এনবিএস ওয়েবডেস্ক প্রকাশিত: ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ০৬:০৪ পিএম

ক্রিকেট একসময় রাজনীতি থেকে দূরে থাকা এক শান্ত আশ্রয় হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু এখন সেই চিত্র বদলে গেছে বলে দাবি করেছে উইজডেন ক্রিকেটার্স অ্যালম্যানাক। ২০২৬ সালের ১৬৩তম সংস্করণে বিশ্ব ক্রিকেটের শাসনব্যবস্থা এবং ভারতীয় রাজনীতির প্রভাব নিয়ে করা হয়েছে তীব্র সমালোচনা।
উইজডেনের সম্পাদক লরেন্স বুথ তার ‘নোটস বাই দ্য এডিটর’ অংশে লিখেছেন, “ক্রিকেট এখন বিজেপির ভূ-রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে।”
তিনি ২০২৫ সালের এশিয়া কাপের ঘটনাগুলো উল্লেখ করে বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত ওই টুর্নামেন্টটি কার্যত এক ধরনের বিতর্কিত পরিস্থিতিতে পরিণত হয়েছিল। পেহেলগাম হত্যাকাণ্ডের পর ‘অপারেশন সিন্দুর’ ইস্যু ঘিরে ভারত–পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছালে মাঠের ক্রিকেটও সেই রাজনৈতিক উত্তাপ থেকে দূরে থাকতে পারেনি।
ভারত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসিন নাকভির কাছ থেকে ট্রফি নিতে অস্বীকার করা এবং কিছু খেলোয়াড়ের উস্কানিমূলক অঙ্গভঙ্গিকে ক্রিকেটের চেতনার পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেন তিনি।
প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) এখন ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল বিজেপির ক্রীড়া শাখার মতো কাজ করছে।
লরেন্স বুথ লেখেন, “এই সম্পর্ক আরও স্পষ্ট হয় যখন ভারত অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব এশিয়া কাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে জয়কে সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি উৎসর্গ করেন। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট এখন সরাসরি রাজনৈতিক সংঘাতের এক ধরনের বিকল্প মঞ্চে পরিণত হয়েছে।”
উইজডেন সম্পাদক আরও উল্লেখ করেন, কলকাতা নাইট রাইডার্স থেকে বাংলাদেশের পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তও পুরোপুরি ক্রীড়া-ভিত্তিক ছিল না, এর পেছনে রাজনৈতিক প্রভাব কাজ করেছে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
সবশেষে বুথ আক্ষেপ করে বলেন, বিশ্ব ক্রিকেটের শাসনব্যবস্থা দিন দিন আরও নিয়ন্ত্রিত ও একপেশে হয়ে উঠছে, আর ভারতের বাড়তে থাকা প্রভাব ক্রিকেটের স্বাভাবিক ভারসাম্যের জন্য ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়াচ্ছে।