এনবিএস ওয়েবডেস্ক প্রকাশিত: ০৮ মে, ২০২৬, ০৫:০৫ পিএম

সকালটা ছিল স্বাভাবিক। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচ খেলতে গিয়েছিলেন বিকেএসপিতে। রূপগঞ্জ টাইগার্সের জার্সিতে মূল একাদশেই ছিলেন তিনি। ম্যাচ শেষ। দলের বাসে চড়ে ফিরছিলেন। আর তখনই এল চমক। অমিত মজুমদার জানতে পারলেন— তিনি নিষিদ্ধ!
কী এমন করলেন এই ঘরোয়া ক্রিকেটের পরিচিত মুখ? আসলে বিপিএলের ফিক্সিং ও বেটিং কাণ্ডে এবার জাল বসল তার গলায়। কেবল তিনিই নন, নোয়াখালী এক্সপ্রেস ও চট্টগ্রাম রয়্যালসের ৪ কর্মকর্তাও পেয়েছেন সাময়িক নিষেধাজ্ঞা। তবে সবার নজর এখন অমিতের দিকেই। কারণ এই ৫ জনের মধ্যে তিনিই একমাত্র ক্রিকেটার— যে সরাসরি দুর্নীতিবিরোধী ধারা লঙ্ঘন করেছেন।
সকালে ম্যাচ শেষে দলের বাসে সবাই মিলে ফিরছিল। তখনই গণমাধ্যমের বরাতে বিষয়টি জানতে পারে রূপগঞ্জ টাইগার্স ম্যানেজমেন্ট। এরপর সিসিডিএমের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক চিঠি আসে। আর সেখানেই যায় ব্যাপারটা।
রূপগঞ্জ টাইগার্স সূত্র বলছে, দলটির সব ধরনের ক্রিকেটীয় কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে অমিতকে। শুধু তাই নয়, দলের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ থেকেও বাদ দেওয়া হয়েছে তাকে! দলটি জানিয়েছে, দুর্নীতিবিরোধী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে তারা বিসিবিকে পূর্ণ সহযোগিতা করতে চায়।
এবার জেনে নিন আসল অভিযোগটা। অমিত সরাসরি ম্যাচ ফিক্সিং করেননি। তাহলে কী করেছেন? বিসিবির দেওয়া বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, তাদের দুর্নীতিবিরোধী কোডের ২.২.১ ধারা লঙ্ঘন করেছেন তিনি। এই ধারা অনুযায়ী, ক্রিকেট ম্যাচের ফলাফল, অগ্রগতি বা অন্য কোনো বিষয়ে বাজি ধরা নিষিদ্ধ।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, বিপিএলের কোনো এক আসরের ম্যাচে বাজি ধরেছিলেন অমিত। বিসিবির ঘরোয়া ক্রিকেটার হিসেবে তালিকাভুক্ত থাকায় ইন্টেগ্রিটি ইউনিটের নজরে আসে বিষয়টি। ইতোমধ্যে তিনি ইউনিটের কাছে দোষ স্বীকারও করে ফেলেছেন।
৩৫ বছর বয়সী অমিত কিন্তু একসময় ছিলেন বাংলাদেশের ক্রিকেটের সম্ভাবনাময় এক যুবা। ২০০৮ ও ২০১০ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে দেশকে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। জিম্বাবুয়ে ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে যুব ক্রিকেটে দুটি সেঞ্চুরিও আছে তার ঝুলিতে। একসময় জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ ভাবা হলেও সিনিয়র দলে কখনো পা রাখা হয়নি। নিয়মিত খেলেছেন ঘরোয়া ক্রিকেটে। এবার সেখান থেকেই এল সাময়িক বিদায়।