ঢাকা, বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ৩০, ২০২৬ | ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩
Logo
logo

“নতুন অস্ত্র বদলে দেবে যুদ্ধের হিসাব!” যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলকে ইরানের নৌবাহিনীর কঠোর হুঁশিয়ারি, আতঙ্কের ইঙ্গিত


এনবিএস ওয়েবডেস্ক   প্রকাশিত:  ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ০৪:০৪ পিএম

“নতুন অস্ত্র বদলে দেবে যুদ্ধের হিসাব!” যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলকে ইরানের নৌবাহিনীর কঠোর হুঁশিয়ারি, আতঙ্কের ইঙ্গিত

ইরান খুব শিগগিরই এমন একটি নতুন অস্ত্র প্রকাশ করতে যাচ্ছে, যা দেখে শত্রুপক্ষ ‘হার্ট অ্যাটাক’ পর্যন্ত করতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির নৌবাহিনীর কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহরাম ইরানি।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম প্রেস টিভির প্রতিবেদনে তার এই বক্তব্য প্রকাশ করা হয়।

শাহরাম ইরানি বলেন, শত্রুরা ভুলভাবে ভেবেছিল যে ইরানের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক উসকানিহীন হামলার মাধ্যমে খুব অল্প সময়েই তারা কাঙ্ক্ষিত ফল পেয়ে যাবে। কিন্তু বাস্তবে সেই ধারণা এখন সামরিক মহলেই হাস্যরসের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি আরও দাবি করেন, ওই সময় শত্রুপক্ষের লক্ষ্যবস্তুতে ইরানের নৌবাহিনী পাল্টা হামলা চালিয়েছে। তার ভাষায়, মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ‘আব্রাহাম লিংকন’-এর ওপর অন্তত সাতটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছিল।

এই হামলার কারণে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ওই রণতরী থেকে যুদ্ধবিমান উড্ডয়ন বা আকাশ অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি বলেও তিনি দাবি করেন।

এর আগে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া সংঘাতের পর ইরানের সশস্ত্র বাহিনী পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন স্থানে মার্কিন ও ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে অন্তত ১০০ দফা পাল্টা আঘাত হেনেছে বলে জানানো হয়।

শাহরাম ইরানি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের সামরিক অভিযানে নৌ ইউনিটভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম থেকে ইরানের ভূখণ্ডে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল। পরে আরও প্ল্যাটফর্ম যুক্ত করতে গিয়ে অতিরিক্ত ডেস্ট্রয়ার মোতায়েন করলেও কাঙ্ক্ষিত ফল পায়নি এবং পরিস্থিতি অচলাবস্থায় রয়ে গেছে।

তিনি আরও জানান, পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে শত্রু ও তাদের মিত্রদের জাহাজ চলাচলের জন্য সীমিত করেছে। পরে সেখানে আরও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়, যেখানে জাহাজ চলাচল এখন ইরানি কর্তৃপক্ষের অনুমতির ওপর নির্ভরশীল।

যুক্তরাষ্ট্র ইরানি জাহাজ ও বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেওয়ার পরই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয় বলে তিনি দাবি করেন।

শাহরাম ইরানি আরও বলেন, আরব সাগরের দিক থেকেও হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করা হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, “তারা যদি আরও কাছাকাছি আসে, আমরা কোনো বিলম্ব ছাড়াই প্রয়োজনীয় অপারেশনাল পদক্ষেপ নেব।”

তিনি জানান, কিছু ইরানি জাহাজ ইতিমধ্যে বন্দর ছেড়েছে এবং কিছু নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছেছে।

এছাড়া, কিছু ইরানি জাহাজকে অবৈধভাবে জব্দ করার জন্য মার্কিন বাহিনীর কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করেন তিনি। এসব ঘটনাকে তিনি ‘জলদস্যুতা’ এবং ‘জিম্মি করার’ মতো অপরাধ বলে উল্লেখ করেন।

তার ভাষায়, এসব ঘটনায় শুধু জাহাজের নাবিক নয়, তাদের পরিবারের সদস্যরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তিনি বলেন, মানবিক দিক থেকেও এসব কর্মকাণ্ড সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।

সবশেষে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী দেশের শহীদদের প্রতিশোধ নিতে ‘রক্তের শেষ বিন্দু পর্যন্ত’ প্রস্তুত। তার ভাষায়, “আমরা এমন আঘাত হানব, যা শত্রুপক্ষকে গভীর অনুশোচনায় ফেলবে।”