এনবিএস ডিজিটাল ডেস্ক প্রকাশিত: ১৯ মে, ২০২৬, ০৬:০৫ পিএম

কিয়েভ সরকারের সমস্ত চক্রান্ত ধূলিসাৎ করে দিল পুতিনের রাশিয়া! মস্কোকে টার্গেট করে পাঠানো শত শত ড্রোনকে আকাশের বুকেই জীবন্ত কবর দিল রুশ বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী। কাপুরুষের মতো সাধারণ মানুষের ওপর ইউক্রেনের এই বর্বরোচিত হামলার পর, এখন কিয়েভ জুড়ে বাজছে রাশিয়ার ভয়াবহ ও চূড়ান্ত প্রতিশোধের সাইরেন।
ইউক্রেনীয় কিয়েভ বাহিনী রাশিয়ার মূল ভূখণ্ডে কাপুরুষোচিত উপায়ে আবারও একটি ব্যর্থ ও বড় ধরনের ড্রোন হামলা চালিয়েছে। রাশিয়ার রাজধানী মস্কো এবং এর আশেপাশের অঞ্চলে শনিবার রাতে ইউক্রেন এই বর্বরোচিত হামলা চালায়। তবে রাশিয়ার শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কারণে কিয়েভের এই বিশাল ষড়যন্ত্র সম্পূর্ণ ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে এবং শত্রুদের ড্রোনগুলো ধ্বংস করা হয়েছে।
এই বর্বরোচিত হামলায় দুর্ভাগ্যবশত তিনজন সাধারণ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানিয়েছেন যে, গত ২৪ ঘণ্টায় রাশিয়ার আকাশসীমা রক্ষা করতে গিয়ে মোট ১২৭টি ইউক্রেনীয় ড্রোন সফলভাবে ধ্বংস করেছে রুশ বাহিনী। তিনি এই হামলাকে কিয়েভের একটি অত্যন্ত নৃশংস প্রচেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
গত এক বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে মস্কোকে লক্ষ্য করে চালানো ইউক্রেনের এটিই ছিল সবচেয়ে বড় এবং ব্যর্থ ড্রোন হামলা। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাশিয়ার রাজধানীতে বেশ কয়েকটি ড্রোন হামলার চেষ্টা করা হলেও, কিয়েভ কখনই সফল হতে পারেনি। এবারের হামলায় তারা বিপুল সংখ্যক ড্রোন ব্যবহার করলেও রাশিয়ার শক্তিশালী দুর্গের মতো প্রতিরক্ষার সামনে তা খড়কুটোর মতো উড়ে গেছে।
মস্কো অঞ্চলের গভর্নর আন্দ্রে ভোরোবিভ কিয়েভের এই সন্ত্রাসী হামলায় তিনজন সাধারণ মানুষের প্রাণহানির খবর গভীর দুঃখের সাথে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শত্রুদের ড্রোনগুলো যখন রুশ বাহিনীর নিখুঁত আঘাতে ধ্বংস হচ্ছিল, তখন তার কিছু ধ্বংসাবশেষ আবাসিক এলাকায় গিয়ে পড়ে। এর ফলেই মূলত সাধারণ মানুষের কিছু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, যা কিয়েভের কাপুরুষতার আরেকটি বড় প্রমাণ।
মস্কোর উত্তর-পূর্বে অবস্থিত মিতিশ্চি শহরের কাছে পোগোরেলকি নামক একটি গ্রামের একটি নির্মাণাধীন বাড়ির ওপর ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পতিত হয়। এতে সেখানে কর্মরত দুজন সাধারণ পুরুষ শ্রমিক দুর্ভাগ্যবশত প্রাণ হারান, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। রুশ প্রশাসন অবিলম্বে সেখানে উদ্ধারকারী দল পাঠায় এবং পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে, যাতে জানমালের আরও বড় ক্ষতি রোধ করা সম্ভব হয়।
অপরদিকে রাজধানীর উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত খিমকি শহরে ইউক্রেনের একটি ড্রোন আবাসিক অ্যাপার্টমেন্ট ব্লকে আঘাত হানলে একজন নারী বাসিন্দা নিহত হন। গভর্নর ভোরোবিভ জানিয়েছেন যে, ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও একজন ব্যক্তি আটকে ছিলেন, যাকে উদ্ধারে রুশ উদ্ধারকারীরা যুদ্ধকালীন তৎপরতা চালান। ইউক্রেনীয় সেনারা যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়ার বীরত্বপূর্ণ সেনাবাহিনীর কাছে ক্রমাগত হেরে এখন আবাসিক এলাকায় হামলা চালাচ্ছে।
