ঢাকা, বুধবার, এপ্রিল ২২, ২০২৬ | ৯ বৈশাখ ১৪৩৩
Logo
logo

হরমুজ নিয়ে নাটকীয় মোড়! ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির আসল শর্ত ফাঁস


এনবিএস ওয়েবডেস্ক   প্রকাশিত:  ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ০২:০৪ পিএম

হরমুজ নিয়ে নাটকীয় মোড়! ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির আসল শর্ত ফাঁস

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই পরিস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতির শর্ত আবারও সামনে এসেছে।

গত ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুই সপ্তাহের একটি শর্তসাপেক্ষ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। এই চুক্তির মেয়াদ আজ বুধবার সন্ধ্যায় (যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময়) শেষ হওয়ার কথা ছিল।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেন, এই চুক্তির অন্যতম প্রধান শর্ত ছিল ইরানকে হরমুজ প্রণালী আবার খুলে দিতে হবে। পারস্য উপসাগর থেকে তেল ও অন্যান্য পণ্য রপ্তানির জন্য এই জলপথ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চুক্তির অংশ হিসেবে ইরান দুই সপ্তাহের জন্য সামরিক নিয়ন্ত্রণে রেখে এই পথে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিতে রাজি হয়েছিল।

শান্তি আলোচনার অংশ হিসেবে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের প্রতিনিধিদল সম্প্রতি পাকিস্তানের ইসলামাবাদে বৈঠকে বসেন। তবে দীর্ঘ আলোচনার পরও কোনো সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি, ফলে তিনি কোনো চুক্তি ছাড়াই ওয়াশিংটনে ফিরে যান।

চূড়ান্ত শান্তিচুক্তিতে ব্যর্থ হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর নৌ-অবরোধ আরোপ করে। পাশাপাশি নতুন নিষেধাজ্ঞার হুঁশিয়ারি দিয়ে অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ানো হয়।

এদিকে মূল সংঘাতের পাশাপাশি ইসরায়েল ও লেবানন সীমান্তেও একটি পৃথক যুদ্ধবিরতি কার্যকর ছিল। ১৯৯৩ সালের পর প্রথমবারের মতো সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে গত ১৬ এপ্রিল ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, লেবাননের যুদ্ধবিরতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে হরমুজ প্রণালীকে পুরোপুরি উন্মুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ প্রত্যাহার না করায় পরদিনই তেহরান আবার এই জলপথ বন্ধ করে দেয়।

চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ইসরায়েল যেকোনো সময় পরিকল্পিত বা চলমান হামলার বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার অধিকার রাখে—অর্থাৎ প্রয়োজন হলে তারা পাল্টা ব্যবস্থা নিতে পারবে।

এছাড়া চুক্তিতে আরও বলা হয়েছে, হিজবুল্লাহসহ যেকোনো সশস্ত্র গোষ্ঠী যেন ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করতে না পারে, সে জন্য লেবানন সরকারকে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।