এনবিএস ওয়েবডেস্ক প্রকাশিত: ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ০৩:০৪ পিএম

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রাম আবারও ভারতীয় ক্রিকেট তারকা বিরাট কোহলিকে নিয়ে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে। ইনফ্লুয়েন্সারদের ছবিতে তার ‘লাইক’ বা ‘লাভ রিঅ্যাক্ট’ দেওয়া নিয়ে নতুন করে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা।
এর আগে অভিনেত্রী অভনীত কৌর-এর একটি পোস্টে কোহলির লাইক নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার আবার একই ধরনের ঘটনা সামনে এসেছে।
এবার বিতর্কের কেন্দ্র জার্মান ইনফ্লুয়েন্সার লিজল্যাজ-এর একটি ছবি। সেই ছবিতে বিরাট কোহলির ‘লাভ রিঅ্যাক্ট’ দেখা গেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে এটি তিনি ভুল করে দিয়েছেন নাকি ইনস্টাগ্রামের অ্যালগরিদমের কোনো ত্রুটি—তা এখনও নিশ্চিত নয়।
একটি স্ক্রিনশট বৃহস্পতিবার রাত থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। সেখানে দেখা যায়, লিজল্যাজের একটি ছবিতে ৩৭ হাজারেরও বেশি লাইক পড়েছে এবং সেই তালিকায় কোহলির নামও রয়েছে।
জানা গেছে, ছবিটি ৩০ জানুয়ারি পোস্ট করা হয়েছিল। তবে কোহলি কখন লাইক করেছেন, তা স্পষ্ট নয়। বিষয়টি সামনে আসে মূলত বৃহস্পতিবার।
ছবিতে লিজল্যাজকে নীল রঙের ব্যাকলেস হল্টার মিনি ড্রেসে দেখা যায়, যেখানে বিভিন্ন ভঙ্গিতে পোজ দিয়ে হাস্যোজ্জ্বল অবস্থায় তিনি রয়েছেন। এই ছবিতেই কোহলির ‘লাভ রিঅ্যাক্ট’ দেখে নেটিজেনরা আবারও মিম বানাতে শুরু করেন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় একজন ব্যবহারকারী মজা করে লেখেন, “অভিষেক খুব রেগে যাবে।” আরেকজন বলেন, “কোহলি আবার ইনস্টাগ্রাম অ্যালগরিদমকে দোষ দেবে।” কেউ কেউ আবার লিখেছেন, “আমি হলে এটা মেনে নিতে পারতাম না।”
এদিকে ভারতীয় ক্রিকেটার যুজবেন্দ্র চাহালও এই ঘটনায় মজা করে কমেন্ট করেছেন—“অ্যালগরিদম”।
পুরোনো বিতর্কে কী হয়েছিল?
গত বছরও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল, যখন ভক্তরা লক্ষ্য করেন অভনীত কৌরের একটি পোস্টে কোহলির লাইক দেখা যাচ্ছে। তখন বিরাট কোহলি বিষয়টি ব্যাখ্যা করে ইনস্টাগ্রামের অ্যালগরিদমকেই দায়ী করেছিলেন।
তিনি তখন লিখেছিলেন, ফিড ক্লিয়ার করার সময় সম্ভবত অ্যালগরিদম ভুলবশত ওই ইন্টারঅ্যাকশন রেজিস্টার করেছে এবং এর পেছনে কোনো উদ্দেশ্য ছিল না। পাশাপাশি তিনি অনুরোধ করেন যেন বিষয়টি নিয়ে অপ্রয়োজনীয় অনুমান না করা হয়।
তবে সেই ব্যাখ্যার পরও বিতর্ক পুরোপুরি থামেনি, বরং আরও ছড়িয়ে পড়ে।
কে এই লিজল্যাজ?
লিজল্যাজ একজন জার্মান-দক্ষিণ আফ্রিকান ট্রাভেল ভ্লগার ও গায়িকা, যার আসল নাম জেনিফার। ভারতে তার ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে, বিশেষ করে তার ভাইরাল গান “সমোসা সমোসা”র পর।
তিনি বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতি তুলে ধরেন এবং প্রায়ই ভারতীয় সংগীত ও জীবনধারা নিয়ে কনটেন্ট তৈরি করেন। তার ভিডিওতে তাকে বেঙ্গালুরু, মুম্বাই ও দিল্লিতে স্থানীয়দের সঙ্গে হিন্দি ও আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলতেও দেখা গেছে।
তার ইনস্টাগ্রাম বায়ো অনুযায়ী, তিনি জার্মানিতে বসবাস করেন এবং মনোবিজ্ঞানে মাস্টার্স ডিগ্রিধারী। জার্মান, ইংরেজি ও ডাচ ভাষায় তিনি সাবলীল।