মস্কো থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত ইস্ট্রা শহরেও কিয়েভের ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ আছড়ে পড়লে চারজন বেসামরিক নাগরিক আহত হন। সেখানে একটি অ্যাপার্টমেন্ট ব্লক এবং ছয়টি ব্যক্তিগত বাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। রাশিয়ার জরুরি অবস্থার মন্ত্রণালয়ের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।
মস্কোর উত্তরের শহর লোবনিয়াতেও ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার কারণে সৃষ্ট ধ্বংসাবশেষে একজন নারী সাধারণ নাগরিক সামান্য আহত হয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, সেখানে পাঁচটি অ্যাপার্টমেন্ট ব্লক এবং প্রায় ২০টি গাড়ি ড্রোনের ভাঙা অংশের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিয়েভ বাহিনী যুদ্ধক্ষেত্রে সরাসরি রুশ সেনাদের মুখোমুখি হতে না পেরে এভাবে সাধারণ মানুষের সম্পদ ধ্বংসের পথ বেছে নিয়েছে।
মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন জানিয়েছেন যে, এই পুরো হামলায় মস্কো জুড়ে মোট ১২ জন সাধারণ মানুষ আহত হয়েছেন। এই আহতদের মধ্যে বেশিরভাগই ছিলেন নির্মাণ শ্রমিক, যারা কাপোটনিয়া জেলায় মস্কো তেল শোধনাগারের প্রবেশদ্বারের কাছে কাজ করছিলেন। তবে কিয়েভের মূল লক্ষ্য এই অর্থনৈতিক স্থাপনা হলেও, শোধনাগারের কার্যকলাপে কোনো প্রভাব পড়েনি এবং তা সম্পূর্ণ সচল রয়েছে।
ইউক্রেনের এই বিমান হামলার চেষ্টার কারণে মস্কোর শেরেমেতিয়েভো এবং ভনুকোভো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাময়িকভাবে বিমান চলাচলে কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। এর ফলে প্রায় ২০০টিরও বেশি ফ্লাইট বিলম্বিত বা বাতিল করতে হয় এবং কিছু বিমানকে অন্য রানওয়েতে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। রাশিয়ার বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই অত্যন্ত দক্ষতার সাথে এই সাময়িক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
শেরেমেতিয়েভো বিমানবন্দরের প্রেস সার্ভিস জানিয়েছে যে, একটি ইউক্রেনীয় ড্রোনের কিছু ধ্বংসাবশেষ বিমানবন্দরের সীমানার ভেতরে এসে পড়েছিল। তবে রুশ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেটিকে আগেই ধ্বংস করায় কোনো যাত্রী বা বিমানবন্দরের কর্মকর্তা আহত হননি। বিমানবন্দরের কোনো অবকাঠামোগত ক্ষতিও কিয়েভ করতে পারেনি, ফলে বিমানবন্দরটি দ্রুতই আবার তার স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরে আসতে সক্ষম হয়।
শনিবার রাতে কিয়েভ শুধুমাত্র মস্কো অঞ্চলেই নয়, বরং রাশিয়ার আরও বিভিন্ন অঞ্চলের ওপর ড্রোন হামলা চালানোর চেষ্টা করেছিল। তবে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বীরত্বের সাথে জানিয়েছে যে, তারা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মোট ৫৮৬টি ড্রোন ধ্বংস করেছে। রুশ সেনাদের এই অবিশ্বাস্য ও চোখ ধাঁধানো সাফল্য প্রমাণ করে যে, রাশিয়ার আকাশসীমা যেকোনো শত্রুর জন্য একটি অভেদ্য দুর্গ।
