এনবিএস ওয়েবডেস্ক প্রকাশিত: ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ০৩:০৪ পিএম

ভারতীয় ক্রিকেটে আবারও বড় আলোচনা তৈরি করেছেন গৌতম গম্ভীর। আইপিএল চলাকালেই ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)-এর কাছে নিজের চুক্তি বাড়ানোর আবেদন করেছেন তিনি। লক্ষ্য একটাই—২০২৮ সাল পর্যন্ত জাতীয় দলের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্বে থাকা।
গম্ভীরের অধীনে এখন পর্যন্ত ভারত দুটি বড় শিরোপা জিতেছে—ওয়ানডে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি এবং টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। এই সাফল্যের ওপর ভর করেই তিনি চুক্তি বাড়ানোর আবেদন করেছেন।
বর্তমানে তার চুক্তি আছে ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ পর্যন্ত। তবে একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে, গম্ভীর চান ২০২৮ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পর্যন্ত কোচ হিসেবে থাকতে। যদি বিসিসিআই এই প্রস্তাব মেনে নেয়, তাহলে ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলস অলিম্পিকেও ভারতের ডাগআউটে থাকতে পারেন তিনি।
তবে শুধু চুক্তি নয়, অধিনায়ক নিয়েও বড় একটি দাবি তুলেছেন গম্ভীর। তিনি চান, আগামী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পর্যন্ত সূর্যকুমার যাদবই টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক থাকুন।
এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে বোর্ডের ভেতরে দেখা দিয়েছে ভিন্নমত। বেশ কিছু কর্মকর্তা মনে করছেন, সূর্যকুমার বর্তমানে ফর্মে নেই এবং আইপিএলেও রান পাচ্ছেন না। তাই নেতৃত্বে পরিবর্তন আনার কথাও ভাবা হচ্ছে।
একাংশ কর্মকর্তার পরিকল্পনা হলো, ২০২৮ অলিম্পিক ও বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখে নতুন অধিনায়ক তৈরি করা। কিন্তু গম্ভীর এই মুহূর্তে ৩৫ বছর বয়সী সূর্যকুমারকেই নেতৃত্বে রাখতে চান। বিষয়টি নিয়ে বিসিসিআইয়ের ভেতরে কিছুটা বিস্ময়ও তৈরি হয়েছে।
বিশেষ করে বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মাদের টেস্ট দল থেকে সরিয়ে দেওয়ার মতো কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া গম্ভীর এবার সূর্যকুমারের ক্ষেত্রে ভিন্ন অবস্থান নেওয়ায় আলোচনা আরও বেড়েছে।
ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের একাংশ অবশ্য দুই বছরের জন্য সূর্যকে দীর্ঘমেয়াদি অধিনায়ক হিসেবে নিশ্চিত করার পক্ষে নয়।
সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানাচ্ছে, গম্ভীরের প্রথম দাবি (চুক্তি বাড়ানো) মানার সম্ভাবনা থাকলেও দ্বিতীয় দাবি (দীর্ঘমেয়াদি অধিনায়কত্ব) এখনই গ্রহণ নাও করতে পারে বিসিসিআই। আপাতত সূর্যকুমারকে সিরিজ ধরে ধরে নেতৃত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
বোর্ডের এক কর্মকর্তা বলেন,
“এখন সূর্য টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক। তবে সে আগে ব্যাটার। ব্যাটার হিসেবে তাকে পারফর্ম করতে হবে। ধারাবাহিকতা দেখাতে হবে। আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ড সফরে সে অধিনায়ক থাকবে। এরপর আমরা পরিস্থিতি দেখে সিদ্ধান্ত নেব। ২০২৮ পর্যন্ত অধিনায়কত্ব নির্ভর করবে পারফরম্যান্সের ওপর।”