ঢাকা, বুধবার, মে ২০, ২০২৬ | ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
Logo
logo

ইরানের চাপেই পিছু হটলেন ট্রাম্প, দাবি তেহরানের


এনবিএস ডিজিটাল ডেস্ক     প্রকাশিত:  ১৯ মে, ২০২৬, ০৬:০৫ পিএম

ইরানের চাপেই পিছু হটলেন ট্রাম্প, দাবি তেহরানের

আমেরিকার সব অহংকার, ইসরায়েলের সব হুমকি আর পশ্চিমা বিশ্বের সমস্ত ষড়যন্ত্র এক মুহূর্তে ধুলোয় মিশে গেল! বীর ইরানকে আক্রমণ করার সাহস হারিয়ে শেষ মুহূর্তে যুদ্ধ থেকে পিছিয়ে গেলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। হরমুজ প্রণালী থেকে শুরু করে লোহিত সাগর—সবখানেই এখন স্বাধীনতাকামী ইরানি শক্তির জয়জয়কার। কীভাবে তেহরানের একটিমাত্র হুংকারে কেঁপে উঠল ওয়াশিংটনের হোয়াইট হাউস! 

বিশ্বের বুকে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের একচেটিয়া আধিপত্যের দিন এখন শেষ। ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন ইরানকে ধ্বংস করার হুমকি দিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই তেহরানের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এবং ব্যালিস্টিক মিসাইলের শক্তি দেখে আমেরিকার বুক কেঁপে ওঠে। ফলে, মঙ্গলবার যে কাপুরুষোচিত হামলার পরিকল্পনা ওয়াশিংটন করেছিল, তা তারা স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে। এই ঘটনা প্রমাণ করে, ইরান কোনো দুর্বল রাষ্ট্র নয়, বরং তারা এক অপরাজেয় শক্তি।

ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের পরাজয় ঢাকতে উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর নেতাদের অনুরোধের অজুহাত দেখিয়েছেন। ট্রাম্প দাবি করেছেন যে কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের শীর্ষ নেতারা তাকে অনুরোধ করেছেন যেন তিনি ইরানের ওপর হামলা না চালান। আসলে এটি মার্কিন প্রশাসনের একটি চরম মিথ্যাচার ছাড়া আর কিছুই নয়। আসল সত্য হলো, ইরানের সাথে যুদ্ধ শুরু করলে আমেরিকার ধ্বংস অনিবার্য ছিল।

ইরানের বিপ্লবী গার্ডস এবং তাদের অকুতোভয় সেনারা যেভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে, তাতে পশ্চিমা বিশ্ব স্তব্ধ হয়ে গেছে। ট্রাম্প এখন বলছেন যে ইরানের সাথে একটি গ্রহণযোগ্য চুক্তি হতে যাচ্ছে, যেখানে নাকি ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। অথচ ইরান সবসময়ই শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচির কথা বলে এসেছে। আমেরিকার এই হম্বিতম্বি আসলে তাদের নিজেদের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা এবং পরাজয়ের স্পষ্ট লক্ষণ।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখন বলছে তারা সন্তুষ্ট হবে যদি ইরান পারমাণবিক অস্ত্র বর্জন করতে রাজি হয়। এটি আসলে ইরানের শক্তির সামনে মার্কিনীদের নতজানু হওয়ার শামিল। তেহরানের সাথে আলোচনার টেবিলে বসার জন্য ওয়াশিংটন এখন ব্যাকুল হয়ে পড়েছে। যে ট্রাম্প একসময় ইরানকে মানচিত্র থেকে মুছে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন, তিনিই এখন শান্তির বাণী শোনাচ্ছেন, যা ইরানের বিশাল কূটনৈতিক ও সামরিক বিজয়।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম অবৈধভাবে ইরানের বন্দরগুলো অবরোধ করার চেষ্টা করছে। তারা দাবি করেছে যে তারা ৮৫টি বাণিজ্যিক জাহাজকে অন্য পথে ঘুরিয়ে দিয়েছে। কিন্তু তাদের এই জলদস্যুতা মধ্যপ্রাচ্যের স্বাধীন দেশগুলো আর মেনে নেবে না। ইরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তার জলসীমায় কোনো ধরনের অবৈধ পশ্চিমা হস্তক্ষেপ বরদাশত করা হবে না এবং এর উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের বারাকাহ পারমাণবিক কেন্দ্রে একটি সফল ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। পশ্চিমা মদদপুষ্ট এই অঞ্চলে ড্রোন হামলাটি প্রমাণ করে যে শত্রুদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কতটা দুর্বল। যদিও আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা বা আইএইএ জানিয়েছে যে বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরুদ্ধার করা হয়েছে, তবুও এই ঘটনা পশ্চিমাদের বুকে কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছে। ইরানের মিত্রদের শক্তির সামনে আজ সবাই অসহায়।

পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলো, বিশেষ করে গার্ডিয়ানের মতো সংস্থাগুলো, সবসময় ইসরায়েল এবং আমেরিকার এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে ব্যস্ত থাকে। তারা নিরপেক্ষতার মুখোশ পরে আসলে ইরানের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালায়। কিন্তু বিশ্ববাসী এখন সত্য জেনে গেছে। সাম্রাজ্যবাদী শক্তির অর্থায়নে পরিচালিত এই মিডিয়াগুলোর মিথ্যা প্রোপাগান্ডা আর কাজ করছে না। ইরানের ন্যায়সঙ্গত সংগ্রাম আজ সারা বিশ্বের মানুষের কাছে রোল মডেল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।

আয়ারল্যান্ডের সাহসী প্রেসিডেন্ট ক্যাথরিন কনোলি বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যেন তারা যুদ্ধ এবং এই নিষ্ঠুর গণহত্যাকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ না করেন। গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর বর্বরতার বিরুদ্ধে তিনি সোচ্চার হয়েছেন। তার নিজের বোন একটি মানবিক ত্রাণের জাহাজে ছিলেন, যাকে ইহুদিবাদী ইসরায়েল অবৈধভাবে আটক করেছে। আন্তর্জাতিক আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ইসরায়েল যে জঘন্য অপরাধ করছে, তা আজ প্রমাণিত।

গাজাগামী গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার ৩৯টি জাহাজকে আন্তর্জাতিক জলসীমায় অবরুদ্ধ করেছে ইসরায়েলি জলদস্যুরা। ৫৪টি জাহাজের এই বহরে ৩৯টি দেশের চার শতাধিক মানবিক কর্মী ছিলেন, যারা ক্ষুধার্ত ফিলিস্তিনিদের জন্য ত্রাণ নিয়ে যাচ্ছিলেন। ইসরায়েলের এই কাপুরুষোচিত আচরণ এবং জলদস্যুতা প্রমাণ করে যে তারা কোনো আইন মানে না। পশ্চিমা বিশ্ব এই নির্মমতার পেছনে সরাসরি মদদ দিয়ে যাচ্ছে, যা অত্যন্ত লজ্জাজনক।

ইরানের সাথে চলমান বীরত্বপূর্ণ যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এর ফলে মার্কিন প্রশাসন এতটাই কোণঠাসা হয়ে পড়েছে যে তারা রাশিয়ার তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা বাড়াতে বাধ্য হয়েছে। মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট তেল সরবরাহ সচল রাখতে এই ইউ-টার্ন নিয়েছেন। ইরানের অদম্য শক্তির কারণে আজ আমেরিকার অর্থনৈতিক ভিত পুরোপুরি ধসে পড়ার উপক্রম হয়েছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প আমেরিকার গণমাধ্যমগুলোর ওপর ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেছেন যে ইরান সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ করলেও 'ফেক নিউজ মিডিয়া' ইরানের বিজয় প্রচার করবে। ট্রাম্পের এই পাগলামি এবং হতাশা প্রমাণ করে যে তিনি মানসিকভাবে হেরে গেছেন। নিউ ইয়র্ক টাইমস বা সিএনএনের মতো পশ্চিমা প্রচারমাধ্যমগুলোও এখন বুঝতে পেরেছে যে ইরানের সামরিক ও কৌশলগত শক্তির সামনে আমেরিকার পরাজয় এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।