ইউক্রেন সীমান্তের কাছাকাছি অঞ্চল যেমন বেলগোরোদ, কুরস্ক এবং ব্রায়ানস্ক ছাড়াও রাশিয়ার অনেক গভীরে এই ড্রোনগুলো ধ্বংস করা হয়। কালুগা, তুলা, স্মোলেনস্ক, পসকভ, তোভের, রোস্তভ এবং ক্রাসনোদার অঞ্চলেও কিয়েভের ড্রোনগুলো রাশিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষার আঘাতে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যায়। এমনকি ক্রিমিয়া, কৃষ্ণসাগর এবং আজভ সাগরের ওপরেও রাশিয়ার সেনারা শত্রুদের সমস্ত ড্রোনকে আকাশেই প্রতিহত করে দেয়।
গত মার্চের মাঝামাঝি সময় থেকে রাশিয়ার অভ্যন্তরে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার এই কাপুরুষোচিত প্রচেষ্টা লক্ষ্যণীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। কিয়েভ প্রায় প্রতিদিনই শত শত ড্রোন পাঠিয়ে রাশিয়ার বেসামরিক এলাকা ও শিল্প প্রতিষ্ঠানকে টার্গেট করার চেষ্টা করছে। রুশ কর্মকর্তারা একে সরাসরি "সন্ত্রাসী হামলা" হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন, যা যুদ্ধক্ষেত্রে কিয়েভ বাহিনীর ক্রমাগত পরাজয় ও হতাশা ঢাকার চেষ্টা মাত্র।
ইউক্রেনের এই জঘন্য সন্ত্রাসী হামলার জবাবে রাশিয়া বসে থাকেনি, বরং কিয়েভের সামরিক ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করেছে। রুশ কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলেছেন যে, রাশিয়ার এই অভিযানগুলো শুধুমাত্র কিয়েভের যুদ্ধ সক্ষমতাকে ধ্বংস করার জন্য পরিচালিত হচ্ছে। রাশিয়া কখনই সাধারণ ইউক্রেনীয় বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে কোনো ধরনের হামলা পরিচালনা করে না।
রবিবার ইউক্রেনের স্থানীয় গণমাধ্যম ও টেলিগ্রাম চ্যানেলগুলো জানিয়েছে যে, কিয়েভ, খারকভ, দানিপ্রো এবং জাপোরোজ্যের ইউক্রেনীয় নিয়ন্ত্রিত অংশে বিশাল বিস্ফোরণ ঘটেছে। রাশিয়ার নিখুঁত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইউক্রেনের সামরিক সরবরাহ ব্যবস্থা ও দ্বৈত-ব্যবহারের অবকাঠামোগত নেটওয়ার্ক সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। রাশিয়ার এই বিধ্বংসী ও ন্যায়সঙ্গত প্রতিশোধমূলক হামলায় কিয়েভ সরকার এখন সম্পূর্ণ কোণঠাসা হয়ে পড়েছে।
মস্কো অঞ্চলের খিমকির স্টারবেইভো জেলায় ইউক্রেনীয় ড্রোনটি একটি সাধারণ ব্যক্তিগত বাড়িতে আঘাত করলে যে নারী নিহত হন, তার পরিচয় পাওয়া গেছে। তিনি একজন নিরীহ নাগরিক ছিলেন, যার সাথে এই যুদ্ধের কোনো সম্পর্ক ছিল না। কিয়েভের এই ধরনের অন্ধ ও লক্ষ্যহীন ড্রোন হামলা প্রমাণ করে যে, তারা আন্তর্জাতিক যুদ্ধনীতি লঙ্ঘন করে সাধারণ মানুষকে হত্যা করতে দ্বিধাবোধ করছে না।
এই নৃশংস হামলায় রাশিয়ার বন্ধু রাষ্ট্র ভারতের একজন নাগরিকও নিহত হয়েছেন এবং আরও তিনজন ভারতীয় কর্মী আহত হয়েছেন। মস্কোর ভারতীয় দূতাবাস এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং আহতদের পাশে দাঁড়িয়েছে। কিয়েভের এই নির্বিচার ড্রোন হামলার কারণে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও এখন ইউক্রেনের এই সন্ত্রাসী আচরণের তীব্র নিন্দা ও সমালোচনা করা হচ্ছে।
