ঢাকা, মঙ্গলবার, মে ৫, ২০২৬ | ২২ বৈশাখ ১৪৩৩
Logo
logo

সতর্কবার্তা ট্রাম্পের! ইরানকে ‘ধুলিসাৎ’ করার হুমকি, শুরু ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’


এনবিএস ওয়েবডেস্ক   প্রকাশিত:  ০৫ মে, ২০২৬, ০৪:০৫ পিএম

সতর্কবার্তা ট্রাম্পের! ইরানকে ‘ধুলিসাৎ’ করার হুমকি, শুরু ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’

ভূমিকা: হরমুজ প্রণালি নিয়ে আমেরিকা-ইরানের টানাপোড়েন চরমে। এবার সরাসরি হুমকি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বললেন, ইরান যদি আমেরিকার জাহাজে হামলা চালায়, তাহলে গোটা দেশটাই ‘মাটি হয়ে যাবে’।

হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যে উত্তেজনা চলছিল, তা যেন যুদ্ধের পথে পৌঁছে গেল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এক সাক্ষাৎকারে ইরানকে সরাসরি ‘পৃথিবীর বুক থেকে মুছে ফেলার’ হুমকি দিয়েছেন।

ফক্স নিউজকে দেয়া ওই সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছেন, “আমাদের হাতে আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী অস্ত্র আছে। সারা বিশ্বে আমাদের সামরিক ঘাঁটি ভরপুর। দরকার পড়লে এসব ব্যবহার করতে আমরা পিছপা হব না।”

তিনি আরও বলেন, ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের কোনো জাহাজে আঘাত হানে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে এমন কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে যে দেশটির অস্তিত্বই বিপন্ন হয়ে যাবে।

এরই মধ্যে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে একটি বিশেষ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে মার্কিন সেনাবাহিনী। সোমবার থেকে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে, যার মূল লক্ষ্য—ইরানের সম্ভাব্য অবরোধ উপেক্ষা করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে আমেরিকার জাহাজগুলো নিরাপদে পার করে দেয়া।

গত সোমবার ইরান সংযুক্ত আরব আমিরাতে হামলা চালানোর পর পুরো অঞ্চলে নতুন করে সংঘাতের সূত্রপাত হয়। ট্রাম্প দাবি করেছেন, জবাবে মার্কিন বাহিনী হরমুজের কাছে ইরানের সাতটি ছোট নৌকা ডুবিয়ে দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র আরও জানিয়েছে, তারা দুটি মার্কিন বাণিজ্যিক জাহাজকে ওই প্রণালি পার করতে সাহায্য করেছে। তবে জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইটগুলোর তথ্য বলছে, এখনো অধিকাংশ জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার জানিয়েছেন, প্রণালির কাছে আটকে পড়া জাহাজগুলো ৮৭টি ভিন্ন দেশের। তিনি এদের ‘নির্দোষ দর্শক’ বলে মন্তব্য করেছেন।

কুপার আরও বলেন, “গত ১২ ঘণ্টায় আমরা কয়েক ডজন জাহাজ ও শিপিং কোম্পানির সঙ্গে কথা বলেছি, যাতে তারা হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলে আগ্রহী হয়। প্রেসিডেন্ট যেভাবে চান জাহাজগুলো নিরাপদে পার করতে—আমরা সেভাবেই কাজ করছি।”

তবে আমেরিকার এই আশ্বাসে জাহাজ মালিকরা কতটা সাড়া দিচ্ছেন, সেটা এখনো পরিষ্কার নয়। আপাতত সবাই চোখ রেখেছে উত্তপ্ত এই প্রণালির দিকে।