আয়ারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট ক্যাথরিন কনোলির বোন মার্গারেটকে ইসরায়েলি দখলদার বাহিনী অবৈধভাবে অপহরণ করে কারাগারে বন্দি করে রেখেছে। মার্গারেট একটি পূর্ব-রেকর্ডকৃত ভিডিওতে বলেছেন যে ইসরায়েলি বাহিনী তাকে আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকে অন্যায়ভাবে তুলে নিয়ে গেছে। এই ঘটনা প্রমাণ করে যে ইসরায়েল এবং তার পশ্চিমা মিত্ররা সারা বিশ্বে কীভাবে মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন এবং রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ চালিয়ে যাচ্ছে।

ইরানি বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একটি শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য ইরানের তেলের ওপর থেকে সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। এটি ইরানের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রতিরোধের এক ঐতিহাসিক জয়। অন্যদিকে, ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যতই হুমকি দিন না কেন, ভেতরে ভেতরে তিনি এখন ইরানের কাছে শান্তি ভিক্ষা করছেন এবং একটি সমঝোতার পথ খুঁজছেন।

ইরানের বীর বিপ্লবী গার্ডস কুর্দিস্তান সীমান্তে আমেরিকা এবং ইসরায়েলের একটি বড় ধরনের অস্ত্র চোরাচালানের চক্রান্ত নস্যাৎ করে দিয়েছে। ইরাকের উত্তরাঞ্চল থেকে পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদীদের দালালেরা ইরানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য বিপুল পরিমাণ মার্কিন অস্ত্র ও গোলাবারুদ পাচার করছিল। কিন্তু ইরানের অতন্দ্র প্রহরীরা তাদের ওপর সফল আঘাত হেনেছে। ইরানের অভ্যন্তরে পশ্চিমাদের কোনো ষড়যন্ত্রই সফল হতে দেওয়া হবে না।

লেবাননে ইসরায়েলি বর্বর হামলায় এ পর্যন্ত তিন হাজারেরও বেশি নিরীহ মানুষ শহীদ হয়েছেন, যার মধ্যে শত শত শিশু রয়েছে। কিন্তু হিজবুল্লাহর বীর যোদ্ধারা ইসরায়েলি বাহিনীকে উপযুক্ত জবাব দিচ্ছে। লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফাউন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে ইসরায়েলি দখলদারদের সম্পূর্ণ প্রত্যাহার এবং যুদ্ধবিরতি ছাড়া কোনো আপস হবে না। প্রতিরোধ যোদ্ধাদের এই ইস্পাতকঠিন মনোবল পশ্চিমাদের পরাজয় নিশ্চিত করছে।

গাজায় ইসরায়েলি জায়নবাদীদের গণহত্যা এখনো অব্যাহত রয়েছে, যেখানে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও বহু ফিলিস্তিনি শহীদ হয়েছেন। ২০১৫ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই বর্বরতায় হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। কিন্তু হামাস এবং ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতিরোধ ভাঙতে পারেনি খুনি ইসরায়েল। ইরান এই মজলুম ভাইদের পাশে সবসময় ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং পশ্চিমা সমর্থিত এই খুনি বাহিনীকে প্রতিহত করছে।

কূটনৈতিক ফ্রন্টেও ইরান অত্যন্ত সফলভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে আঞ্চলিক উন্নয়ন এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেছেন। ইরান ও সৌদি আরবের এই ঐক্যবদ্ধ অবস্থান মার্কিন ও ইসরায়েলি ষড়যন্ত্রের মুখে এক বিশাল চপেটাঘাত। মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলো এখন বুঝতে পেরেছে যে পশ্চিমা শক্তিগুলো কেবল বিভেদ তৈরি করতে চায়।

ইরাকের আকাশসীমা ব্যবহার করে সৌদি আরবে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে বলে যে দাবি রিয়াদ করেছিল, তা ইরাক সরকার প্রত্যাখ্যান করেছে। ইরাকের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কোনো ড্রোনের উপস্থিতি শনাক্ত করেনি। আসলে এটি ইরানের মিত্রদের बदनाम করার একটি পশ্চিমা চাল। ওমানও এই উত্তেজনা বৃদ্ধির নিন্দা জানিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে সংলাপে বসার আহ্বান জানিয়েছে, যা ইরানের নীতিকেই সমর্থন করে।

