এনবিএস ওয়েবডেস্ক প্রকাশিত: ০৪ মে, ২০২৬, ০৫:০৫ পিএম

দক্ষিণ লেবাননের আকাশে যুদ্ধের চিত্র যেন বদলে দিচ্ছে হিজবুল্লাহ। ইরান-সমর্থিত এই গোষ্ঠী এখন ব্যবহার করছে ফাইবার-অপটিক ড্রোন— যা ইসরায়েলের আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকেও ঘাম ছোটাতে বাধ্য করছে।
সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, এই ড্রোনগুলো এতটাই নিখুঁত যে এক ইসরায়েলি ট্যাংকের পাশে দাঁড়ানো সেনাদের ওপর পর্যন্ত হামলা চালাতে পারে তারা। সেদিনের ভিডিওতে দেখা যায়, একটি কোয়াডকপ্টার ড্রোন বাড়ির ছাদ ঘেঁষে, ধ্বংসস্তূপ ফাঁক করে একদম কৌশলে এগিয়ে যাচ্ছে। আর উপরে লেখা ‘বোম্ব রেডি’।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ড্রোনগুলোর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো— এগুলো ইলেকট্রনিক জ্যামিং থেকে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত। কারণ সাধারণ ড্রোন যেমন ওয়্যারলেস সংকেত দিয়ে চলে, এগুলো আবার সরাসরি ফাইবার-অপটিক কেবলের মাধ্যমে অপারেটরের সঙ্গে সংযুক্ত থাকে।
ইসরায়েলের ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজের গবেষক ইয়েহোশুয়া কালিস্কি বলছেন, “এসব ড্রোনের কোনো ইলেকট্রনিক সিগনেচার নেই। ফলে কোথা থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়েছে, সেটা শনাক্ত করা প্রায় অসম্ভব।”
হিজবুল্লাহর প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েক কেজি ওজনের একটি ড্রোন এমনভাবে হামলা চালায় যে ইসরায়েলি সেনারা বুঝতেই পারেনি। ওই হামলায় ১৯ বছর বয়সী সার্জেন্ট ইদান ফুকস নিহত হন। আহত হন আরও কয়েকজন। আরও জটিল বিষয় হলো— আহতদের সরাতে আসা উদ্ধার হেলিকপ্টারেও হামলা চালায় হিজবুল্লাহ।
এই ড্রোনগুলোর তার এতটাই পাতলা ও হালকা যে খালি চোখে দেখা যায় না। এটি প্রায় ১৫ কিলোমিটার বা তার বেশি দূর পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে। ফলে অপারেটর নিরাপদ দূরত্বে থেকেও স্পষ্টভাবে লক্ষ্য দেখতে পান।
একাধিক ড্রোন একসঙ্গে হামলা চালালে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, হিজবুল্লাহ দ্রুত শিখছে এবং সমন্বিত হামলার চেষ্টা করছে।
সাধারণ ড্রোন জ্যাম করে থামানো গেলেও ফাইবার-অপটিক ড্রোনে কোনো সংকেত না থাকায় তা জ্যাম করা যায় না। ইসরায়েলি সামরিক সূত্র বলছে, জাল বা অন্য শারীরিক বাধা ছাড়া এ ধরনের ড্রোন ঠেকানোর উপায় খুব কম। এটি মূলত অসম যুদ্ধের জন্য তৈরি এক নিম্নপ্রযুক্তির অথবা মারাত্মক কার্যকর অস্ত্র।