ঢাকা, মঙ্গলবার, এপ্রিল ২৮, ২০২৬ | ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩
Logo
logo

ট্রাম্পের শান্তি পুরস্কার নিয়ে ফিফায় বিস্ফোরক বিতর্ক! পদক বাতিলের দাবি, তোলপাড় বিশ্ব ফুটবল


এনবিএস ওয়েবডেস্ক   প্রকাশিত:  ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ০৪:০৪ পিএম

ট্রাম্পের শান্তি পুরস্কার নিয়ে ফিফায় বিস্ফোরক বিতর্ক! পদক বাতিলের দাবি, তোলপাড় বিশ্ব ফুটবল

২০২৫ সালের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত ফুটবল বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠান ঘিরে তৈরি হয় ব্যাপক আলোচনার ঝড়। ওই অনুষ্ঠানে ২০২৬ বিশ্বকাপের পুরো কাঠামো প্রকাশ করা হয়। সেখানেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ফিফার পক্ষ থেকে ‘পিস প্রাইজ’ বা শান্তি পুরস্কার দেওয়া হলে শুরু হয় তীব্র সমালোচনা।

এই সিদ্ধান্ত নিয়ে বিদ্রুপের মুখে পড়েন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয় যে, সেই শান্তি পুরস্কার বাতিলের দাবি তুলেছে নরওয়ে ফুটবল ফেডারেশন (NFF)।

কথিত রয়েছে, ফিফা সভাপতির সঙ্গে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণেই এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। এর আগে নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার ব্যাপারে আগ্রহী ছিলেন ট্রাম্প, তবে শেষ পর্যন্ত তিনি সেই স্বপ্ন পূরণ করতে পারেননি। ফলে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—ফিফার দেওয়া এই পুরস্কার কি তার জন্য এক ধরনের “সান্ত্বনা” ছিল?

এদিকে অস্ট্রেলিয়ার মিডফিল্ডার জ্যাকসন আরভিনও ফিফার এই সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছেন। রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এই পদক্ষেপ ফিফার মানবাধিকার নীতির সঙ্গে সরাসরি বিরোধ তৈরি করছে।

আরভিন বলেন, “এই ধরনের সিদ্ধান্ত ফিফার মানবাধিকার সনদের প্রচেষ্টাকে উপহাসে পরিণত করে। তারা ফুটবলকে ইতিবাচক পরিবর্তনের শক্তি হিসেবে তুলে ধরতে চায়, কিন্তু এমন সিদ্ধান্ত সেই লক্ষ্যকে পিছিয়ে দিচ্ছে। এতে ফুটবলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং ফিফা তৃণমূল থেকে দূরে সরে যাচ্ছে।”

অন্যদিকে নরওয়ে ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি লিসে ক্লাভেনেস জানিয়েছেন, ফুটবলের সঙ্গে সম্পর্কহীন এই ধরনের পুরস্কার বন্ধ করতে তারা ফিফাকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দেবেন।

তিনি বলেন, “আমরা চাই এই পুরস্কার বাতিল করা হোক। এটি ফিফার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে বলে আমরা মনে করি না। এ ধরনের বিষয় নোবেল ইনস্টিটিউটের মতো স্বাধীন সংস্থার কাজ। ওয়াশিংটনের ড্র অনুষ্ঠানে দেওয়া এই পুরস্কার ফিফার রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার নীতিকে লঙ্ঘন করেছে। পাশাপাশি যথাযথ আইনি প্রক্রিয়াও অনুসরণ করা হয়নি।”

এছাড়া বিশ্বকাপ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন সংস্থা আইসিই (ICE) যেন ম্যাচগুলোকে লক্ষ্যবস্তু না বানায়—এ বিষয়ে নিশ্চয়তা চেয়ে ফিফার ওপর চাপ সৃষ্টি করার পরিকল্পনাও করছে নরওয়ে।

লিসে ক্লাভেনেস আরও বলেন, “আমরা ফিফা নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করতে চাই। স্টেডিয়ামগুলোতে নিরাপত্তা ও আইসিইর কার্যক্রম কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে, সেটি জানতে চাইব। আমাদের লক্ষ্য—সবাই যেন নিরাপদে বিশ্বকাপে অংশ নিতে পারে। বিশ্বকাপ হওয়া উচিত সম্পূর্ণ অন্তর্ভুক্তিমূলক ও নিরাপদ।”

এছাড়া ‘ফেয়ারস্কয়ার’ নামের একটি প্রচারগোষ্ঠীর ফিফার নৈতিকতা কমিটিতে দাখিল করা অভিযোগকেও সমর্থন জানাবে নরওয়ে ফুটবল ফেডারেশন।

উল্লেখ্য, ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো গত ডিসেম্বরে ২০২৬ বিশ্বকাপ ড্র অনুষ্ঠানে প্রথমবারের মতো এই শান্তি পুরস্কার ট্রাম্পের হাতে তুলে দেন। ধারণা করা হচ্ছে, ৩০ এপ্রিল ভ্যাঙ্কুভারে শুরু হতে যাওয়া ফিফা কংগ্রেসেও এই বিতর্ক বড় ইস্যু হয়ে উঠবে।