এনবিএস ওয়েবডেস্ক প্রকাশিত: ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ০৬:০৪ পিএম

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফা শান্তি আলোচনার আগে মধ্যপ্রাচ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদার করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। যুদ্ধ পরিস্থিতি থামানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে তিনি চার দিনের সফরে সৌদি আরব, কাতার এবং তুরস্কের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।
বুধবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এই সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরব ও কাতার সফর মূলত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ঘিরে হবে। অন্যদিকে তুরস্কে অবস্থানকালে তিনি অংশ নেবেন গুরুত্বপূর্ণ আন্তালিয়া ডিপ্লোমেসি ফোরামে।
এছাড়া পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ফোরামের ফাঁকে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানসহ বিভিন্ন বিশ্বনেতার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন শেহবাজ শরিফ।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার পর থেকেই পুরো মধ্যপ্রাচ্য উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে। ওই হামলার পর যুদ্ধ থামানোর লক্ষ্যে গত সপ্তাহে ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কয়েক দশকের মধ্যে প্রথম সরাসরি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
তবে সেই আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়। এরপর পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।
এদিকে মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, চলতি সপ্তাহে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে আবারও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা শুরু হতে পারে।
তবে এখনো দুই দেশের মধ্যে কার্যকর যুদ্ধবিরতি থাকলেও পরিস্থিতি বেশ নাজুক। যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধের মধ্যেও এই ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি আগামী সপ্তাহ পর্যন্ত বহাল রয়েছে।
বুধবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় আরও জানায়, এই সফরে শেহবাজ শরিফের সঙ্গে থাকবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশহাক দারসহ দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তারা। উল্লেখযোগ্যভাবে, ইশহাক দার যুক্তরাষ্ট্র–ইরান আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী হিসেবেও কাজ করছেন।
এদিকে পাকিস্তান ও সৌদি আরবের সম্পর্ককে ‘ঘনিষ্ঠ ও কৌশলগত’ হিসেবে দেখা হয়। বুধবার পাকিস্তানের অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে সৌদি আরব পাকিস্তানকে ৩০০ কোটি ডলারের সহায়তা দেবে।
এর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে বড় অঙ্কের ঋণ ফেরতের ঘোষণার কয়েকদিন পরই রিয়াদের এই সহায়তা এলো।
এছাড়া অর্থ মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, সৌদি আরবের দেওয়া ৫০০ কোটি ডলারের আমানতের মেয়াদও অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানো হবে।