ঢাকা, শনিবার, মার্চ ২৮, ২০২৬ | ১৩ চৈত্র ১৪৩২
Logo
logo

ইরানের 'নৃত্যরত' মৃত্যুঞ্জয়! প্রথমবার যুদ্ধে নামল সেজ্জিল-২ হাইপারসনিক মিসাইল


এনবিএস ওয়েবডেস্ক   প্রকাশিত:  ১৬ মার্চ, ২০২৬, ০৭:০৩ পিএম

ইরানের 'নৃত্যরত' মৃত্যুঞ্জয়! প্রথমবার যুদ্ধে নামল সেজ্জিল-২ হাইপারসনিক মিসাইল

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে নতুন মোড়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে প্রথমবারের মতো হাইপারসনিক 'সেজ্জিল-২' ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান। শব্দের চেয়ে ১৩ গুণ বেশি গতিতে ছুটে চলা এই ক্ষেপণাস্ত্র তার অভিনব গতিপথের জন্য ইতিমধ্যেই 'নৃত্যরত ক্ষেপণাস্ত্র' বা 'ড্যান্সিং মিসাইল' নামে পরিচিতি পেয়েছে।

গতকাল রোববার ছিল ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের ১৬তম দিন। এই দিনেই প্রথমবারের মতো যুদ্ধক্ষেত্রে নামানো হয় ইরানের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি এই অত্যাধুনিক অস্ত্র। ইরানের সরকারি টেলিভিশন চ্যানেল প্রেস টিভি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

এই ক্ষেপণাস্ত্রের আরও দুটি নাম রয়েছে— সাজ্জিল এবং আশুরা। এটি মূলত একটি শক্তিশালী মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র, যা একটানা ২ হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। দুই স্তরবিশিষ্ট এই ক্ষেপণাস্ত্র একসঙ্গে সর্বোচ্চ ৭০০ কেজি বিস্ফোরক বহন করতে পারে।

কেন একে 'নৃত্যরত' বলা হয়? কারণ, প্রচলিত ক্ষেপণাস্ত্র সাধারণত একটি নির্দিষ্ট প্যারাবোলাকার পথে ছুটলেও সেজ্জিল উচ্চ উচ্চতায় গিয়ে দিক পরিবর্তন করতে পারে। এই হাই-অল্টিচ্যুড ম্যানুয়েভারিং সক্ষমতার কারণেই এটি শত্রুপক্ষের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিয়ে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। পাশাপাশি, এতে তরল জ্বালানির পরিবর্তে 'সলিড জ্বালানি' ব্যবহার করা হয়, যা দ্রুত উৎক্ষেপণে সাহায্য করে।

যুক্তরাষ্ট্রের থিংকট্যাঙ্ক সংস্থা সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস) জানিয়েছে, সেজ্জিল ক্ষেপণাস্ত্রের দৈর্ঘ্য ১৮ মিটার (প্রায় ৫৫ ফুট), ব্যাস ১.২৫ মিটার (প্রায় সাড়ে ৪ ফুট) এবং ওজন প্রায় ১২ হাজার ৬০০ কেজি।

গত নব্বইয়ের দশকে এই মারাত্মক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কাজ শুরু করে ইরান। ২০০৮ সালে এর নির্মাণকাজ শেষ হয় এবং ওই বছরই প্রথম পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করা হয়। সেজ্জিলের দুটি সংস্করণ রয়েছে— স্বল্পপাল্লার সেজ্জিল-১ এবং মাঝারিপাল্লার সেজ্জিল-২। গতকাল রোববার যুদ্ধক্ষেত্রে যে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে, সেটি ছিল সেজ্জিল-২। ইরানের অস্ত্রভাণ্ডারে যে এখনও অনেক অমীমাংসিত শক্তি লুকিয়ে আছে, তারই জ্বলন্ত প্রমাণ এই হামলা।