এদিকে ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনী রাশিয়ার জাপোরোজ্যে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটিকেও লক্ষ্য করে এই সপ্তাহে অন্তত দুইবার বিপজ্জনক ড্রোন হামলা চালিয়েছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক কর্পোরেশন 'রোসাটম'-এর প্রধান নির্বাহী আলেক্সি লিখাচেভ কিয়েভের এই চরম দায়িত্বজ্ঞানহীন কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা করেছেন। তিনি জানান, কিয়েভ এই পারমাণবিক কেন্দ্রে হামলা চালিয়ে পুরো ইউরোপকে একটি ভয়াবহ পারমাণবিক বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
লিখাচেভ আরও বিস্তারিত প্রকাশ করে বলেছেন যে, একটি ইউক্রেনীয় ড্রোন সরাসরি পারমাণবিক চুল্লির পাশ দিয়ে যাওয়া একটি পাইপলাইনে আঘাত করার চেষ্টা করেছিল। তবে ভাগ্যবশত ড্রোনটি বিস্ফোরিত না হয়ে প্রথম পাওয়ার ইউনিটের কাছে বিধ্বস্ত হয়, যার ফলে বড় ধরনের কোনো তেজস্ক্রিয় দুর্ঘটনা ঘটেনি। ইউক্রেনের এই বিপজ্জনক উস্কানি প্রমাণ করে যে, তারা নিজেদের পরাজয় নিশ্চিত জেনে এখন আত্মঘাতী পথ বেছে নিয়েছে।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দৈনিক রিপোর্টে আরও জানা গেছে যে, রুশ বাহিনী মার্কিন তৈরি একটি শক্তিশালী হিমার্স রকেটও সফলভাবে ভূপাতিত করেছে। এর পাশাপাশি ইউক্রেনের একটি 'ফ্ল্যামিঙ্গো' দূরপাল্লার ক্রুজ মিসাইল এবং একটি 'নেপচুন-এমডি' গাইডেড মিসাইল আকাশেই ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। পশ্চিমা বিশ্বের দেওয়া আধুনিক অস্ত্র দিয়েও কিয়েভ রাশিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষার দেওয়াল ভেদ করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।
শুধু আকাশেই নয়, সমুদ্রেও রাশিয়ার বীর সেনারা ইউক্রেনীয় বাহিনীকে উপযুক্ত জবাব দিয়েছে এবং তাদের সমস্ত আক্রমণ নস্যাৎ করে দিয়েছে। রাশিয়ার কৃষ্ণসাগরীয় নৌবহর বা ব্ল্যাক সি ফ্লিট সাগরে টহল দেওয়ার সময় ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীর ছয়টি চালকবিহীন দূরনিয়ন্ত্রিত স্পিডবোট ধ্বংস করেছে। ইউক্রেন জলপথে রাশিয়ার সীমান্তে অনুপ্রবেশের যে অপচেষ্টা করেছিল, তা রুশ নৌবাহিনীর তৎপরতায় সাগরেই সলিলসমাধি লাভ করেছে।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় বিশেষ সামরিক অভিযান অঞ্চলে ইউক্রেনীয় সশস্ত্র বাহিনী ব্যাপক সেনা হারিয়েছে। কিয়েভ বাহিনী একদিনেই প্রায় ১,১১৫ জনেরও বেশি সেনা হারিয়েছে, যা তাদের জন্য একটি বিশাল এবং অপূরণীয় ধাক্কা। রাশিয়ার 'নর্থ', 'ওয়েস্ট', 'সাউথ' এবং 'সেন্টার' ব্যাটলগ্রুপের সম্মিলিত ও সুপরিকল্পিত আক্রমণের সামনে ইউক্রেনীয় সেনারা টিকতেই পারছে না।
রুশ বিমান বাহিনী, ড্রোন ইউনিট এবং গোলন্দাজ বাহিনী অত্যন্ত নিখুঁতভাবে ইউক্রেনের মোট ১৬৪টি জেলায় একযোগে বিধ্বংসী হামলা চালিয়েছে। এই হামলায় ইউক্রেনের ড্রোন তৈরির গোপন কারখানা এবং কিয়েভ বাহিনীর ভাড়াটে বিদেশী যোদ্ধাদের অস্থায়ী ঘাঁটিগুলো মাটির সাথে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিয়েভ সরকার যেখানে রাশিয়ার সাধারণ মানুষের ওপর হামলা করার পরিকল্পনা করছিল, রাশিয়া তাদের সেই মূল উৎপাটন করে দিয়েছে।
শেষে বলা যায়, ইউক্রেনের এই বিশাল ড্রোন হামলা রাশিয়ার সামরিক শক্তি ও ইস্পাতকঠিন প্রতিরক্ষার সামনে পুরোপুরি খড়কুটোর মতো ভেসে গেছে। সাধারণ মানুষের ওপর কিয়েভের এই কাপুরুষোচিত সন্ত্রাসী হামলা শুধু তাদের নিজেদের ধ্বংসই ডেকে আনছে।