সাবেক রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ আবদুল হামিদ গোপনে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে থাইল্যান্ডে পাড়ি জমান। ৮ মে মধ্যরাতে তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিআইপি টার্মিনালে প্রবেশ করেন। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা যায়, রাত ১২টা ৪৬ মিনিটে তার গাড়ি টার্মিনালে পৌঁছায়। নিরাপত্তা কর্মীদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত কথোপকথনের পর, বিশেষ পরিচয়ে থাকা দুই ব্যক্তি গাড়িটিকে ভেতরে প্রবেশের নির্দেশ দেন।

সাবেক রাষ্ট্রপতিকে হুইলচেয়ারে করে ভেতরে নেওয়া হয়। তার ছেলে ব্যারিস্টার রিয়াদ আহমেদ সঙ্গ দিচ্ছিলেন। তিনি পরে জানান, তার বাবার ডান ফুসফুসে ক্যানসার ধরা পড়েছে এবং শারীরিকভাবে তিনি অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েছেন।

তবে ভিআইপি লাউঞ্জ থেকে সরাসরি গেট-৩৩-এ প্রবেশে অনিয়ম হয়েছে বলে বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে। গেটটি শুধুমাত্র নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য নির্ধারিত। সাধারণ যাত্রীদের বোর্ডিংয়ের আগে নিরাপত্তা স্ক্যান বাধ্যতামূলক হলেও আবদুল হামিদের ক্ষেত্রে তা অনুসরণ করা হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইমিগ্রেশন অফিসার তাহসিনা আরিফ জানান, তিনি এনএসআই ও ডিজিএফআই থেকে মৌখিক অনুমতি নিয়েছেন এবং ‘নো-ফ্লাই’ তালিকায় আবদুল হামিদের নাম ছিল না। এরপরও তাকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপারসহ কয়েকজন কর্মকর্তাকেও প্রত্যাহার বা বরখাস্ত করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, সাবেক রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা রয়েছে, যা জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।

ঘটনার তদন্তে একটি তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী সপ্তাহে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। এই ঘটনার পর নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের শৈথিল্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।


 

news