এনবিএস ডিজিটাল ডেস্ক প্রকাশিত: ১৬ মার্চ, ২০২৬, ০৯:০৩ পিএম

চোরে না শোনে ধর্মের কাহিনী, আর সাপের বিষে নেই কোনো দয়া। আপনারা কি জানেন, দক্ষিণ এশিয়ায় অশান্তির মূল কারিগর কারা? যাদের ইশারায় সীমান্তে রক্ত ঝরে আর প্রতিবেশীর ঘর জ্বলে, সেই কুখ্যাত গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ এবং উগ্রবাদী সংগঠন ‘আরএসএস’ এখন খাদের কিনারায়! যুক্তরাষ্ট্রের এক শক্তিশালী রিপোর্টে তাদের সব মুখোশ খুলে গেছে। এবার কি তবে নিষেধাজ্ঞার জালে ধরা পড়ছে ভারতের এই বিষাক্ত শক্তিগুলো? বিস্তারিত জানলে আপনিও চমকে উঠবেন।
সত্য দীর্ঘকাল চেপে রাখা যায় না। ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং বা 'র' এবং কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠন আরএসএস-এর আসল চেহারা এবার বিশ্বমঞ্চে উন্মোচিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা কমিশন বা ইউএসসিআইআরএফ তাদের ২০২৬ সালের প্রতিবেদনে ভারতকে 'বিশেষ উদ্বেগপূর্ণ দেশ' হিসেবে ঘোষণা করার দাবি জানিয়েছে। ভারত এখন বিশ্বজুড়ে এক আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মার্কিন এই সংস্থাটি স্পষ্ট করে বলেছে যে, ২০২৫ সালে ভারতে ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিস্থিতি ভয়াবহ অবনতির দিকে গেছে। বিশেষ করে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা 'র' এবং আরএসএস-এর ওপর সুনির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এই দুটি সংস্থা কেবল ভারতের ভেতরে নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ার শান্তি ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করার পেছনে মূল ভূমিকা পালন করছে।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, আরএসএসের মতো উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলো সারা বছর ধরে মুসলিম এবং খ্রিস্টানদের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা ও উসকানি দিয়ে আসছে। ২০২৫ সালের মার্চে মহারাষ্ট্রে আওরঙ্গজেবের সমাধি নিয়ে যে দাঙ্গা বাঁধানো হয়েছিল, তার পেছনে ছিল এই উগ্রবাদীদের হাত। ভিএইচপি এবং আরএসএস মিলে ভারতের সেক্যুলার কাঠামোকে ধ্বংস করে এক উগ্র হিন্দুত্ববাদী রাষ্ট্র কায়েমের নেশায় মেতে উঠেছে।
মার্কিন সংস্থাটি ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে জোর সুপারিশ করেছে যেন আরএসএসের নেতাদের সম্পদ জব্দ করা হয় এবং তাদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়। ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা 'র' এর বিরুদ্ধে অভিযোগ যে, তারা প্রতিবেশী দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অবৈধ হস্তক্ষেপ করছে। ধর্মীয় স্বাধীনতা খর্ব করার মাধ্যমে ভারত এখন আন্তর্জাতিক আইনের তোয়াক্কা করছে না, যা পুরো বিশ্বের জন্য এক অশনিসংকেত।
কাশ্মীর থেকে শুরু করে আসাম পর্যন্ত ভারতের জুলুমের চিত্র এই রিপোর্টে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। গত জুলাই মাসে আসাম থেকে শত শত বাংলাভাষী মুসলিমকে জোর করে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে, যাদের অনেকেই বৈধ ভারতীয় নাগরিক। এই অমানবিক পুশব্যাক পলিসি এবং সংখ্যালঘুদের ভূমিহীন করার ষড়যন্ত্র আরএসএসের দীর্ঘদিনের এজেন্ডা, যা এখন রাষ্ট্রীয়ভাবে কার্যকর করার চেষ্টা চলছে।
শুধু তাই নয়, রোহিঙ্গাদের ওপর ভারতের অমানবিক আচরণের কথা শুনলে শিউরে উঠতে হয়। মে মাসে ৪০ জন রোহিঙ্গা শরণার্থীকে সমুদ্রে ফেলে দিয়ে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে ভারতীয় বাহিনী। মানবতা যেখানে ডুকরে কাঁদছে, সেখানে 'র' এবং আরএসএস মিলে ঘৃণা ছড়াচ্ছে। মার্কিন প্রতিবেদনে এই নিষ্ঠুরতাকে চিহ্নিত করে ভারতকে কালো তালিকায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যা ভারতের জন্য বড় লজ্জা।
যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রতিবেদন প্রমাণ করে যে, ভারতের উগ্রবাদী রাজনীতি এখন গ্লোবাল থ্রেট বা বিশ্বজনীন হুমকিতে পরিণত হয়েছে। ধর্মীয় স্বাধীনতার দোহাই দিয়ে ভারত যে ভণ্ডামি করছে, তা আর ধোপে টিকছে না। আরএসএসের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা এবং 'র' এর কর্মকর্তাদের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা এখন সময়ের দাবি। বিশ্ববাসী এখন দেখছে ভারতের গণতন্ত্রের আড়ালে লুকিয়ে থাকা সেই ভয়ংকর দানবীয় রূপ।
শেষে, ভারতের এই উগ্রবাদী সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে বিশ্ব জনমত গড়ে তোলার সময় এসেছে। 'র' এবং আরএসএস যদি এভাবে ছাড় পায়, তবে দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি কোনোদিনই আসবে না। যুক্তরাষ্ট্রের এই সাহসী পদক্ষেপ ভারত সরকারকে আন্তর্জাতিকভাবে একঘরে করে দেবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। ভারতের এই পতনোন্মুখ মানবাধিকার পরিস্থিতির দায় এখন সরাসরি তাদের গোয়েন্দা সংস্থা এবং কট্টর হিন্দুত্ববাদী নেতাদের ওপর বর্তায়।
ভারতের এই গোপন ষড়যন্ত্র এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞার এই দাবি নিয়ে আপনাদের মতামত কী? আরএসএস এবং 'র' কি আসলেই দক্ষিণ এশিয়ার জন্য হুমকি? কমেন্ট বক্সে আপনাদের মূল্যবান মতামত অবশ্যই জানাবেন।