের মতো রয়ে গেছে।”
তিনি আরও বলেন,“আমি জানি সংযুক্ত আরব আমিরাতে আমি নিরাপদ। কিন্তু শৈশবের সেই ভয় আর স্মৃতিগুলো আমাকে এখনও গভীরভাবে নাড়িয়ে দেয়।”
তবে আপাতত দুবাইতেই থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রামা। তিনি স্মরণ করেন প্রখ্যাত লেবানিজ-আমেরিকান কবি Khalil Gibran-এর একটি বিখ্যাত উক্তি—
“যে ভূমি তোমাকে সম্মান দেয়, সেটিই তোমার স্বদেশ।”