এনবিএস ওয়েবডেস্ক প্রকাশিত: ২৯ এপ্রিল, ২০২৬, ০২:০৪ পিএম

বলকান অঞ্চলের ছোট কিন্তু কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ দেশ মন্টেনিগ্রো। দীর্ঘ ১৪ বছর অপেক্ষার পর এই দেশটি এখন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দরজার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। ২০২৮ সালের মধ্যে ইইউ সদস্যপদ পাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে তারা। ধারাবাহিক সংস্কারের মাধ্যমে মন্টেনিগ্রো এখন সদস্যপদের দ্বারপ্রান্তে।
সাম্প্রতিক অগ্রগতির অংশ হিসেবে গত ২২ এপ্রিল ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলোর প্রতিনিধিরা মন্টেনিগ্রোর সদস্যপদ প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে কারিগরি পর্যায়ের একটি কর্মগোষ্ঠী গঠনে রাজি হয়েছেন। এই সিদ্ধান্তকে ভবিষ্যৎ যোগদান আলোচনার এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
ইউরোপীয় কমিশন জানিয়েছে, পূর্ণ সদস্যপদ পেতে হলে মন্টেনিগ্রোকে আইনের শাসন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, দুর্নীতি দমন এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতার মতো বিষয়গুলোতে আরও অগ্রগতি করতে হবে।
এখন প্রশ্ন হলো, বাংলাদেশের জন্য এর লাভ কী? বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অগ্রগতি প্রত্যক্ষ না হলেও বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এর পরোক্ষ প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে ইউরোপীয় বাজারে তৈরি পোশাকের চাহিদা ও শ্রমবাজারের গতিশীলতায় নতুন সুযোগ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ফ্রান্স বাংলাদেশ জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের (এফবিজেএ) সমন্বয়ক এবং মানবাধিকার কর্মী মাহবুব হোসাইন বলেন, ‘ইউরোপীয় ইউনিয়ন সম্প্রসারণ উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য পরোক্ষভাবে নতুন বাণিজ্য ও শ্রমবাজারের সুযোগ তৈরি করে। বাংলাদেশের পোশাক খাত ও দক্ষ শ্রমিকদের জন্য ইউরোপীয় বাজারে সম্ভাবনা বাড়তে পারে, তবে এটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া।’
আবার বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফরাসি নাগরিক ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ফ্রান্স টোয়েন্টিফোর-এর অভিবাসন বিষয়ক সাংবাদিক মোহাম্মদ আরিফ উল্লাহ বলেন, ‘মন্টেনিগ্রোর ইইউ সদস্যপদ ইউরোপীয় শ্রমবাজারে কাঠামোগত পরিবর্তন আনতে পারে। এর ফলে বাংলাদেশি দক্ষ শ্রমিকদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে, বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা ও সেবা খাতে।’ তবে তিনি মনে করেন, বাংলাদেশের জন্য এটা তাৎক্ষণিক সুযোগ না হলেও ইউরোপীয় শ্রমবাজারের চাহিদা বদলানোর সঙ্গে সঙ্গে ভবিষ্যতে নতুন পথ উন্মুক্ত হতে পারে।
তাহলে দেখা যাচ্ছে, মন্টেনিগ্রোর ইইউ যাত্রা প্রত্যক্ষভাবে ইউরোপের একটি আঞ্চলিক রাজনৈতিক অগ্রগতি হলেও এর প্রভাব ধীরে ধীরে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও শ্রমবাজারে পড়বে। যেখানে বাংলাদেশের অর্থনীতিও কিন্তু বাদ যাবে না।