ঢাকা, মঙ্গলবার, মার্চ ১৭, ২০২৬ | ৩ চৈত্র ১৪৩২
Logo
logo

কাবুলে মাগরিবের নামাজের সময় বিমান হামলা, ৪০৮ নিহত, পাকিস্তান বলছে লক্ষ্য ছিল সন্ত্রাসী অবকাঠামো


এনবিএস ওয়েবডেস্ক   প্রকাশিত:  ১৭ মার্চ, ২০২৬, ০৬:০৩ পিএম

কাবুলে মাগরিবের নামাজের সময় বিমান হামলা, ৪০৮ নিহত, পাকিস্তান বলছে লক্ষ্য ছিল সন্ত্রাসী অবকাঠামো

মাগরিবের নামাজের সময় ভয়াবহ বিমান হামলায় কেঁপে উঠেছে Kabul। এতে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৪০৮ জন। তবে এই হামলাকে ‘মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে আঘাত’ দাবি করাকে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর বলে উড়িয়ে দিয়েছে Pakistan।

পাকিস্তানের সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সোমবার রাতে কাবুলে সামরিক স্থাপনা ও সন্ত্রাসী সহায়তা অবকাঠামো লক্ষ্য করে নির্ভুলভাবে হামলা চালানো হয়েছে। দেশটির তথ্যমন্ত্রী Ataullah Tarar সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বলেন, “হামলার পর দ্বিতীয় দফার বিস্ফোরণগুলো বড় আকারের গোলাবারুদের মজুত থাকার ইঙ্গিত দেয়।”

দক্ষিণ এশিয়ার এই দুই মুসলিম দেশের উত্তেজনা কমাতে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে China। আলোচনায় ফেরার আহ্বানের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কাবুলে এই হামলা চালানো হয়।

গত মাসে শুরু হওয়া সংঘাত ২,৬০০ কিলোমিটার সীমান্ত ভাগাভাগি করা দুই প্রতিবেশীর মধ্যে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। যদিও চীনের মতো বন্ধুপ্রতীম দেশের উদ্যোগে কিছুটা শান্ত হয়েছিল পরিস্থিতি, তবে পবিত্র Eid al-Fitr-এর মাত্র কয়েক দিন আগে তা আবারও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

মধ্যপ্রাচ্যে Iran ও Israel-এর পাল্টাপাল্টি হামলার প্রভাব যখন পুরো অঞ্চলে অস্থিরতা বাড়াচ্ছে, তখনই দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

এটি ছিল কেয়ামতের মতো : বেঁচে ফেরা ব্যক্তির অভিজ্ঞতা

ঘটনাস্থলে একটি পোড়া একতলা ভবন দাঁড়িয়ে আছে, চারপাশে ধ্বংসস্তূপ। কোথাও কাঠ, কোথাও ধাতব ভাঙা অংশ। হাসপাতালের কয়েকটি শয্যা ছাড়া প্রায় সবকিছুই পুড়ে গেছে। রোগীদের কম্বল ও ব্যক্তিগত জিনিসপত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে।

আফগানিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র Abdul Matin Qani জানিয়েছেন, এই হামলায় ৪০৮ জন নিহত এবং ২৬৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের কাবুলের বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তবে মৃতদেহের সংখ্যা কীভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, হাসপাতালটি এমন জায়গায় ছিল যেখানে আগে একটি সামরিক ঘাঁটি ছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, মাগরিবের নামাজ শেষ করার সময় হঠাৎ তিনটি বোমা বিস্ফোরিত হয়। এর মধ্যে দুটি সরাসরি রোগীদের ওয়ার্ডে আঘাত হানে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৫০ বছর বয়সী আহমদ বলেন, “চারদিকে আগুন লেগে যায়। এটি ছিল কেয়ামতের মতো। আমার বন্ধুরা আগুনে পুড়ছিল, আমরা সবাইকে বাঁচাতে পারিনি।”

স্থানীয় ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, আগুনের শিখা পুরো ভবন গ্রাস করছে। উদ্ধারকর্মীরা স্ট্রেচারে করে মরদেহ সরিয়ে নিচ্ছেন। কাবুলের অ্যাম্বুলেন্স চালক হাজি ফাহিম বলেন, “রাতে এসে দেখি সবকিছু পুড়ছে, মানুষ পুড়ছে। ভোরেও আবার ডাকা হয়েছে— ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও অনেক মরদেহ রয়েছে।”

লাগাতার মিথ্যাচার, বলছে পাকিস্তান

তালেবানের উপ-মুখপাত্র Hamdullah Fitrat বলেন, সোমবার রাত ৯টার দিকে রাষ্ট্রায়ত্ত ‘ওমিদ হাসপাতালে’ এই হামলা চালানো হয়। তার দাবি, এটি ছিল ২ হাজার শয্যাবিশিষ্ট মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র।

তিনি আরও বলেন, হাসপাতালের বড় অংশ ধ্বংস হয়ে গেছে এবং নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। নিহতের সংখ্যা ৪০০ ছাড়িয়েছে এবং আহত হয়েছেন ২৫০ জন।

তালেবান মুখপাত্র Zabihullah Mujahid জানান, নিহতদের বেশিরভাগই নিরপরাধ বেসামরিক নাগরিক ও মাদকাসক্ত ব্যক্তি।

তবে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম Reuters জানিয়েছে, হতাহতের এই সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সংঘাতের সময় উভয় পক্ষই বড় ক্ষয়ক্ষতির দাবি করলেও নিরপেক্ষভাবে তা নিশ্চিত করা যায়নি।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের মুখপাত্র এই অভিযোগকে “অনবরত মিথ্যাচার” বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, সন্ত্রাসী ও তাদের অবকাঠামো ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত এই অভিযান চলবে।

স্থানীয় প্রতিবেদনে জানা গেছে, ২০১৬ সালে প্রতিষ্ঠিত কাবুলের ‘ওমিদ হাসপাতাল’-এ কয়েকশ মানুষ চিকিৎসা নেওয়ার পাশাপাশি সেলাই ও কাঠমিস্ত্রির মতো প্রশিক্ষণও পেতেন।

এই সংঘাতে উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে চীন। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র Lin Jian বলেন, উত্তেজনা কমাতে ও সম্পর্ক উন্নয়নে গঠনমূলক ভূমিকা রাখবে বেইজিং।

কাবুলে হাসপাতাল হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে India। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, পবিত্র রমজান মাসে এমন হামলা অত্যন্ত নিন্দনীয়।

এক সময়ের ঘনিষ্ঠ মিত্র পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে গত মাসে এই সংঘাত শুরু হয়। পাকিস্তানের দাবি, আফগান ভূখণ্ডে নিষিদ্ধঘোষিত Tehrik-i-Taliban Pakistan (টিটিপি)-এর ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছে। পাল্টা আফগানিস্তান একে সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করে প্রতিক্রিয়া জানায়।

ইসলামাবাদ অভিযোগ করে বলেছে, কাবুল থেকে জঙ্গিরা পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে। তবে তালেবান এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, উগ্রবাদ দমন করা পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয়।