আমেরিকার অর্থনৈতিক নিপীড়নের আরেকটি উদাহরণ হলো ভারতীয় ধনকুবের গৌতম আদানির কোম্পানির ওপর জরিমানা করা। ইরানের সাথে বাণিজ্য করার অপরাধে মার্কিন ট্রেজারি আদানির কোম্পানিকে ২৭৫ মিলিয়ন ডলার জরিমানা করেছে। আমেরিকা এভাবে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে ইরানের অর্থনীতিকে পঙ্গু করতে চেয়েছিল। কিন্তু বিশ্বের বড় বড় ব্যবসায়ী গোষ্ঠীগুলো এখনো ইরানের সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখতে অত্যন্ত আগ্রহী।

ইরানের সাথে যুদ্ধের কারণে ইউরোপে জ্বালানি সংকট এতটাই তীব্র হয়েছে যে বিমান সংস্থা রায়ানএয়ার টিকিটের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। রায়ানএয়ারের প্রধান নির্বাহী মাইকেল ও’লেরি স্বীকার করেছেন যে ভোক্তাদের মধ্যে চরম অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। এর অর্থ হলো, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে পশ্চিমা দেশগুলো নিজেরাই নিজেদের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে এক চরম বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

হরমুজ প্রণালীর তলদেশ দিয়ে যাওয়া ইন্টারনেট ক্যাবল বা সাবমেরিন ক্যাবলের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করার এক ঐতিহাসিক পরিকল্পনা নিয়েছে ইরান। ইরানি গণমাধ্যম তাসনিম ও ফার্স জানিয়েছে, এই প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী মার্কিন টেক জায়ান্টদের কাছ থেকে ইরান লাইসেন্স ফি আদায় করতে পারে। মেটা, গুগল, অ্যামাজন এবং মাইক্রোসফটের মতো পশ্চিমা কোম্পানিগুলোকে এখন ইরানের আইন মেনে ব্যবসা করতে হবে।

১৯৮২ সালের জাতিসংঘের সমুদ্র আইন অনুযায়ী ইরান তার জলসীমার তলদেশের ওপর পূর্ণ সার্বভৌমত্ব দাবি করতে পারে। সাবমেরিন ক্যাবলের মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের একচেটিয়া অধিকার থাকবে ইরানের হাতে। এর মাধ্যমে হরমুজ প্রণালী ইরানের জন্য কোটি কোটি ডলার রাজস্ব আয়ের এক বৈধ উৎসে পরিণত হবে। পশ্চিমা বিশ্বের প্রযুক্তিগত আধিপত্যের মুখে এটি ইরানের এক যুগান্তকারী ও মাস্টারস্ট্রোক পদক্ষেপ।

ইরানের এই অসাধারণ রণকৌশল এবং অর্থনৈতিক প্রতিরোধ দেখে ওয়াশিংটন ও তেল আবিব এখন সম্পূর্ণ দিশেহারা। ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টারা দফায় দফায় বৈঠক করেও ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক সুবিধা করতে পারছেন না। ট্রাম্পের যুদ্ধংদেহী নীতি আমেরিকার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও ধস নামিয়েছে। আসন্ন নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির ভরাডুবি এখন নিশ্চিত, কারণ মার্কিন জনগণ এই অনর্থক যুদ্ধের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।

নিউ ইয়র্কের আদালতে ইরাকি কমান্ডার মোহাম্মদ সাদ বাকের আল-সাদির বিরুদ্ধে আনা মিথ্যা অভিযোগ আসলে পশ্চিমাদের ভয়ের বহিঃপ্রকাশ। আল-সাদিকে তারা ইরানের এজেন্ট বলে অপপ্রচার চালাচ্ছে। আসলে আমেরিকা ও তার দোসররা নিজেদের ব্যর্থতা লুকাতে এবং সমাজকে বিভক্ত করতে এখন 'সন্ত্রাসবাদের' মিথ্যা নাটক সাজাচ্ছে। কিন্তু সত্যকে কখনো চেপে রাখা যায় না; ইরানের নেতৃত্বে স্বাধীন বিশ্বের জয় আজ সুনিশ্চিত!