ঢাকা, শুক্রবার, এপ্রিল ১৭, ২০২৬ | ৪ বৈশাখ ১৪৩৩
Logo
logo

নিউজিল্যান্ড–কানাডা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ম্যাচে গড়াপেটা সন্দেহে আইসিসির দুই দফা তদন্ত শুরু


এনবিএস ওয়েবডেস্ক   প্রকাশিত:  ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ০৩:০৪ পিএম

নিউজিল্যান্ড–কানাডা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ম্যাচে গড়াপেটা সন্দেহে আইসিসির দুই দফা তদন্ত শুরু

চলতি বছরের শুরুতে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ ঘিরে বড় ধরনের বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নিউজিল্যান্ড ও কানাডার মধ্যকার একটি ম্যাচকে কেন্দ্র করে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের সন্দেহ উঠেছে, আর সেই ঘটনাতেই তদন্ত শুরু করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)।

আইসিসির দুর্নীতি দমন ইউনিট বর্তমানে ক্রিকেট কানাডাকে ঘিরে একাধিক অভিযোগ খতিয়ে দেখছে। জানা গেছে, দুইটি আলাদা তদন্ত চলছে—যেখানে আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া পর্যায়ে আইসিসির অ্যান্টি-করাপশন নিয়ম ভাঙার অভিযোগও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগগুলো সামনে আসে “দুর্নীতি, অপরাধ ও ক্রিকেট” শিরোনামের একটি প্রামাণ্যচিত্রে। দ্য ফিফথ এস্টেট–এর প্রযোজনায় নির্মিত ৪৩ মিনিটের এই ডকুমেন্টারি শুক্রবার কানাডার রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিবিসিতে প্রচারিত হয়। এতে ক্রিকেট কানাডার প্রশাসন ও পরিচালনা নিয়ে গুরুতর অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়েছে।

প্রামাণ্যচিত্রে বিশেষভাবে সন্দেহের কেন্দ্রবিন্দুতে আনা হয়েছে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে কানাডার অধিনায়ক দিলপ্রীত বাজওয়ার একটি ওভারকে। ওই ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের ইনিংসের পঞ্চম ওভারে তিনি ১৫ রান দেন। ওভারটি শুরু হয় একটি নো-বল দিয়ে এবং পরে লেগ সাইডে একটি ওয়াইডও দেন তিনি।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, টুর্নামেন্ট শুরুর মাত্র তিন সপ্তাহ আগে ২২ বছর বয়সী বাজওয়াকে অধিনায়ক করা হয়েছিল।

ম্যাচে কানাডার বোলিং আক্রমণ শুরুতে পেসারদের দিয়ে করা হলেও জাসকারান সিং এবং ডিলন হেইলিগার যথাক্রমে ১৫ ও ১৪ রান খরচ করেন। পরে স্পিনার সাদ বিন জাফর একটি উইকেট মেডেন ওভার করেন। এরপর হেইলিগার আরও একটি উইকেট নেন। তারপরই আসে বিতর্কিত সেই ওভারটি।

অন্যদিকে, দ্বিতীয় তদন্তটি একটি ফাঁস হওয়া ফোনালাপকে কেন্দ্র করে। সেখানে তৎকালীন কোচ খুররম চৌহান অভিযোগ করেন, ক্রিকেট কানাডার সাবেক বোর্ড সদস্যরা তাকে জাতীয় দলে নির্দিষ্ট খেলোয়াড় নিতে চাপ দিয়েছিলেন। ওই অডিওতে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের ইঙ্গিতও পাওয়া যায়, যদিও তা প্রমাণ করা কঠিন বলে জানা গেছে।

আইসিসির ইন্টেগ্রিটি ইউনিটের ভারপ্রাপ্ত মহাব্যবস্থাপক অ্যান্ড্রু এফগ্রেভ বলেন, তারা এই প্রামাণ্যচিত্র সম্পর্কে অবগত, তবে নীতিমালার কারণে বিস্তারিত মন্তব্য করা সম্ভব নয়। তিনি জানান, বিশ্বাসযোগ্য অভিযোগ পেলেই আইসিসি তদন্ত শুরু করে।

প্রামাণ্যচিত্রে সাবেক কোচ পুবুদু দাসানায়েকে–ও দল নির্বাচনে চাপ প্রয়োগের অভিযোগ তোলেন। তার দাবি, ২০২৪ বিশ্বকাপের দল নির্বাচনে তাকে নির্দিষ্ট খেলোয়াড় রাখতে বাধ্য করার চেষ্টা করা হয়েছিল।

গত এক বছরে ক্রিকেট কানাডা প্রশাসনিক সংকটের মধ্য দিয়ে গেছে। সাবেক সিইও সালমান খান–এর নিয়োগ ও অপসারণ ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়। তার বিরুদ্ধে পূর্বের অপরাধমূলক অভিযোগ গোপন রাখার অভিযোগও উঠে আসে। পরে ক্যালগেরি পুলিশ তাকে চুরি ও প্রতারণার মামলায় অভিযুক্ত করে, যদিও তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। বর্তমানে আরভিন্দর খোসা বোর্ডের নতুন সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

এছাড়া, ২০২৪ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রাইজমানি পেতেও কানাডার ক্রিকেটারদের দেরি হয়। অভিযোগ আছে, ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত খেলোয়াড়দের সঙ্গে কোনো স্থায়ী চুক্তি ছিল না এবং বিশ্বকাপের আগে কয়েক মাস তাদের কম পারিশ্রমিকে খেলতে বাধ্য করা হয়।

প্রামাণ্যচিত্রে আরও দাবি করা হয়, সংগঠিত অপরাধচক্রের সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিতও রয়েছে। এক সাবেক খেলোয়াড় হুমকি পাওয়ার অভিযোগ করেন। তবে আইসিসি জানিয়েছে, এসব বিষয় অনেক ক্ষেত্রে তাদের এখতিয়ারের বাইরে এবং তা সংশ্লিষ্ট দেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার বিষয়।